বদলাচ্ছে তথাকথিত সমাজ ব্যবস্থা অথচ নারীর জন্ম আজও আজন্ম পাপ

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।” কবি নজরুলের লেখাতেই শুধু নয়, ইতিহাসের পাতা ঘাটলে দেখতে পাওয়া যায় নারীর অবদান স্বীকারে মরিয়া কত শত বিখ্যাত মুখ। তবে কি শুধু কিছু ছোট্ট পরিসরেই সীমাবদ্ধ নারীর অস্তিত্ব? নাকি আমরা সর্বত্র নারীর অস্তিত্ব কে স্বীকার করতে, মেনে নিতে, মর্যাদা দিতে নারাজ? পৃথিবী আজ পৌঁছে গেছে উন্নয়নের কল্পলোকে। আজ সব কিছুই যেন ধরা যায়, ছোয়া যায়। মানুষ চাইলে চাঁদের মাটিতে জমি কেনে, চাইলে সমুদ্রের নিচে জাদুঘর তৈরি করে। আজ যেন মানুষের সব আছে। মানুষ পৌঁছে গেছে এমন এক রাজ্যে যেখানে অসম্ভব কে ভাবতে ভাবতেই তা রূপ নিচ্ছে বাস্তবে। এত পরিবর্তন, এত উন্নয়ন অথচ আজও বদলানো সম্ভব হয়নি মানুষের দৃষ্টি-ভংগি। (আশরাফুল -মাখলুকাত) বা সৃষ্টির সেরা জীব হল মানুষ। অথচ নারী কি সেই কাতার থেকে বাইরে? সেরা জীবের শ্রেণী বিভাগে নারী কি তাহলে বহিরাগত? পৃথিবী এত পরিবর্তন দেখলো তাও আজও আমরা শুনতে পাই কন্যা শিশু জন্ম নেওয়ায় নিজের বাবার হাতে খুন হচ্ছে সে, কখনো কখনো আবার জীবন্ত কবর দেওয়া হচ্ছে। আজও আমরা দেখি দাদি তার নাতি কে বেশি ভালোবাসা দিচ্ছে। আজও আমাদের চোখের সামনেই দেখি কন্যা শিশু জন্ম নেওয়ায় তাকে কোলে তুলে নিচ্ছেনা পিতা। সব চেয়ে অবাক বিষয় হল সন্তান গর্ভে থাকাকালীন ই ছোটা হয় চিকিৎসকের কাছে, গর্ভস্থ সন্তান যে পৃথিবীর আলো দেখবে সে সুস্থ আছে কিনা তার চেয়েও বড় প্রশ্ন সে ছেলে না মেয়ে! পুত্র সন্তানের আশায় বার বার সন্তান গ্রহণও হর হামেশা ঘটে। একটা শিশুর জন্মই তার আজন্ম পাপ হিসেবে চিহ্নিত হয়। মানুষ হিসাবে যেখানে সবার অধিকার এক সেখানে মেয়ে হয়ে জন্ম নেওয়ায় জন্মের পর থেকেই কেউ কেউ নেমে পড়ে অধিকার রক্ষার আন্দোলনে। (আইয়্যামে জাহেলিয়া) বর্বরতার যুগ থেকে শুরু করে ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় নারীকে দেওয়া হত জীবন্ত কবর। কখনো আবার সতীদাহ করে সতীত্বের প্রমাণ। হ্যাঁ, যুগে যুগে পরিবর্তন এসেছে কিছুটা। কিন্তু বদলায়না সার্বিক পরিস্থিতি। আজও পুত্র সন্তানের পাতে পড়বে মাছের মাথাটি।আমরা নাকি পরিবর্তন আনি সমাজে! তাও কেন যেন একক্রোশ পথ হেটে যাবার সময় প্রতিটি পদক্ষেপ মনে করিয়ে দেয়, “তুমি নারী,তুমি অবলা!তোমার চলনে বলনে, চাওয়া পাওয়ায় তোমাকে স্মরণ করতে হবে তুমি নারী। আমাদের সমাজ হয়তো ভুলে যায় নারী না থাকলে পৃথিবীতে মানব জাতির আগমন কখনো সম্ভব না। আমাদের সমাজ ভুলে যায়, নারী না থাকলে আমরা “মা” ডাকব কাকে? যে মায়ের আঁচলের নিচে সব শান্তি, যে মায়ের পায়ের নিচে বেহেশত সে ও যে এক নারী তা কিভাবে ভুলে যায় আমাদের সমাজ! নারীর অধিকার যদি সমান হত তাহিলে আজ আর আলাদা করে নারীর ভূমিকা নিয়ে মাথা চাড়া দিত না কারো। নারীর অধিকার যদি সমান হত তাহলে প্রতিদিনের ধর্ষণ নামক বর্বরতার স্বীকার হত না কোন নারী। নারী দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে পুরুষের সমান্তরালে। নারী আজ দেশ পরিচালনা করে, বিমান চালক, কখনো আবার মহাশূন্যে পাড়ি জমায়। নারী তার যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই যাচ্ছে।এখন যদি নারীর গুরুত্ব না বুঝি আমরা, তাহলে আর কবে? তবে কি পৃথিবী এগিয়ে যাবে তার আপন গতিতে কিন্তু নারী তার আসল মর্যাদা পাবেনা? বদলাতে হবে দৃষ্টি-ভংগি, বদলাতে হবে আমাদের মানসিকতা। নারীর অস্তিত্বকে অস্বীকার করে আমরা সভ্য মানুষ হিসেবে নিজেদের দাবি করতে পারিনা। নারীকে নারী নয়, দিতে হবে মানুষের মর্যাদা। তাহলেই পৃথিবী হবে আরও সুন্দর। আরও সম্ভাবনাময়।

মেহেরীন আক্তার শান্তা
তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ,
১ম বর্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।