পরশ্রীকাতরতার অবাধ ও উন্মুত্ত প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে ফেইসবুক

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৯

——————-
সামাজিক যোগাযোগ, ভাববিনিময়, চিন্তা-চেতনা ও আদর্শ প্রচারের দ্রুত প্রভাব বিস্তারকারী মাধ্যম ফেসবুক ৷ এর পরিধি বিশাল ও বিস্তৃত হওয়ায় অনেকটা অনিয়ন্ত্রিত ৷ এখানে কেউ নেই কাউকে নিয়ন্ত্রণ করার ৷ তাই যার যা খুশি লিখছেন, কমেন্টস করছেন। যার যা ইচ্ছে শেয়ার করছেন ৷ এ অনিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীনতা ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অতিমাত্রায় স্বেচ্ছাচারিতা ও অস্বচ্ছতার দিকে ধাবিত করছে৷

ফেসবুকের মাধ্যমে সত্যের প্রচার, মানুষের ইতিবাচক দিকগুলোর চর্চা হবে; এটাই সবার কাম্য ৷ মিথ্যা, অসত্য ও নেতিবাচক দিকগুলোর চর্চা কারও কাম্য নয় ৷ যা শোভন, সুন্দর, কল্যাণকর, দেশ-জাতির উপকারে আসবে তারই আলোচনা হবে, তারই প্রচার হবে; এ প্রত্যাশা সবার ৷ কিন্তু এখন ঘটে চলছে এর ব্যতিক্রম ৷ সত্যের তুলনায় মিথ্যার প্রাধান্য ৷ কল্যাণকরের তুলনায় অকল্যাণের জোর ৷ ইতিবাচক থেকে নেতিবাচকের আলোচনা বেশী ৷ বাস্তবতার তুলনায় অবাস্তবতার অধিক প্রভাব ৷ একে অন্যের ছিদ্রান্বষণে তৎপর ৷ ভিন্ন ব্যানার ও ভিন্ন ধারার তুলোধুনো করনে ব্যতিব্যস্ত ৷ অগ্রজ অনুজের কোন ভেদাভেদ নেই ৷ সিনিয়র জুনিয়রের পার্থক্য করা হয় না ৷ পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, ভালোবাসা, মায়া মমতার অভাব রয়েছে এখানে। এক কথায় পরশ্রীকাতরতার অবাধ ও উন্মত্ত প্লাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ফেইসবুক ৷ সত্যকে চাপা দিয়ে মিথ্যাকে এমন রসাল ও জোরালো ভাষায় প্রকাশ করা হয় যে, মিথ্যা হয়ে যায় সত্য, আর সত্য হয়ে যায় মিথ্যা ৷

এছাড়া আরও দেখা যায়- যার যে অবদান তা প্রচার না করে অতিরঞ্জিত করা হয় ৷
ফেসবুকে তিলকে তাল বানানো হয় ৷ তালকে তিল ৷ নায়ককে বানানো হয় খলনায়ক ৷ খলনায়ককে দেয়া হয় মূল নায়কের আসন ৷ তিলকে তিলের স্থানেই রাখতে হবে ৷ তিল তো আর তাল হতে পারে না ৷ পার্শ্বনায়ক মূলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করতে পারে না ৷

যার যে অবদান তার স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে ৷ প্রশংসাযোগ্য কাজের প্রশংসা না করাই হবে সঙ্কীর্ণমনার পরিচয় ৷ প্রশংসারও একটা পরিসীমা আছে ৷ আছে সীমাবদ্ধতাও। প্রশংসা, গুণকীর্তন যদি বাস্তবতা বিবর্জিত হয়, তবে তা হবে অন্যায়, জুলুম ৷ গুণকীর্তন প্রশংসিতের কর্মপরিধির সীমানা অতিক্রম করাও কিন্তু নিন্দনীয় ৷

একজন মানুষের কর্মই তার মূল্যায়নের মাপকাঠি ৷ যাদের ২৪ ঘন্টার জীবন আমাদের সন্মুখে বিদ্যমান, যাদের সকাল-সন্ধার কর্মের প্রত্যক্ষদর্শী তাদের সম্পর্কে যখন অবাস্তব, অতিরঞ্জিত গুণকীর্তনমালা দেখা যায়, তখন না হেসে পারা যায় না ৷ আসুন যা সত্য ও বাস্তব তার চর্চা করি ৷ নেতিবাচক দিকের চর্চা নয়, ইতিবাচককে গ্রহণ করি ৷ কাঁদা ছোড়াছুড়ি নয়, পুস্পবিনিময় করি ৷ হাতে হাত ধরে সুভ্রাতৃত্বের মালা পরিধান করি ৷

——————–
লেখক :
আব্দুল মুতালিব ভুইয়া
জেলা প্রতিনিধি,
নিউজ ভিশন,সুনামগঞ্জ :