বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের অনলাইন অরিয়েন্টেশন ২০২০

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২০

তাওসিফুল ইসলাম, ঢাবি প্রতিনিধি

গত শনিবার (৮ই আগস্ট) বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় অনলাইন ওরিয়েন্টশন প্রোগ্রাম “বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ ভলিন্টিয়ার পরিচিতি পর্ব ২০২০।”

২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সংগঠনটি। তরুন প্রজন্মের সার্বিক আত্মউন্নয়ন, নেতৃত্ব চর্চা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট মূলক বিভিন্ন ট্রেনিং এবং ওয়ার্কশপ পরিচালনার মাধ্যমে তরুনদের বিভিন্ন ভলান্টিয়ারি কাজে সম্পৃক্ত করে আসছে৷ প্রতিবছর কিছু আত্মনিবেদিত প্রাণ তরুন সংগঠনটির নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে এই সংগঠনে যুক্ত হয়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করে তুলছে। ২০২০ সালে করোনা মহামারীর পরিস্থিতিতেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

অনলাইন এর মাধ্যমে ভলান্টিয়ার নিয়োগের সম্পূর্ণ কার্যক্রম সফলতার সঙ্গে সম্পূর্ণ করছে বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ। তার ধারাবাহিকতাই নবীন ভলান্টিয়ারদের বরন করে নিতে গতকাল অনলাইন ওরিয়েন্টশন প্রোগ্রাম আয়োজন করে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিল নব-নবনিযুক্ত ভলিন্টিয়ারবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয় বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ এর এক্সিউটিভ কমিটির সদস্যদের স্বাগত বক্তব্যর মাধ্যমে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের মডারেটর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শেখ শামস মোরসালিন। তিনি তার বক্তব্যে, সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নবীণদেরকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

এরপর বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাবের উবায়েদ তার বক্তব্যে সংগঠন প্রতিষ্ঠার পটভূমি বর্ণনা করেন এবং ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক এবং ভলান্টিয়ারি কাজের বিবরণ তুলে ধরেন তিনি।যার মধ্যে ছিলো,”Be the change, Humanitarian Aid, Clean & Green School সহ আরো অনেক গুলো সফল প্রজেক্ট।

বক্তব্যের প্রারম্ভিকে সকল বক্তাই আজকে বেগম ফজিলাতুন্নেসার ৯০তম জন্ম বর্ষিকীর কথা স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড.আবুল মাকসুদুল কামাল। নবীন ভলান্টিয়ারদদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড.সাদিকা হালিম। তিনি তার বক্তব্যে সমাজ গঠনে ও সমাজের উন্নয়নে তরুণদের ভুমিকা এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভের তরুনদের বিভিন্ন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছেন৷ সর্বশেষ, জাতির জনক শেখ মুজিব এর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে সকলকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে একজন সৎ, সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠার আশাবাদ তিনি ব্যক্ত করেছেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রফেসর ড. দেলওয়ার বক্তব্যে যুব সমাজের কার্যক্রম, সমাজে তাঁদের ভূমিকা এবং যু্ব সমাজ কিভাবে একটি দেশকে পরিবর্তন করতে তাঁদের যুগপোযোগী উদ্যোগ গ্রহন করতে পারে সেই বিষয়গুলো তীক্ষ্ণভাবে তুলে ধরেছেন তার বক্তব্যে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি সিএম তোফায়েল সামি। তাঁর বক্তব্যে তিনি করোনা পরবর্তী সময়ে কিভাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করতে পারে, সে সম্পর্কে দিক-নিদের্শনা প্রদান করেন।

পর্যায়ক্রমে, প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত ছিলেন লিডারশীপ ডেভেলপমেন্ট ও টিচ ফর বাংলাদেশ এর ব্যবস্থাপক আলমীর আহসান আসিফ।ছাত্রজীবনে ভলিন্টিরিংয়ের গুরুত্ব , প্রভাব এবং এর প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে সুস্পষ্টভাবে আলোচনা করেন। গ্রীন সেভার্সের প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি আহসান রনি যিনি বাংলাদেশকে সবুজ করার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি চান BYI এর ভলান্টিয়াররাও এই কাজে এগিয়ে আসুক।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশে ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ এক্সিউটিভ কমিটির সদস্যগণ।
প্রায় সাড়ে ৩ ঘন্টার সেশনের সমাপ্তি ঘটে সভাপতি জাবেদ উবায়েদের বক্তব্যের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ ইয়ুথ ইনিশিয়েটিভ ভলিন্টিয়ারদের জন্য এমন স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন মূলক এমন আরো অনলাইন সেশন আয়োজন করবে বলে আশা রাখেন সংগঠনটির সভাপতি জাবের ওবায়েদ।