বাবা দিবসে আমার বাবা!!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৯:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ২১, ২০২০

———–
‘বাবা’ কে নিয়ে আমাদের সংস্কৃতিতে খুব বেশি আদিখ্যেতা নেই।

বাবা মানে দূরের মানুষ। সংসারের রাশভারি, নামজাদা মেহমান। তাকে পাতলা পর্দার মতো ঘিরে থাকে ভয়, রাগ, শাসন আর গাম্ভীর্য। আবার কিভাবে যেন তার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়, এক আকাশ নির্ভরতা আর এক রাশ নিরাপত্তার অনুভূতি। তিনি ভালোবাসেন ঠিকই, স্নেহও করেন। কিন্তু সব-ই সীমিত মাত্রায়। বাবার সাথে সন্তানের সম্পর্কে মিশে থাকে খানিকটা দূরত্ব, খানিকটা সংকোচ, খানিকটা ভীতি মেশানো শ্রদ্ধা।

বলছিলাম আগের দিনের বাবাদের কথা।

এখন সেদিনের কথা যেন নিতান্তই দাদু- ঠাকুমার মুখে শোনা গল্পের মতো। এখনকার বাবারা হলেন সন্তানের একদম কাছের মানুষ।স্নেহশীল বন্ধু। সন্তানের সব কাজ ও অকাজের প্রশ্রয়দাতা।

অনেকে বলেন, মেয়েরা নাকি বাবাদের খুব বেশিই প্রিয় হয়, আর বাবারাও নাকি মেয়েদের কাছ থেকেই বেশি আদর পান। কথাটায় যুক্তি হয়তো নেই, কিন্তু খুব একটা ভুলও বোধহয় নেই। কারণ নিজেই তো সে কথার প্রমাণ পাই প্রতিনিয়ত।

বলছি আমার বাবার কথা…

আমার বাবা সেতো বটবৃক্ষ, আমার বাবা আমার একান্ত নির্ভরতার আকাশ, নিঃসীম নিরাপত্তার চাদর।আমার বাবা মানে বুকের মাঝে নির্ভাবনায় লালন করা অসীম সাহস। আমার বাবা মানে আমার শক্তিশালী মা-সরকারের বিপরীতে আপোষকামী বিরোধী দল যে দলের অন্যতম সদস্য আমি।

আমি অবশ্য আমার বাবার রাজ্যের একমাত্র রাজকন্যা নই। এ রাজ্যে আমি ছাড়াও আরও এক রাজকন্যা আর রাজপুত্রের বাস। কিন্তু কেন জানিনা বাবা তার ছোট রাজকন্যাকেই( মানে আমাকে) বড্ড বেশি পক্ষপাতিত্বের আদরে ভরিয়ে রাখে। এতে অবশ্য আমাকে একটু হলেও বাকি দু’জনের হিংসের অনলে পুড়তে হয় যেটা কিনা ছিল আমারও এক সময়কার অবুঝ ছেলেবেলার নিত্য দিনের কাজ।কিন্তু এখন সামান্য বড় হয়েছি বোধহয়। তাই বাবার ভালোবাসার গভীরতা বুঝতে পারি। হয়তো বয়সের আধিক্যে সে গভীরতা আরও বেশি উপলব্ধি করতে পারবো।
বাবাকে নিয়ে কিছু লেখা বরাবরই মনে হয় যেন দুঃসাহসিক কিছু করে ফেলা। তাই দুঃসাহসটা ঠিক করে উঠতে পারিনি কখনও। কিন্তু আজ কেন জানিনা সেটা করেই ফেললাম। কিন্তু তেমন কিছুই যেন লিখতে পারছি না। মনের কোনো এক কোণে অজানা আনন্দের ব্যথা দানা বাঁধছে। তবে খুব করে একটা কথা মনে পড়ছে। বাবা বলে, তার চোখে আমি নাকি সবকিছুর সমাধান। কিন্তু আমার খুব বলতে ইচ্ছে করছে আজ-

বাবা তুমি ছাড়া যে জীবনটা নুন ছাড়া পান্তা,
তুমি পাশে থাকলে তবেই তো আমি সবজান্তা।।

বাবাকে নিয়ে আমার সেরা স্মৃতি বলতে গেলে আমাকে দেওয়া নামটি-
“বদ্দিবুড়ি “। আমার সময়-অসময়ে ভুলে যাওয়া অভ্যাসের দরুন ই এ নাম পেয়েছি অবশ্য।
তবে কি জানো বাবা, আমি আজীবন তোমার “বদ্দিবুড়ি” হয়ে সবকিছু ভুলে যেতে চাই বারংবার। তাতে অন্তত তুমি আমার ভুলে যাওয়া কথা আর জিনিসগুলো খুঁজে দেবে প্রতিবারের মতো।
এ যে আমার আজীবনের প্রাপ্তি।

হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের দরাজ কণ্ঠের সেই সুরেলা ডাক-“আয় রে আমার কাছে আয় মামণি, এ হাতটা ভালো করে ধর এখনই…”কন্যার প্রতি বাবার স্নেহের যে চিরায়ত আকুলতা প্রকাশিত হয়েছে- তা হয়তো প্রতিটি পিতা কন্যাই উপলব্ধি করেন।
আমিও করি।
আচ্ছা বাবা, তুমিও কি করো?

আমি জানি তুমিও করো, হয়তো একটু অপ্রকাশিতভাবেই!

কখনও তো সুযোগই হলো না তোমাকে নিয়ে এমন এক গদ্য লিখে তোমায় পড়ে শুনানোর,
তবে ভেবেই নিয়েছি আজ আর সুযোগটা হাতছাড়া করা ঠিক হবে না।

বাবা…!
ভালোবাসি বড্ড বেশি

সানজিদা আক্তার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।