“বার্ধক্যের নানান জটিলতা “

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৫:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

বার্ধক্য মানবজীবনের অবশ্যম্ভাবী বাস্তবতা। বার্ধক্য শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Superannuation। বার্ধক্য মানবজীবনের সেই অপরিহার্য সময়কাল যখন একজন মানুষের দৈহিক অবক্ষয় ঘটে এবং কর্মক্ষমতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। একজন মানুষ ঠিক কত বছর বয়স অতিক্রান্ত হওয়ার পর বৃদ্ধ হবেন তার কোন বাধাধরা নিয়ম নেই।বার্ধক্যের অবধারিত পরিণতি হল মৃত্যু।বিভিন্ন দেশে বার্ধক্যে পৌছানোর বয়স কে বিভিন্ন ধাপে গণনা করা হয়। সাধারণত কর্মজীবী মানুষ তার কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর গ্রহণের সময় কালকে বার্ধক্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
বার্ধক্য এমন এক অপরিহার্য সময়কাল যখন একজন মানুষের শারীরিক ক্ষমতা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। ফলে সে স্বভাবতই পরনির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শরীরে বাসা বাধে নানা রকম রোগ। দৃষ্টি শক্তি ক্রমশ হ্রাস পায়। স্মৃতিশক্তি লোপ পায়।বলা চলে বার্ধক্য মানুষ কে অনেকটায় শিশু সুলভ আচরণ করতে বাধ্য করে।
একজন মানুষ যখন বার্ধক্যে পৌছায় তখন একাকিত্ব বা নিঃসংগতা তাকে ঘিরে ধরে। চারপাশের পরিবেশ অনেকটায় প্রতিকূল হয়ে পড়ে তার জন্য। তখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পড়ে সংগ দেওয়া এবং পাশে দাড়ানোর মত কাছের কেউ। কিন্তু দূর্ভাগ্য জনক হলেও সত্যি যে অধিকাংশ মানুষ ই বার্ধক্যে পৌছানোর পর নিজের পাশে কাউকে পায়না। ফলে ধীরে ধীরে মানসিক ভাবেও সে অনেক বেশি অসহায় হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায় মোট জনসংখ্যার মাত্র ৬% প্রবীণ বা বৃদ্ধ। আমাদের সমাজে প্রবীণদের দেখভালের ব্যপারে ধর্মীয় ও সংস্কৃতি গত দিক দিয়ে বিভিন্ন ঐতিহ্য চালু থাকলেও দেখা যায় পরিবার ও সমাজ প্রবীণ সদস্যদের যত্ন না নিয়ে বরং অবহেলা করে। সমাজে প্রবীণ সদস্যদের হেয় বা গুরুত্ব না দেওয়ার পিছনে কিছু কারণ রয়েছে। যেমন
*দ্রুত আর্থসামাজিক পরিবর্তন।
*জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন।
*ক্ষয়িষ্ণু সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ।
*পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব ও অন্যান্য।

আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই বার্ধক্যে পৌছানোর পর কতগুলি মৌলিক মানবিক সমস্যার সম্মুখীন হন।যেমন
*অপর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান।
*বার্ধক্য জনিত রোগ।
*যথোপযুক্ত সেবা ও চিকিৎসার অভাব।
*একাকিত্ব।
*অবহেলা ও বঞ্চনা।
*আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ইত্যাদি।
সাধারণত দেখা যায় প্রবীণ সদস্যদের পরিবার থেকে ও সমাজ থেকে বোঝা হিসেবে দেখা হয় বলে তারা শারীরিক নানা অপারগতা সত্ত্বেও বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত থাকে জীবিকার সন্ধানে। কেউ কেউ আবার ভিক্ষা বা অন্যের দারস্থ হতে বাধ্য হয়।
সরকারি এবং বেসরকারি ভাবে তাদের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাস্তবায়িত হয়না। বিভিন্ন ধরনের বয়স্ক ভাতা বা পেনশন চালু থাকলেও গ্রামের প্রবীণ সদস্যদরা তা থেকে বঞ্চিত হন।কারণ বাংলাদেশের ৮০শতাংশ প্রবীণ রাই গ্রামে বসবাস করে। ফলে শহরে বসবাস রত প্রবীন রা সামান্য কিছু সাহায্য পেলেও গ্রামে বসবাসকারীরা পশ্চাতেই থেকে যায়। অনেক সময় আবার সন্তানেরা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসে। ফলে তারা মানসিক ভাবে হতাশায় ডুবে থাকেন। যা সমাজের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানুষ হিসাবে তারাও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই তাদের প্রতি নির্মম আচরণ কখনোই কাম্য নয়। তাদের পাশে দাড়ানো এবং সুযোগ সুবিধা দেওয়া আমাদের মানবিক দায়িত্ব। প্রবীণদের একাকিত্ব দূরীকরণ এবং তাদের কে মানসিক ভাবে সাহায্য করতে হবে। তাদের কে সময় দিতে হবে এবং নিঃসংগতা দূর করতে হবে। প্রবীণদের জন্য অধিকহারে সেবাকেন্দ্র গড়ে তুলতে হবে। সকল প্রবীণদের জন্য বয়স্ক-ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে। সমাজে ও পরিবারে বয়স্কদের গুরুত্ব দৃষ্টিগোচর করা প্রয়োজন। কোন ভাবেই ভুলে গেলে চলবেনা তারাও আমাদের সমাজের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মেহেরীন আক্তার শান্তা।
তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ১বর্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩-০৯-২০২০