বৃহস্পতিবার ৯ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
আমাদের সম্পর্কে
যোগাযোগ

বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বেড়াজালে!!

অক্টোবর ১৬, ২০২১
প্রিন্ট
নিউজ ভিশন

মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা। ছোট্টবেলায় যাদের সাথে গোল্লাছুট, কপালটোকা খেলেছি; শৈশব ও যৌবনের শিক্ষাজীবন যাদের সাথে কাটিয়েছি। সময়ের বাস্তবতায় যখন এই শৈশব ও যৌবনের শিক্ষা আর এই শিক্ষাজীবনের মারহালা পেরিয়ে পাড়ি জমায় সবাই নানান জায়গায়। আর নিজের জীবনকে সাঁজাতে ব্যস্ত হয়ে উঠে কর্মব্যস্ততায়। কিন্তু তখনো ভুলা যায় না বন্ধুদের নিয়ে খামখেয়ালি কথা, বিকেলের সেই পায়চারির কথা, চায়ের দোকানে বসে আড্ডাবাজির কথা, মজা করে মুড়ি খাওয়ার স্মৃতি। বরং তাদের খুব বেশি মনে পড়ে। আর সাধারণত যৌবনে এসেই একজন ছাত্রের বা মানুষের জীবনের সেরা বন্ধুত্বটি গড়ে ওঠে। এই বন্ধুদের সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তই যেন অমূল্য হয়ে ধরা দেয় স্মৃতির পাতায়, হৃদয়ের বিশাল জায়গায়। আর আমাদের এই বন্ধুত্ব বা ভালোবাসা গড়ে উঠেছিল প্রিয় শিক্ষাঙ্গনের মাধ্যমে।

সেই প্রিয় শিক্ষাঙ্গন হচ্ছে ‘জামিয়া ইসলামিয়া দারুস-সুন্নাহ মাদরাসা’। যেটা টাঙ্গাইল শহরের বেবীষ্ট্যান্ডের তীরঘেঁষে বিশাল মাঠ নিয়ে সবুজ সমারোহে গড়ে ওঠা একটি বিদ্যাপীঠ। যেখানে সব সময় কুরআনের মৌমাছিরা বিচরণ করে মধু আহরোণ করে। মূলত বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার বিষয়টা উপলব্ধি করতেই শিখেছি এখান থেকে। সবুজের সান্নিধ্যে থাকা এখানকার ও মধুপুরের প্রতিটি সাথী, মানুষ বন্ধুবান্ধস্থল। খুব সহজেই মিশতে পারে। কাছে টানতে পারে। এদের কাছেই তো শিখেছি কিভাবে মানুষকে কাছে টেনে নিতে হয়, বিপদ-দাপদে কাঁধে-কাঁধ রেখে পাশে থাকতে হয়। কিভাবে পরামর্শের মাধ্যমে অগ্রসর হতে হয়। তাদের ছায়াতলে থেকেই শিখেছি। সবার সহযোগিতা ও আল্লাহ তায়ালার তাওফিকেই এ পর্যন্ত আসা সম্ভব হয়েছে। আর তাই তো প্রিয় শিক্ষাঙ্গনের (সকল শিক্ষকবৃন্দ) সাথীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সব সময়ই আছে, আজীবন থাকবে। শিক্ষাজীবনে সবারই কমবেশি বন্ধু বা সাথী থাকে। আর বন্ধুরা থাকলে তো চলার পথে দেখা হবে, কথা হবে, হবে অনাবিল আড্ডা-আনন্দ, আর না বলা বহু কথা। এটাই তো স্বাভাবিক।

আর হ্যা, ছন্দহীন জীবনে ছন্দ আর নিরানন্দ জীবনে আনন্দের জোয়ার যোগ করতে এই বন্ধুদের জুড়ি নেই। আবার সে বন্ধুদেরকে ছেড়ে চলে যাওয়াটাও সবচেয়ে কষ্টের। শৈশব জীবন, শিক্ষা জীবন ও পরবর্তী জীবনের দিনগুলোতে সে চিত্রই চোখে পড়ে সর্বত্র। হাসি-কান্নার ঐদিনগুলো সবাই সবাইকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে, যোগাযোগ না থাকলেও মনের দূরুত্ব তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তারপর চলে যায় সবাই। প্রবেশ করে পেশাদারিত্বের কর্মব্যস্ততায়। কিন্তু সে জীবন থেকে পালিয়ে আবারো বন্ধুদের সাথে অল্পকিছু সময় কাটাতে নানান পথ (বাহানা) খুঁজতে থাকে সবাই। আর তাই আজ আবারও অনেকেই একসাথে, একই সফরে, একই গন্তব্যে একত্রিত হয়েছি। তা হলো আমাদের লুৎফর রহমান ভাইয়ের ওলিমার দাওয়াতে। যদিও ওলিমার দাওয়াতে অল্প সময়ের সাক্ষাতে। তবুও তো প্রিয়দের একটুখানি সাক্ষাৎ ও মোলাকাত তৃষ্ণার্ত হৃদয়ের জন্য একরাশ প্রশান্তির বৃষ্টি স্বরূপ। এই একটু সময়ের কি যে মূল্য ও তাৎপর্য তা কখনো বোঝানো যাবে না। যা আমাদেরকে নতুন করে, নতুন উদ্যোমে সম্মুখপানে পথচলতে সহযোগিতা করবে। এই অনুষ্ঠানে যারা একত্র হয়েছিল মাওঃ বেলাল, জাকারিয়া, মাহফুজ, নাজিউর, সাজ্জাদ ও আঃ রাকিব ভাইসহ আরো প্রমূখ সাথী। আর হ্যা, আরো যারা এখানে উপস্থিত হতে পারেনি, তাদেরকেও অনেক মিস করেছি। কারণ সবাইকেই মনেরমণিকোঠায় সযত্নে রেখেছি।

সত্যি! হাসি-কান্নার পুরনো সেই সোনালি দিনগুলো জীবনে মনে পড়ার মতই। অনেক কিছু পেয়েছি, তার মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হলো, আমরা অন্তরের কিছু বন্ধু পেয়েছি শিক্ষা জীবনে। অনেক সুন্দর ছিল দিনগুলো। প্রতিদিন সকালে বসে পড়তাম ক্লাসে। সারাদিন ক্লাস আর ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের সাথে কথাবার্তা, কত আড্ডা। বিকালে চায়ের দোকানে বসে চায়ের আড্ডা । কতকিছু নিয়ে সে আড্ডা, যেন শেষই হতো না। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার দিনগুলোও খুব মিস করার মত। এ সবই প্রিয়দেরকে ভালোবাসার কিছু প্রতিদান। যদিও সবার সাথে এখন আর আগের মত দেখা হয় না। তবে সুযোগ পেলেই সবার ছুটে আসা হয় ভালোবাসার মিলনায়তন প্রিয় শিক্ষাঙ্গনে। সম্মানিত উস্তাদগণের নিকটে। প্রিয় বন্ধুদের কাছে। যদিও অনেকেই হারিয়ে গেছে পেশাদারিত্বের নিজ নিজ গন্তব্যে। তবুও যাদের সাথে দেখা হয়, তাদের সাথেই পুরোনো স্মৃতিগুলো স্মরণ করি। ফলে ঐদিনগুলোও অন্য রকম ভালো লাগায় অতিবাহিত হয়। আলহামদুলিল্লাহ।

মোটকথা, প্রিয় শিক্ষাঙ্গনের প্রতিটা দিনই শুরু হতো বন্ধুদের ও ওস্তাদদের ভালোবাসায় নতুনভাবে, নতুন ঘটনাচক্রে, নতুন অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে। হাসি-কান্না, আড্ডাবাজি, আনন্দ-বেদনা, এই সবকিছু মিলিয়েই ছিল সেই দিনগুলো। ক্লাসের ফাঁকে যখনই সুযোগ হতো, তখনই ভালোবাসার বন্ধুরা ও প্রিয়রা মিলে মেতে উঠতাম আড্ডায়, ঘুরতে যেতাম কোনো এক প্রিয় জায়গায়। সত্যি বলতে! সেই দিনগুলো ও বন্ধুত্বগুলো বড্ড মিস করি। বড্ড মিস করি। আর এই বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বেড়াজালে আটকে পড়া সাথীদের সাথে আজকের কাটানো সময়টা, মুহুর্তটা স্মৃতির পাতায় স্বর্ণাক্ষরে অঙ্কিত থাকবে আজীবন। তাই এই বন্ধুত্ব ও ভালোবাসাটুকু হোক শুধু আল্লাহর জন্য। আর তা বেঁচে থাকুক আজীবন প্রত্যেকের হৃদয়ে।

হুসাইন আহমদ
শিক্ষার্থী, ইসলামি আইন ও গবেষণা বিভাগ, দারুস-সুন্নাহ মাদরাসা, টাংগাইল।

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
logo

নিউজ ভিশন বাংলাদেশের একটি পাঠক প্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র। আমরা নিরপেক্ষ, পেশাদারিত্ব তথ্যনির্ভর, নৈতিক সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ঢাকা অফিস: ইকুরিয়া বাজার,হাসনাবাদ,দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ,ঢাকা-১৩১০।

চট্টগ্রাম অফিস: একে টাওয়ার,শাহ আমানত সংযোগ সেতু রোড,বাকলিয়া,চট্টগ্রাম |

সিলেট অফিস: বরকতিয়া মার্কেট,আম্বরখানা,সিলেট | রংপুর অফিস : সাকিন ভিলা, শাপলা চত্ত্বর, রংপুর |

+8801789372328, +8801829934487 newsvision71@gmail.com, https://newsvisionbd.com
Copyright@ 2021 নিউজ ভিশন |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।