পেঁয়াজের বাজারে সিঁদুরে মেঘ !!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:০২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

খাদিজা আকতার

বৈশ্বিক মহামারি করোনা যেমন মানুষের জীবন কেড়ে নিচ্ছে, ঠিক তেমনি পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি ব্যবসায়ী, উৎপাদনকারীদের এবং প্রান্তিক মানুষের জীবনের সুখ কেড়ে নিচ্ছে। পেঁয়াজ আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। তাই পেয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি আমাদের জীবনে অনেক প্রভাব ফেলে।

গত ১৪ই সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশে যেমন পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সাথে সাথে বিশ্ব বাজারেও পেঁয়াজের রপ্তানি
মূল্য অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানিকারক দেশ গুলো বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে আমদানিতে ঝুকে পড়ায় বিশ্ব বাজারে পেঁয়াজ এর রপ্তানি মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে সিন্ডিকেটদের সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব বাজারে প্রতি টন পেঁয়াজ এর রপ্তানি মূল্য ৩৫০ -৩৬০ ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬০-৪৮০ ডলার হয়েছে। ফলে চাহিদার যোগান দিতে ব্যবসায়ীদের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এর প্রভাব প্রান্তিক জনগনের উপর অনেক নেতিবাচক ভাবে পড়ছে। যারা দিন আনে দিন খায় তাদের জন্য এত উচ্চ মূল্য দিয়ে এই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনা অনেক দুস্কর হয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকার ও পারছে না নিজ দেশের উৎপাদন খাত থেকে চাহিদা মোতাবেক যোগান দিতে। কারণ আমাদের পর্যাপ্ত মজুদ নেই। করোনাকালীন এই সময়ে যেখানে অর্থনৈতিক সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে, সেখানে হঠাৎ পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি এ যেন মরার উপর খরার ঘা এর মত হয়েছে।

হঠাৎ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার ফলে যে শুধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নয়, সেই সাথে সাথে যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করেছে,তাদের ও অনেক ক্ষতি স্বীকার করতে হচ্ছে। হঠাৎ ঘোষণার ফলে সীমান্তে তাদের হাজার হাজার পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক আটকে পড়েছে। পচনশীল দ্রব্য হওয়ায় পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে, চুরি হচ্ছে, ড্রাইবার এবং খালাসিদের খাবার খরচ দিতে হচ্ছে।

এ সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য সরকার এর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের, উৎপাদনকারীদের পদক্ষেপ নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাৎককেও পন্যের সরবরাহ বাড়ানোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমদানি ঋন পত্র খোলার জন্য অন্য ব্যাংক গুলোকে নির্দেশ দিতে হবে। আমদানি নির্ভরতা কাটাতে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে হবে। মজুদ বাড়াতে হবে। যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করা হয়, সেসব দেশ যদি হঠাৎ তাদের পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয়, তখন
যেন পণ্য সরবরাহে ঘাটতি না হয়, অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে না হয়, সেই ভাবে সরকার কে আগাম প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে হবে। যেসব সিন্ডিকেট রা পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করে, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে তাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে যেন প্রতি বছর পেঁয়াজের সংকট আর দেখা না দেয়। বার বার জাতিকে যেন এই সিন্ডিকেট দের কাছে জিম্মি হতে না হয়। সকল দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ভালো রাখতে হবে। যেসব দেশ পণ্য আমদানি করে তাদেরকে পণ্য উৎপাদনকারীদের এবং তাদের রপ্তানি নির্ভর দেশগুলোর কথা ভেবে হুট হাট করে পণ্য রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়া যাবে না। আগাম সতর্ক করে দিতে হবে যেন উৎপাদনকারী ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পায় এবং তাদের রপ্তানি নির্ভর দেশগুলো পণ্যের ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারে।

শিক্ষার্থী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়