বন্যায় পানি না বাড়লেও ভোগান্তি কমেনি নাগরপুরে

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২০

মো:আজিজুল হক বাবু,নাগরপুর(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধলেশ্বরী ও যমুনা নদীর পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত আছে। ফলে, ভোগান্তি বাড়ছে বিপাকে পড়া মানুষের। গত কয়েক দিনে ক্রমাগত নদীর পানি বৃদ্ধিতে শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে গেছে।

৩৮টি বিদ্যালয়ের ভবনে ফাঁটল দেখা দিয়েছে এবং দুটি বিদ্যালয় ভাঙনের কবলে রয়েছে ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও বিপদসীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের উপজেলায় পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ হাজার মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে তাদের জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ১০টি আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করেছেন উপজেলা প্রশাসন।

বন্যার পানি ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে পড়ায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অপরদিকে স্থানীয় বিভিন্ন সড়ক, হাটবাজার ও ফসলি জমিতে পানি ওঠায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে দুর্গত মানুষ। বসতঘরে বন্যার পানি ওঠায় বিভিন্ন বাঁধ এবং উঁচু স্থানে গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বন্যাদুর্গত বাসিন্দারা। সেই সাথে দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সংগঠনের ত্রাণ সহায়তা প্রদান অব্যাহত আছে। তবে বন্যার্তদের থেকে সেই ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন বন্যাদুর্গতরা।

উপজেলা থেকে স্থানীয় চেয়ারম্যানদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে আরও জানা যায়, করোনা সংক্রমণকালীন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নির্দেশ মোতাবেক বন্ধ। সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ওঠায় শিক্ষাব্যবস্থা আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ১৫৬টি স্কুলের মধ্যে ১০১টি স্কুলে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলায় ৯৬ টি বক্সকালভার্ট ও ছোট বড় সেতু এবং ইতোমধ্যে ২৩টি বক্সকালভার্ট ও সেতু ভেঙে পরায় আরও বিপাকে পড়েছে মানুষ। অপরদিকে বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে মৎসচাষিদের পুকুর ডুবে প্রায় কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. রোকনুজ্জামান খান বলেন, উপজেলায় ৩৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক এর মধ্যে ৩৮টি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্যায় প্লাবিত হয়েছে এবং একটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। উপজেলায় ৬টি সাব সেন্টারের মধ্যে দুটি বন্যায় প্লাবিত এবং একটি নদী ভাঙনের কবলে রয়েছে। অপরদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। তাদের যথাযথ চিকিৎসা জন্য উপজেলার ১২টি ইউনিয়নেই মেডিক্যাল টিম গঠন করে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহসহ প্রস্তুত উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

বৃহঃপতিবার (৩০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত উপজেলায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৬জন। করোনা আক্রান্ত এর মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ৪০ জন, মারা গেছেন ২, চিকিৎসাধীন আছে ১৪জন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মতিন বিশ্বাস জানান, ৭ হাজার ৪১০ বিঘা বোনা আমন, ১৫০ বিঘা রোপা আমন বীজতলা, ৬০ বিঘা আউশ ধান, ৮১০ বিঘা সবজি ক্ষেত, ১৫০ বিঘা লেবু ও ১৫০ বিঘা কলার বাগান বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম নিউ ভিশন জানান, এ পর্যন্ত বন্যাদুর্গত এলাকায় ১৬৫ মেট্রিক টন চাল, শুকনা খাবার ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা ও ১৫০০ প্যাকেট, গো-খাদ্য ২ লাখ ২০ হাজার ও শিশু খাদ্য ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দের ভিত্তিতে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে। বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে।