পশ্চিমা আধুনিকতার জাঁতাকলে পিষ্ট সমাজ, অন্তরালে বাড়ছে পশ্চাৎপদতা ও বিপথগামিতা

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

—————————–

Modernism বা আধুনিকতা শব্দটির অর্থ নতুনত্ব,নবীনত্ব, অনভ্যস্ততা,recent ইত্যাদি।উইকিপিডিয়া অনুসারে, আধুনিকতা একটি আদর্শিক আন্দলোন যা ঊনবিংশ বা বিংশ শতাব্দিতে পশ্চিমা সমাজে সুদূরপ্রসারি ও ব্যাপক রূপান্তরের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক প্রবনতা ও পরিবর্তনের সাথে সাথে উত্থান লাভ করে।যেসব ফ্যাক্টর আধুনিকাতাবাদকে বর্তমান রূপ দান করেছে তার মধ্যে শিল্পভিত্তিক সমাজ গঠন, নগরায়নের দ্রুত বিকাশ উল্লেখযোগ্য।আধুনিকতাবাদ আলোকায়নের চিন্তাধারায় অভ্রান্তকে প্রত্যাখান করে এবং অনেক আধুনিকবাদী ধর্মীয় বিশ্বাসকে ত্যাগ করে।
বিভিন্ন দার্শনিক এটাকে নিদিষ্ট কোনো সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করেননি।তবে তারা এতটুকু বলতে চেয়েছেন,”পুরাতনকে নতুনভাবে ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্হাপন করাই আধুনিকতা।”

বর্তমান আধুনিকীকরণ তও্ব সম্পর্কে মূলত জার্মানি সমাজবিজ্ঞানি ম্যাক্স ওয়েবার(১৮৬৪-১৯২০) ধারণা দেন যে ধারণাটি জনপ্রিয় করে তুলেন হাভার্ডের সমাজবিজ্ঞানি থেলকট পার্সনস (১৯০২-১৯৭৯)। যারা ওয়েবারের ধারণাটি অনুবাদ ও ব্যাখ্যা করেন তাদেরকে আধুনিক মতবাদের প্রভক্তা বলা হয় woolf,jozce,eliot, pound, sievens,proust,mallarme.

আধুনিকতা আসলে শিল্প,সাহিত্যে,ব্যক্তিজীবনে ব্যাপক ভাবে প্রভাব ফেলছে।আধুনিকতার অন্তরালে ধর্মহীনতার ভয়াল রূপ আঁচ করা যাচ্ছে।আরোও রয়েছে ধর্মীয় ও মৌলিক অবক্ষয়। তাছাড়া আধুনিকতার এই যুগে আগের থেকে মানুষের অনেকটা অভাব মোচন হয়েছে সত্য তবে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ই হয়েছে বেশি।যা দিয়ে উপকারের চেয়ে অপকারই হচ্ছে বেশি।পঠন-পাঠনে, চলাফেরায় দেহ সত্তাকে আধুনিক করতে পারলেও হৃদয় বা অন্তরাত্নাকে সংকুচিত করেছে এ আধুনিকতা।যান্ত্রিক কাঠামোয় মানুষ হলেও উদার ও নৈতিকতাকে করছে একঘরে।ধর্মীয় চেতনাকে সেকেলে মনে করা হয়।বিবাহপূর্ব সম্পর্ককে মনে করা হচ্ছে আধুনিকতার ছোঁয়া।বিবাহকে মনে করা হচ্ছে বিরক্তিকর, একঘেয়েমি। যৌথ পরিবার প্রথাকে ভেঙে তৈরি হচ্ছে সিঙ্গেল ফেমিলি।এক্ষেত্রে ইউরোপ আমেরিকাকে আদর্শ হিসেবে নিচ্ছে সমাজের সর্বস্তরের লোকজন।সন্তান পিতামাতার সম্পর্ক হয়েছে Hi,hello,dad, mom. সালাম কালাম আজ হচ্ছে উপেক্ষিত।এসবই কি আমাদের আধুনিকতা? নাকি আধুনিকতার নামে সমাজে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পশ্চিমাদের উগ্র-আধুনিকতার শাখা-প্রশাখার প্রকাশ।আধুনিকতা সমাজের প্রতিটি স্তরে এমনভাবে প্রবেশ করছে যে,তার কড়াল থাবা কোনো কিছুই রেহায় পায় নি।রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, সংস্কৃতি এমন কি ধর্মীয় ক্ষেত্রেও এর বিচরন আমরা দেখতে পাই।শালাীনতাকে মনে করা হচ্ছে অজ্ঞাতা কিংবা সেকেলে।বাহ্যিক ডিসপ্লেকে মূল বিষয় হিসাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এক্ষেত্রে আমরা বেগম রোকেয়ার একটি উক্তি দিতে পারি।তাঁর মতে,” নারীদের পর্দা মোচন হয়েছে সত্য,তবে মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে পারে নাই;পোষাকের ক্ষেত্রে যত শর্ট পরিধানকে মর্ডানিং মনে করেছে,আঁটসাঁট স্লিম পোষাক যাই হোক অন্তত বাঙালির চেতনার সাথে যায় না।”
আর আমাদের সমাজের একদল তরুণ-তরুণীরা এখন নায়ক-নায়িকাদেরই তাদের মডেল হিসাবে বেছে নিয়েছে।আধুনিকতার সাথে মিডিয়ার কল্যাণ যত আপডেট হচ্ছে দূরপ্রাচ্যের নীতিকে তত সহজে আলিঙ্গন করছে আমাদের সমাজ।সামাজিক,পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যাচ্ছে।চলছে অসুস্থ প্রতিযোগীতা। আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে ডিভোর্সের হার।তথ্য-প্রযুক্তি যত সহজলভ্য হচ্ছে ছড়াচ্ছে তত বেশি মরণব্যাধি।খাদ্যে রেসিপি যেমন বাড়ছে তেমনি খাদ্যে ভেজালের পরিমাণও বাড়ছে। সারা বিশ্ব আজ আধুনিকতার থাবায় আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে। জনমানবের নৈতিকতাবোধ ধ্বংসের পথে বহুদূর পৌঁছে গেছে।মধ্যপ্রাচ্যের দিকে তাকালে তার ভূরি ভূরি প্রমাণ মিলবে।মানুষগুলো পরিণত হচ্ছে খেলনার পুতুলে। ছাত্র-ছাত্রীরা সহজে অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে।নীতিবাক্য নীতিবাক্যই থেকে যাচ্ছে। নৈতিক জগতে বিরাট শূণ্যতা তৈরি হচ্ছে।
আধুনিকতার নামে উগ্র-আধুনিকতার কবলে পরে আমাদের তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এগিয়ে যাচ্ছে।তরুণ প্রজন্মকে এ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে নৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা সবচাইতে বেশি জরুরি।
তাই আসুন,আমরা ধর্মীয় জ্ঞানে পরিপূর্ণ হয়ে আমাদের সমাজের কুলষিত আধুনিকতাকে আবার সজীব ও সুন্দর করে তুলি।
———————–
লেখক :
সাবিকুন নাহার
শিক্ষার্থী,আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়