নেশার টাকার দাবিতে যশোরে ছোট ভাইয়ের গুলিতে বড় ভাই নিহত

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

জেমস আব্দুর রহিম রানা, স্টাফ রিপোর্টার :

যশোরের বন্দর নগরী বেনাপোলে নেশার টাকার দাবিতে আপন ভায়ের হাতে খুন হয়েছে রাসেল নামে আরেক ব্যবসায়ী ভাই। বুধবার সকাল ১০ টার সময় এ ঘটনা ঘটে কাগজপুকুর গ্রামে তাদের নিজ বাড়িতে।
জানা যায়, মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে রাসেল নামে এক কসমেটিক্স ব্যবসায়ী যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে একাধিক মামলার আসামি ও বেনাপোলের এক সময়ের আতঙ্ক সন্ত্রাসী আমিরুল গ্যাংয়ের আমিরুলের দেহরক্ষী আমজাদ হোসেন নামে এক কুখ্যাত সন্ত্রাসী। ঘটনাটি ঘটেছে বেনাপোল পোর্ট থানাধীন কাগজপকুর গ্রামে। তবে আপন ভাইকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল চেকপোস্ট সাদীপুর রোডের পাকা রাস্তার উপর থেকে আমজাদ হোসেনকে পিস্তল গুলি ও চাকু সহ আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ।নিহত রাছেল হোসেন বেনাপোল বাজারের নুর শপিং কমপ্লেক্সের একজন কসমেটিক্স ব্যবসায়ী।
নিহত রাছেল হোসেন (৩৭) ও হত্যাকারী আমজাদ হোসেন (৩২) তারা দু’জনই বেনাপোল পোর্ট থানাধীন কাগজপুকর গ্রামের ইদ্রিস আলী ইদুর ছেলে।

নিহতের চাচা আব্দুল কারিম বলেন, মঙ্গলবার রাত্রে আমজাদ নেশার জন্য তার ভাই রাসেলের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, এরই সূত্র ধরে বুধবার সকাল ১০ টার সময় প্রথমে নিহত রাসেলের মেয়েকে অস্ত্রেরমুখে জিম্মি করে। এ সময় মেয়েকে সন্ত্রাসী ভাইয়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে আনতে গেলে সন্ত্রাসী আমজাদ রাসেলকে লক্ষ্য করে গলায় ও শরীরে দু’টি গুলি করলে এতে রাসেল মাটিতে লুটিয়ে পড়লে, স্থানীয় এলাকাবাসি তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথিমধ্যে সে মারা যায়।
স্থানীয়রা জানান, বেনাপোল শার্শার কুখ্যাত সন্ত্রাসী একাধিক মাদক ও হত্যা মামলার আসামি নিজের বোমায় নিজে নিহত আমিরুলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল এই আমজাদ হোসেন। আমিরুল নিহত হওয়ার পর থেকে সে কাগজপুকুর বেনাপোল শার্শা এলাকায় ছিনতাই সহ নানা ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ডন্ডের সাথে জড়িত ছিল।

বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আব্দুল ওহাব বলেন, স্থানীয় লোক মারফত ওই যুবককে আমরা আটক করি। স্থানীয় লোক বলে সে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছে। পরে তাকে আটক করে নাম জানতে চাইলে সে তার নাম আলী হোসেন বলে জানায়। এসময় তার নিকট একটি ছোট চাকু পাওয়া যায়। আমরা নিশ্চিত হতে না পেরে ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়ার পর পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এঘটনায় নিহতর বাড়িতে চলছে শোকের ছায়া নেমে আসে । শত শত লোক নিহত রাসেলকে দেখতে তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে ।

বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই রোকনুজ্জামান বলেন, আমজাদ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব মামুন খানের নেতৃত্বে তাকে সীমান্তের সাদিপুর রোডের পাকা রাস্তার উপর থেকে আটক করা হয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন খান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, আসামি এখন থানা হাজতে আছে । তার নিকট থেকে একটি পিস্তল ৩ রাউন্ড গুলি, একটি চাকু ও ৩ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়াও তিনি আরও বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর হয়েছে। এবিষয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন।