নীলফামারীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ।

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ২:০১ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

সাগর চন্দ রায়, নীলফামারী :

নীলফামারী জেলা জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের দক্ষিন পাইটকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্লিপ (বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা) ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, প্রাক-প্রাথমিকের কক্ষসজ্জা টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
ধর্মপাল ইউনিয়নের পাইটকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ আসে স্লিপের জন্য ৬৫ হাজার, প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ১০ হাজার টাকা। এই বরাদ্দকৃত টাকার সম্পূর্ণ কাজ যথাসময়ের ভেতরই সমাপ্ত করার নির্দেশনা আছে বলেও জানা গেছে।
কিন্তু প্রধান শিক্ষক স্কুলে বরাদ্ধেকৃত টাকা পেলোও স্কুলের কাজে ব্যবহার করেনি। বরং টাকা তুলে আত্নাসাতের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসীরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় বিদ্যালয়ে সরকারি বরাদ্দ আসে স্লিপের জন্য ৬৫ হাজার টাকা। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বরাদ্ধকৃত টাকা উত্তোলনের এক মাস পেরিয়ে গেলোও কাজ করেনি ।

এলাকাবাসীর দাবি, গত বছরে সরকারের বরাদ্ধকৃত টাকা স্কুলের কোন কাজে ব্যবহার না করায় শিক্ষক মন্ডলির এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে মৌখিক ভাবে অবগত করলে। প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিয়ার রহমান দ্বায়সাড়া ভাবে দশটি ফ্যান এনে স্কুলে লাগিয়ে দেন। গত বছরের বরাদ্ধকৃত টাকা দিয়ে ও তিনি নাম সাড়া কাজ করেছেন।অবশেষে বাকী টাকার আর কোন হিসাব পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবেদ আলী বলেন, বিদ্যালয়টির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। আমি যকন সভাপতির পদে ছিলাম তখন বিদ্যালয়টি বেসরকারী ছিলো তবুও শিক্ষার মান খুব ভালো ছিলো। বর্তমান প্রধান শিক্ষক আসার পর থেকে যেসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রধান শিক্ষক এলাকার কাউকে মূল্যায়ন করে না। এমনকি বিদ্যালয়ের সকল বরাদ্দ আত্মসাৎ করেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। আমরা এর প্রতিকার চাচ্ছি। বিদ্যালয়টি আমরা করেছি কিন্তু এভাবে ধ্বংস হোক তা আমরা চাই না।

বর্তমান সরকার দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে শিক্ষার ব্যাপারে নিজেকে উৎসর্গ করে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ঠিক সে সময় দক্ষিন পাইটকাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ জসিয়ার রহমানের টাকার অংক গুনতে যোগ সাজস করছে।

প্রধান শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমান করোনার কারনে আমি কাজ করতে পারছি না। আমি চেকটি এটিও স্যারের কাছে জমা রেখেছি। পরিস্থিতি ভালো হলে আমি স্কুলের কাজ করবো।

এ বিষয়ে প্রাথমিক জলঢাকা উপজেলা শিক্ষা অফিসার নুর মোহাম্মদ সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কাজগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছিলাম। আমার কাছে কোন চেক জমা রাখিনি।