বউ ভাগিয়েছে ছাত্রলীগ নেতা, অভিযোগ আওয়ামী নেতার!!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১১:৩১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

নিলয় ধর,স্টাফ রিপোর্টার(যশোর) :

যশোর চৌগাছা উপজেলায় ছাত্রলীগ নেতা সাদেকুর রহমানের (২৭) বিরুদ্ধে বউ ভাগিয়ে নেওয়ার পর হত্যার হুমকির অভিযোগ করেছে একই উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলাইমান হোসেন এর।

রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুরে প্রেসক্লাব যশোর কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এসে এই অভিযোগ করেন সোলাইমান। ওই সময় সোলাইমানের সঙ্গে তার শিশুপুত্র আবু বক্কার সিদ্দিক (১১) উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সোলাইমান বলেছেন, চৌগাছা উপজেলার ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সহ-সভাপতি ছোটদিঘড়ী গ্রামের আইজেল হকের ছেলে সাদেকুর রহমান পরীক্ষার ফরম পূরণ ও ফিসের টাকা নেওয়াসহ বিভিন্ন অজুহাতে আমার বাড়িতে আসতো। এভাবে সে আমার ছেলে আবু বক্কার সিদ্দিকীর মা সালমা খাতুনের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক তৈরি করেন। এই নিয়ে সংসারে অশান্তি লেগে থাকতো। এমনই অবস্থায় ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই আমার শাশুড়ি রাবেয়া খাতুন ও তার ২ ছেলে মুছা ও ইব্রাহিম আমার বাড়ি আসে। তাদের জন্য বাজার থেকে কেনাকাটা করে ফিরে শুনি ছেলেকে ফেলে সালমা খাতুন ও তার পরিবারের সবাই ছাত্রলীগ নেতা সাদেকুরের সাথে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছে। এই সময়ে তারা আমার নগদ ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা সহ কয়েক লক্ষ টাকার সোনার গহনা নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর আমি স্ত্রীকে ফেরত আনতে শ্বশুরবাড়ি গেলে আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর আমার স্ত্রী সালমা ছাত্রলীগ নেতা সাদেকুরের সাথে বিয়ে করে, তার সাথে বসবাস করতে থাকেন। এই ব্যাপারে ২০১৮ সালে সালের ৩ সেপ্টেম্বর আমি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করি।

তিনি বলেন, এরপর আসামি সাদেকুর মামলার খবর পেয়ে আমাকে খুন করার হুমকি দিতে থাকে। এমন অবস্থায় ২০১৮ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফ্রিজ কিনতে কোটচাঁদপুর যাওয়ার সময় সাদেকুর তার সহযোগীদের নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাকে আটকায়। এই সময় তারা আমার কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তারা আমাকে মারপিট করে এক লক্ষ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনায় থানায় মামলা করতে যাই। কিন্তু আমাকে আদালতে মামলা করতে পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে আমি ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করি।

এরপর থেকে তারা সিলেটে থাকতো। বর্তমানে সাদেকুর আবার চৌগাছায় এসে থাকছে এবং এবং বিভিন্ন মাধ্যমে আমাকে হত্যাসহ হাতপা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।তিনি প্রশ্ন করেন, নেতার স্ত্রী ভাগিয়ে বিয়ে করা ব্যক্তি কীভাবে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে থাকতে পারে? উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সে সভাপতিত্বও করছে।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সাদেকুর বলেন, ২০১৬ সালের প্রথম দিকে পারিবাকি কলহের কারণে তাদের (সোলাইমান-সালমা) তালাক হয়ে যায়। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে আমি সালমাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করি। আমরা আড়াই বছর সংসার করছি। সে যেসব অভিযোগ করেছে তা মিথ্যা। আমি তার বউকে বিয়ে করিনি। তালাকপ্রাপ্ত একজনকে আমি বিয়ে করেছি।