পাহাড়ী ঢলে বিধ্বস্ত বসতঘর; বর্ষায় মানবেতর জীবনযাপন

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৯:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০২০

মহেশখালী প্রতিনিধিঃ
তারও একটি ঘর থাকার কথা ছিলো। কিন্তু তা হয়নি। কপালে জুটেনি সাহায্য কারো। এমনকি মিলেনি প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মুজিববর্ষে দেয়া একটি ঘর। মহেশখালীতে নামে বেনামে অনেকে সরকারী বরাদ্দের ঘর পেলেও একটি ঘর মিলেনি গৃহহীন দিন মজুরের। চোখে পড়েনি জনপ্রতিনিধি, নেতা কিংবা এলাকার প্রভাব ও প্রতাপশালীদের। বর্ষার টানা বর্ষণে রীতিমত যুদ্ধ করেই কাটছে অসহায় মানুষটির জীবন ও জীবিকা। মানুষটির নাম দেলোয়ার হোসেন। বাবার নাম জাবের আহমদ। দুই মেয়ে, এক ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করছেন উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের নোনাছড়ি পূর্ব গোদারপাড়া গ্রামে। ছেলেটি কোরআনে হাফেজ এবং এক মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশোনা করে।

জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরুর দিকে টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢল নেমে দেলোয়ার হোসেনের পুরোনো মাটির দেয়ালের ঘরটি বিধ্বস্ত হয়। সে যাত্রায় স্ত্রী সন্তানরা মাটি চাপা পড়া থেকে রক্ষা পেলেও রক্ষা পায়নি বসতঘরটি। পুরোপুরিভাবে নষ্ট হয়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঘরটি মেরামতের খরচ যোগাতে না পারায় পলিথিন মুড়িয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

দেলোয়ার হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন মানুষের অধীনে দৈনিক মজুরীতে কাজ করেন তিনি। তা দিয়ে কোনমতে সংসার চলে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে কাজের চাহিদাও কমে যায়। ফলে অনাহারে অর্ধহারে দিনাতিপাত করছেন তারা। ঘর তৈরীর মত অর্থনৈতিক সামর্থ্য না থাকায় এই বর্ষায় ভিজে ভিজেই দিন পার করছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়েই সমস্যা হচ্ছে বেশী। ঘরের আশেপাশে খোলা থাকায় টানা বৃষ্টিতে তাদের ঠান্ডাজনীত রোগের দেখা দেয়। তাই তিনি প্রশাসনের কাছে ঘর নির্মাণের সহযোগীতা কামনা করেন।

দেলোয়ার হোসেনের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে ইয়াসমিন বলেন- বৃষ্টির পানিতে ঘরের দেয়াল ভেঙ্গে যাওয়ার পর আমরা ভালমত ঘুমাতে পারিনি, খেতে পারিনি, প্রায় সময় অসুখ হয়। এমনকি পড়ালেখাও করতে পারিনা। বৃষ্টিতে বই গুলো ভিজেছিল। তা অনেক কষ্টে শুকিয়েছি।

মহেশখালী দ্বীপে সরকারের বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকলেও গৃহহীন হয়ে বসবাস করছে অনেকেই। এছাড়াও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে সরকার এ দ্বীপে বহু সহায়তা প্রদান করেছে বলে জানা যায়। সেখানে গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেয়ার প্রকল্পটি অন্যতম। তাই অসহায় দেলোয়ার হোসেনকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।