পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম মনিটরিং কাউন্সিলরদের নির্বাচনী ট্রামকার্ড-সিটি মেয়র।

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

শাহারিয়ার সানভি,সিটি প্রতিনিধি।

নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাজ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জনঅভিযোগ উঠেছে। ওয়ার্ডের নালা নর্দমা পরিস্কার করণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে নিয়োজিতদের কেউ কেউ কাজে অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারেও প্রশ্ন উঠেছে। নিয়মিত নালা নর্দমা পরিস্কার না করার ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টিসহ নানা দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত পরিচ্ছন্ন কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত ও কার্যক্রম তদারক করতে কাউন্সিলরদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এই পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম তদারক করে অর্জিত জনআস্থা আগামী নির্বাচনে বিজয়ের ট্রামকার্ড হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবকরা কর্মবণ্টন অনুযায়ী কাজ করছে কিনা, নিয়মিত কাজে উপস্থিত হচ্ছে কিনা এবং সঠিক ভাবে অর্পিত কাজ নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করছে কিনা এ সমস্ত বিষয়গুলো সরাসরি মনিটরিংয়ে স্ব স্ব ওয়ার্ড কাউন্সিলরদেরকে সচেষ্ট থাকার জন্য সিটি মেয়র নির্দেশনা প্রদান করেছেন। আজ দুপুরে থিয়েটার ইন্সটিটিউট অডিটোরিয়ামে চসিক পঞ্চম নির্বাচিত পরিষদের ৫০তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র এই নির্দেশনা দিয়েছেন। নগর সেবায় সিটি কর্পোরেশনের প্রত্যক্ষ নাগরিক সেবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম। এই সেবার মধ্য দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে আগামী নির্বাচনে সফলকাম হওয়ার অন্যতম নিয়ামক বলে তিনি কাউন্সিলরদেরকে পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আগামী ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান কাউন্সিলরদের অনেকেই নির্বাচন করতে পারেন। তাই নির্বাচন পূর্ববর্তী এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। স্ব স্ব ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম নিয়ে ইতোমধ্যে জনঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের বর্ষায় নগরীর ওয়ার্ড এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতার জন্য জনগণ নালানর্দমা পরিস্কার না করার বিষয়টিকে সামনে এনেছে। ডেঙ্গু রোগ বাহক এডিস মশার বিস্তারের জন্য অপরিচ্ছন্ন নালা নর্দমাকে তারা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাই কাউন্সিলরদেরকে জনআস্থা অর্জন করতে হলে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কাজ করতে হবে। এ খাতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করলে জনগণের কাছে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কাজ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। তাই কাউন্সিলরদেরকে ওয়ার্ডে দায়িত্বরত সেবকদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম সরাসরি মনিটরিং করতে হবে। একই সাথে বিভিন্ন সেবা সংস্থা কর্তৃক বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকান্ড সৃষ্ট ভোগান্তির ব্যাপারে জনগণকে বোঝাতে হবে। পাশাপাশি স্ব স্ব ওয়ার্ডে সিটি কর্পোরেশন বাস্তবায়িত উন্নয়ন কর্মকান্ডের সচিত্র প্রতিবেদন প্রদর্শন করতে হবে। সভায় আগ্রাবাদ এক্সেস রোড ও পিসি রোডের চলমান দুই লটের সময় বর্ধিত করণ, চলমান আমবাগান, ডিটি রোড,আরাকান রোড,হাটহাজারী রোড,বায়েজিদ বোস্তামি রোড,এয়ারপোর্ট রোডের কাজ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্নকরণ, ওয়ার্ড এলাকায় শতভাগ আলোকায়ন নিশ্চিত বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে চসিক প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা মো সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী লে কর্ণেল মহিউদ্দিন আহমেদ, নতুন দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সোহেল আহমেদ, সিএমপি উপপুলিশ কমিশনার শ্যামল কুমার নাথ, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাশেমসহ সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা প্রতিনিধি ও চসিক বিভাগীয় কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।