প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় সুনামগঞ্জের ১৩ জন

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকার, আলবদর ও আলশামসের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১৫ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজাকারের নামের তালিকা ঘোষণা করেন।

ঘোষিত তালিকায় সুনামগঞ্জ জেলার ১৩ জনের নাম রয়েছে।
১.মিজবাহ উদ্দিন আহমেদ পিতা আব্দুল খালিক আহমেদ গ্রাম মির্জাবাড়ী থানা ধরমপাশা ২.ডা:আব্দুল ছুরত পিতা গুল আহমেদ পীর গ্রাম রামপুর থানা জামালগঞ্জ ৩.ফয়জুননুর চৌধুরী পিতা ছদরুল নুর চৌধুরী গ্রাম ভাটিপড়া থানা দিরাই ৪.আব্দুল খালিক পিতা আজু মিয়া গ্রাম দৌলতপুর পো:বজেন্দ্রগঞ্জ থানা শাল্লা ৫.ফারুক চৌধুরী পিতা মকবুল হোসেন চৌধুরী গ্রাম হাসন নগর থানা সুনামগঞ্জ ৬.আজিজুর রহমান চৌধুরী পিতা আব্দুল গফুর চৌধুরী গ্রাম তাজপুর থানা জগন্নাথ পুর ৭.এম মনসুর আলী পিতা মনোয়ার আলী গ্রাম মধ্যশহর মহল্লা থানা সুনামগঞ্জ ৮.তজম্মুল হোসেন চৌধুরী পিতা তহুর উদ্দিন চৌধুরী গ্রাম পশ্চিম বাজার উত্তর আরফিন নগর মহল্লা থানা সুনামগঞ্জ ৯.এবিএম মনিরুদ্দিন চৌধুরী পিতা বারী চৌধুরী গ্রাম+পো:জহিরপুর থানা জগন্নাথ পুর ১০.আব্দুল মতিন পিতা বশির উদ্দিন আহমেদ গ্রাম খারিদির চড় পো:জাতুয়া থানা ছাতক ১১.আব্দুল হাই পিতা মাজেফর আলী গ্রাম মাধবপুর থানা ছাতক ১২.আবু হানিফা আহমেদ পিতা ফয়েজ আলী গ্রাম ষোলঘর থানা সুনামগঞ্জ ১৩.আব্দুস ছামাদ পিতা আপ্তার আলী গ্রাম সুনামগঞ্জ মধ্যশহর মহল্লা থানা সুনামগঞ্জ।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা প্রথম পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের নামের তালিকা প্রকাশ করেছি। ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতাবিরোধীরা রাজাকার-আল বদর নামে সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে লুটপাট ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরের আগে তাদের নামের তালিকা প্রণয়ন করা ছিল আমরা প্রতিশ্রুতি। সংসদেও এ বিষয়ে কথা বলেছিলাম। এরই আলোকে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে এই হিসাব পুরো জেলা বা উপজেলার নয় বরং আংশিক।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রেকর্ড সংগ্রহ করে রাজাকারদের তালিকা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকার সময় অনেক রাজাকার-আলবদরের রেকর্ড সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, রাজাকারদের নাম-পরিচয় নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্যই তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, আমরা নতুন করে কোনো তালিকা করিনি। পাকিস্তান সরকার কর্তৃক যারা নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং যেসব পুরনো নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত ছিল সেটুকু প্রকাশ করেছি। তৎকালীন বিভিন্ন জেলার রেকর্ড রুম থেকে এবং বিজি প্রেসে ছাপানো তালিকাও সংগ্রহের প্রচেষ্টা চলছে। যাচাই-বাচাই করে ধাপে-ধাপে আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে।

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে অনানুষ্ঠানিকভাবে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়। সেপ্টেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছিল। ওই সময় গ্রামে-গঞ্জে বেসিক ডেমোক্রেসি মেম্বার ছিল, তাদের রাজাকার বাহিনীতে লোক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। গ্রামের এসব মেম্বার এবং বিভিন্ন দল (যেমন জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, জামাতে ওলামা, কনভেনশন মুসলিম লীগ) যারা পাকিস্তানের সমর্থক- ওই রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়।

এসব দলের নেতা রাজাকার বাহিনীর পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তবে রাজাকার বাহিনী তৈরির পেছনে ছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা বাহিনী এবং তাদের জেনারেলরা।

ওই সব বেতনভুক্ত রাজাকার এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে যাদের বিরুদ্ধে দালাল আইনে মামলা হয়েছিল, তাদের নিয়েই রাজাকারের তালিকা চূড়ান্ত করেছে সরকার