পটিয়ায় আ’লীগ নেতার পদত্যাগের নেপথ্য কারণ কী??

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ২:২৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

জে.জাহেদ,চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এক সভাপতির পদত্যাগ নিয়ে নানা গুঞ্জন আর মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে দলীয় রাজনীতির পরিমণ্ডলে ও বাইরে নানা কানাঘুষা চলছে।

যদিও ইউনিয়ন আ’লীগ নেতাকর্মীরা বলেছেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন হাইদগাঁও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি জিতেন কান্তি গুহ। তার পদত্যাগের পরপরই সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এতে আওয়ামীলীগ নেতা মো. মাহফুজুল হক হাফেজ কে আহ্বায়ক ও বিএম জসিম, ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম জুলু ও রঞ্জিত সেন যুগ্ম আহ্বায়ক করে নাম ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপেম্বর) প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পটিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম. শামসুজ্জামান চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশিদ।

এদিকে, ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতির পদত্যাগ নিয়ে অনেকে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। স্থানীয় আ’লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে এনিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। তার পদত্যাগের বিষয়টি ব্যক্তিগত কারণ বলা হলেও মূলত এর অভ্যন্তরে নাকি ছিল নানা কাহিনী। জানা যায়, ১২নং হাইদগাঁও ইউনিয়নে একটি সরকারী প্রকল্পের কাজে অনিয়মে সুবিধা আদায় করার দায়ে দলীয় চাপে তিনি পদত্যাগ করেছেন। তবে দলীয় নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। এছাড়াও কি এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে হঠাৎ ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি পদত্যাগ করলেন বিষয়টি জানতে গেলে উঠে আসে বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের ৬৮ হাজার ৩৮টি গ্রামে দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারকে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন সরকার। যা বাস্তবায়ন করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পের অধীনে পটিয়ার হাইদগাঁও ইউনিয়নেও বরাদ্দ আসে দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারদের মাঝে ২২টি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেবে সরকার। ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি জিতেন কান্তি গুহ এলাকায় এসব উপকারভোগী কারা হবেন তা তদারকি করছিলেন। এমনকি গৃহহীন কিছু পরিবারকে একেকটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়ার কথা বলে প্রতি পরিবার থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় একটি অসাধু চক্র।

সরকারি প্রকল্পে সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এমন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করার বিষয়টি একাধিক সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ শামশুল হক চৌধুরীর কাছে বিষয়টি কানে গেলে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিতেন কান্তি গুহকে পদত্যাগ করতে বলেন। এমনকি দলীয় বদনাম গোছাতে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের এ নাটক সাজানো হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে, পটিয়া উপজেলার মৃত রতন চৌধুরীর ছেলে পার্থ চৌধুরী অভিযোগ করে জানান, হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিতেন কান্তি গুহ এর আপন ছোটভাই তাপস কান্তি গুহ বাড়ি পেতে হলে তার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা দাবি করেছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকার গৃহহীনদের যে বাড়ি নির্মাণ করে দিচ্ছেন তা পেতে এই টাকা অফিসিয়ালি খরচ বলেও জানিয়েছেন। এ উদ্দেশ্যে পার্থ ইতিমধ্যে তাপসকে ১০ হাজার টাকাও দিয়েছেন। যার একটি অডিও ভিডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

মূলত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিতেন কান্তি গুহ
এর আশ্রয় প্রশ্রয় ও ক্ষমতার অপব্যবহারে তার আপন ছোটভাই ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে পরিচালিত আশ্রয়ণ প্রকল্পে সুবিধা আদায় করছেন। যদিও সরকার মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের প্রতিটি গ্রামে গৃহহীন পরিবারকে বিনামূল্য ঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি জিতেন কান্তি গুহ বলেন, আমার কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে নতুন কমিটি করা হয়। আমি ৭ বছর সভাপতি ছিলাম। অন্য কোন অনিয়ম দুর্নীতির কারণে কমিটি বাতিল করা হয়নি। বরং সাংগঠনিক কারণে হয়েছে। সরকারি যে বাড়ি নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে তা টেন্ডার হয়ে নিয়ম মতো হবে।’

পটিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আ ক ম সামশুজ্জামান চৌধুরী বলেন, সভাপতি জিতেন কান্তি গুহ নিজেই পদত্যাগ করায় আমরা হাইদগাঁও ইউনিয়নে নতুন আহ্বায়ক কমিটি দিয়েছি। তিনি একাধারে বহু সংগঠনের দায়িত্ব পালন করায় দলে সময় দিতে সমস্যা হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন। এখানে অন্য কিছু না।’

প্রকৃতপক্ষে, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানগণ সুবিধা ভোগীদের নির্বাচন করে তালিকা তৈরী করেন। এই তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। জেলা প্রশাসক মাঠপর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে তালিকা যাচাই বাছাই করে সুবিধাভোগীদের তালিকা চুড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে অর্থ বরাদ্ধের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে গৃহনির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানগণ স্বস্ব ইউনিয়নে সমন্বয় ও তদারকীর কাজ করেন।