বরিশালে ভুয়া পদবি ব্যবহার করায় ১ ডাক্তার ও ২ ক্লিনিক মালিককে জেল : ক্লিনিক সিলগালা

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

মোঃ শাহাজাদা হিরা :

বরিশাল মহানগরীর জর্ডান রোড এলাকায় আজ ২২ জুলাই বুধবার সন্ধ্যার দিকে দি সেন্ট্রাল মেডিকেল সার্ভিসেস নামক একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এস, এম, অজিয়র রহমান এর নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরীর জর্ডন রোড এলাকায় সেন্ট্রাল মেডিকেল সার্ভিসেস এ র‌্যাব এবং সিভিল সার্জন এর প্রতিনিধির সহযোগিতা নিয়ে এ অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানকালে দেখা যায় গত তিন মাস ধরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন এবং গত ১৯ জুলাই মৃত্যুবরণ করা ডাক্তার গাজী আমানুল্লাহ খান এর সই নকল করে আজ ২২ জুলাই তারিখেও বিভিন্ন ধরনের ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে সুধু তাই নয় এছাড়া প্যাথলজির সাইনবোর্ড সহ বিভিন্ন জায়গায় করোনায় মৃত্যুবরণ করা বরিশালের চিকিৎসক ডাঃ ইমদাদ উল হকের নাম ব্যবহার করা হচ্ছিলো।

এ ব্যাপারে মালিকপক্ষকে জিজ্ঞেস করা হলে তারা কোন জবাব না দেয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এসময় আরো দেখা যায়, নূর এ সরোয়ার সৈকত নামে এক ডাক্তার ভূয়া পদবী ও বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ডাঃ সৈকত নিজের প্যাডে শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল এর নামও ব্যবহার করেছেন, বাস্তবে তিনি শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের ডাক্তার কিংবা ছাত্র কোনটিই ছিলেন না। সার্বিক বিবেচনায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জিয়াউর রহমান আইনের মেডিকেল প্র‍্যাকটিস এবং বেসরকারী ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরিজ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর ১৩(২) ধারায় দি সেন্ট্রাল মেডিকেল সার্ভিসেস এর মালিকপক্ষের জসিম উদ্দিন মিলন ও এ কে চৌধুরীকে ছয়(৬) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পাশাপাশি মেডিকেল এবং ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০-এর ২৯ ধারায় ভূয়া পদবী ব্যবহার করা ডাক্তার নূর এ সরোয়ার সৈকতকে ছয় (৬) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সীল গালা করে দেয়া হয়।

অভিযানে প্রসিকিউশন অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মুন্সী মুবিনুল হক এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে র‍্যাব-৮ এর এএসপি মুকুর চাকমার নেতৃত্বাধীন একটি টিম। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন জনস্বার্থ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।