বাঘের আতঙ্কে পঞ্চগড়ের হাজার হাজার এলাকাবাসী, বনকর্মীদের অভিযান

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৬:০৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২০

মো.সফিকুল আলম দোলন,পঞ্চগড়,প্রতিনিধি ঃ

পঞ্চগড়ে বেশ কিছুদিন ধরে বাঘের আতঙ্কে কাটছে কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার এলাকাবাসীর। গত একমাস থেকে আনাগোনা এবং ছাগল, গরু ও কুকুরকে ধরে নিয়ে যাওয়া, বাঘের আক্রমণে গরু ছাগল খেয়ে ফেলার ঘটনায় দিনরাত আতঙ্ক আর ভয়ে দিন কাটছে তাদের। বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামের মানুষ। পঞ্চগড় সদর উপজেলার সাতমেরা ও তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগড় ইউনিয়নের মুহুরিজোত, সাহেবীজোত, উষাপাড়া ও বাদিয়াগছ গ্রামের কেউ কেউ বাঘ দেখেছেন আবার কারো কারো পশু খেয়ে ফেলার ঘটনায় আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ওই এলাকায় চলছে প্রশিক্ষিত বনকর্মীদের অভিযান। বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পেলেও এখন পর্যন্ত তারা বাঘ দেখতে পায় নি। তবে বাঘ দেখার জন্য ওই এলাকায় কয়েক হাজার উৎসুক জনতা ভীড় করছে। সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে ওই এলাকায় মাইকিং করে গ্রামবাসীদের রাতে সচেতন থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ হোসেন, পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শাহীনুজ্জামান, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, পঞ্চগড়ের ফরেস্ট রেঞ্জার আব্দুল হাইসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং এলাকাবাসিকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
দেবনগড় ইউনিয়নের উষাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম জানান, আমাদের গ্রামটি সীমান্তবর্তী ও এলাকাজুড়ে ঘন বন-জঙ্গল থাকায় সহজেই ভারতীয় বাঘ চলে আসে ।বুধবার বিকেলে আমার একটি গরুকে বাঘ গলায় কামড়ে ধরে হত্যা করে। আমি নিজেই চা বাগানে চিতা বাঘকে দেখেছি এবং সে সময় আমার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে। অন্যরাও বাঘ দেখেছে। চা বাগানের ভিতরে আমি নিজে বাঘটিকে দেখেছি বাঘটি আমার দিকে তেড়ে আসছিল কিন্তু চা বাগানের ডালপালার কারণে কাছে আসতে পারেনি। আমি সেটা দেখে দৌঁড়ে বাড়ি চলে আসি। আমার ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার গরুটি মেরে ফেলে বাঘটি। এর আগে আরেকটি ছাগলের উপর হামলা করে বাঘ।
পঞ্চগড় ফরেস্ট রেঞ্জার আব্দুল হাই জানান, প্রধান বন সংরক্ষককের নির্দেশে ঢাকা থেকে আসা ভেটেনারি সার্জনসহ ৪ সদস্যের একটি দল ও আমাদের স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে বাঘ ধরার কাজ শুরু হয়েছে।