পরীক্ষা ছাড়াই রেজাল্ট; ভর্তি পরীক্ষায় বাদ দেওয়া হোক জিপিএ।

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০২০

কাওসার আহমেদ:ঢাবি

“হাহাকার পৃথিবীর ক্রান্তিলগ্নে সবাই যে হাহাকার, ঠাই দাও প্রভু তব পদে, দাও মোরে বাঁচিবার।” মহামারী করোনা বিশ্বকে এক চমক দেখিয়ে দিল। ভারী হয়ে উঠেছে পৃথিবীর আকাশ। পুরো বিশ্বের যেন এক নিষিদ্ধ নগরী।বাংলাদেশেও করোনার আবির্ভাবের পর শুরুর দিকেই মার্চ মাসে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।কর্তৃপক্ষের বারবার খোলার ইচ্ছা থাকলেও মহামারীর তীব্র বাতাসের চাপে সে সিদ্ধান্ত যেন এগোতেই পারেনি। এতে ব্যাপক চাপ পড়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। মার্চ মাসে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়, আর এপ্রিল মাসেই ছিল এইচএসসি পরীক্ষা। তাই করোনা পরিস্থিতিকালে শিক্ষা সংবাদে শীর্ষ শিরোনাম দখল করে এইচএসসি পরীক্ষা।পরীক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষ অটোপাশের সিদ্ধান্ত নেয় এবং 6 অক্টোবর 2020 মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটোপাশের ঘোষণা দেন এবং জেএসসি ও এসএসসি রেজাল্টের গড় রেজাল্টই হবে এইচএসসির রেজাল্ট এই মর্মে ঘোষণা দেন। যদিও এ সিদ্ধান্তে ক্ষতির সম্মুখীন হয় পড়ুয়া,মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরা। সিদ্ধান্তটিও সমালোচনার উর্ধে নয়।তবে তার থেকেও এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে।বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় এসএসসি ও এইচএসসির নম্বর যোগ হয়ে আসছিল এ যাবৎ। যদি বরাবরের মতো এবারও ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ যোগ করা হয় তবে ভাগ্যের দেববলে ভালো রেজাল্ট করা শিক্ষার্থী আর পরিশ্রমী, প্রকৃত মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম বৈষম্য ধারণ করবে।বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা মানেই প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া। কিন্তু এবার সে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন কতটা বিশুদ্ধ হবে সেটা নিয়েই আশঙ্কায় দেশের মানুষ।তবে যদি ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ নম্বর যোগ না করে শুধু ভর্তি পরীক্ষার নম্বর বিবেচনা করে মূল্যায়ন করা হয় তবে বৈষম্য অনেকটা কমে আসবে বলে ধারণা করছেন শিক্ষাবিদরা। সকল মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও একই দাবি, ‘ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ নম্বর বাদ দেওয়া হোক’।এ বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সাথে নিউজ ভিশনের সাক্ষাৎকালে ময়মনসিংহ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের শিক্ষার্থী মোসাঃ অহনা রহমান নিউজ ভিশনকে জানান, “আমরা যারা পরিশ্রমী, এইচএসসিতে ভালো পড়াশোনা করেছি তাদের খুব ক্ষতি হয়ে গেল। পড়ালেখা না করেও ভাগ্যের দেববলে ভালো রেজাল্ট করা শিক্ষার্থীরা আজ অনেকেই জয়ের হাতে তালি দিচ্ছে। তবে এখন আমাদের শেষ ভরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা। ভর্তি পরীক্ষায় যেন জিপিএ রেজাল্ট বাদ দিয়ে শুধু মেধার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়, এটাই আমাদের দাবি।” সরকারি তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ আবির হোসেন নিউজভিশনকে বলেন,” ভর্তি পরীক্ষাই প্রকৃত মেধাবীদের একমাত্র ভরসা, ভর্তি পরীক্ষা যেন লটারি না হয় ,এটাই আমাদের মনের দাবি। দেশের সেরা মেধাবীদের প্রকৃত মূল্যায়ন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ না হয়ে হয় যেন বিশুদ্ধ, এমনটাই দাবি সকল শিক্ষার্থীদের। শুধু কর্তৃপক্ষের প্রশংসনীয় সিদ্ধান্তের প্রবল অপেক্ষায় আগামীর কর্ণধার, মেধাবী শিক্ষার্থীরা।