পত্নীতলায় ছাত্রদল নেতা কর্তৃক সাংবাদিকের পিতাকে মারধর

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার(নওগা)

নওগাঁর পত্নীতলায় এক ছাত্রদল নেতা কর্তৃক পূর্ব শত্রুতার জেরে ইন্টান্যাশনাল হিউমান রাইটস কমিশন বাংলাদেশ শাখার অন্যতম সদস্য ও নজিপুর প্রেস ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলামের পিতাকে মারধর,টাকা ছিনতাই করে প্রকাশ্যে গুম,হত্যা বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি প্রদাণ করার ঘটনা ঘটেছে।
জানাযায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক ৩টা নাগাদ তার বাবা বাবলুর রশিদ শহরের নতুনহাট নামক স্থানে প্রধান সড়কে পৌঁছা মাত্র ছাত্রদল নেতা ও তার পরিচালিত একটি কিশোর যুব গ্যাং বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে লাঠি সোটা হাতে নিয়ে এলোপাথারীভাবে মারপিট করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিলাফোলা জখম করে।ছাত্রদল নেতা তার হাতে থাকা ভারি কাঠের লাঠি দিয়ে উভয়ই পা পঙ্গু করার উদ্দেশ্য আঘাত করলে হাড় ভাঙ্গা রক্তাক্ত যখম হয়।ওই সময় তার মা সুলতানা বেগম এগিয়ে আসলে পর্দাশীল ওই মহিলাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করার মতো ঘটনাও ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা কাছাকাছি আসতে থাকলে,তারা সাথে থাকা ৫০,৫৭৫ টাকা ছিনতাই করে ও বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বাড়ি ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া সহ হত্যা করে লাশ গুম করে দিবে বলে হুমকি প্রদান করে চলে যায়।

ছাত্রদল নেতা মামুন বিশ্বাস উপজেলাধীন শিহাড়া ইউপির বিএনপি সমর্থিত সাবেক চেয়ারম্যান নওশাদ আলী বিশ্বাসের পুত্র। বিএনপি সরকার আমলে মাদক চোরাকারবারী,জঙ্গী সহায়তা,টেন্ডারবাজী,চাঁদাবাজীর উপজেলা প্রাণকেন্দ্র নজিপুরের অন্যতম কিশোর সম্রাট ছিলেন মামুন বিশ্বাস। নাম প্রকাশ না করার শর্তে, কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন মামুন এখন মাদক বিক্রয়ের সাথে জড়িত কী না তা জানিনা , তবে সে নিজে নিয়মিত নেশা করে।
একদিকে তার পিতা যেমন বিএনপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন,অন্যদিকে সে ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা পরিচয়ে অপকর্ম করে বেড়াতো। পূর্বে সুকৌশলী মামুন বিশ্বাসকে নিয়ে “ধরি মাাছ না ছুঁই পানি” শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য রবিউল ইসলাম তথ্য সংগ্রহকালীন তার বাহিনীরা কোন ভাবে জেনে যায় । মামুন বিশ্বাস একসময়ের অনুসন্ধানী এই প্রতিবেদককে আগুন নিয়ে খেলো না, ফল ভালো হবে না,গুম করে দিবো,পরিবার লাশও খুজেঁও পাবে না মূলক হুমকি ধামকি প্রদান করে। পরবর্তীতে রবিউল সাধারণ ডায়েরি করার জন্য থানায় গেলে থানার ফলকেই মামুন ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা এই ঘটনাকে একটি ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে ,ভবিষ্যৎ এ এমন হবে না বলে ক্ষমা চাই , রবিউল থানা চত্তর হতেই ফিরে আসে।

বুধবার ওই জেরেই ,রবিউল কোথায়? প্রশ্নের জবাব না দেওয়াই তার বাবাকে মারপিট করা হয়। রবিউল ইসলাম জানান,ঘটনার সময় আমি বিশেষ কাজে রাজশাহী ছিলাম। আমার সহকর্মী, দৈনিক জয়পুরহাট খবর প্রতিনিধি সাংবাদিক মাহমুদুন নবীর মাধ্যমে মোবাইল যোগে ঘটনা জানতে পারি,তারায় বাবাকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়। আঘাত তীব্রতর। তারা হত্যা অথবা পঙ্গু করার উদ্দ্যেশেই হামলা করেছে। চিকিৎসক পরীক্ষা নীরক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন।করোনা পরিস্থিতির জন্য হাসপাতালে না রেখে বাসা থেকেই চিকিৎসা করা শ্রেয় মনে করছি।আমি বাদী হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় একটি এজাহার জমা দিয়েছি। আশাকরি ,প্রশাসন জোরালো পদক্ষেপ নিবেন।

পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ পরিমল চক্রবর্তী জানান,রবিউল ইসলামের দায়ের করা এজাহারটি নথিভুক্ত করা হয়েছে যার মামলা নং ২১,তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ছাত্রদল নেতাকে অচিরেই গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।