নিরাপদ বাংলাদেশ চাই

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

—————–

সারাদেশের সচেতন মানুষ ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার দাবী জানাচ্ছেন। সুপুরুষ, সচেতন নারী সহ সব শ্রেণী ও পেশার মানুষই এর বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
অনেকে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন বা মানব বন্ধনে অংশ নিয়ে ধর্ষকদের ফাঁসি দাবি করছেন।
আমি একজন পুরুষ। নারী গর্ভে আমার জন্ম। একজন নারী আমার জন্মদাত্রী মমতাময়ী মা।
আমি পুরুষ হয়ে নারীর পোষাকের শালীনতার কথা বলে কোনও বিকৃত মনের কামবাসনা উস্কে দেবো এমনটা মূর্খ অন্তত আমি নই। আমি পুরুষের মন মানসিকতা শালিন রাখতে, দৃষ্টি সংযত করার ওপরই জোর দেবো। এইদেশে নাবালক বালিকাও ধর্ষণ হয়, বোরকাপড়া মেয়েও ধর্ষণ হয়! এখানে পোষাকের শালীনতার কথা না বলে নষ্ট মন মানসিকতার পরিবর্তনের কথা-ই আমি বলতে চাই। পুরুষদের মন মানসিকতা শালীন রাখতে, দৃষ্টি সংযত করে চলার কথা জোর দিয়ে বলতে চাই।
একজন নারী যদি অশালীন চলাফেরা করে আর একজন পুরুষ যদি সেই নারীকে কামদৃষ্টিতে দেখে তবে উভয়ই অপরাধী। শুধু শুধু নারীকে দোষ দেয়াটাও অপরাধ। আর ইভটিজিং বা ধর্ষণ এসবতো নষ্ট, নোংরা মন মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। এসব নষ্ট, কুলাঙ্গারদের পক্ষ না নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতর দ্রুত শাস্তির পক্ষে এগিয়ে এলেই সমাজের এসব ব্যাধী রোধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র খুব একটা আমি দেখিনা। তবে সাকিব খান ছাড়া বর্তমান সময়ের প্রায় সব নায়কই আনফিট বলে মনে হয়। কারও ছাবলামো অভিনয় তো কারও ক্যাবলামো কথার ধরণ ; এই হচ্ছে দেশের সাম্প্রতিক চলচ্চিত্রের অবস্থা।
সম্প্রতি এক ক্যবলা নায়ক, যে স্পষ্ট করে শুদ্ধভাবে কথা বলতেই জানেনা! সে নারীদের পোষাককে ধর্ষণের জন্য দায়ী করে বক্তৃতা দেন! সে যে একটা কত বড় আহম্মক তার কথা- বার্তাতেই সে প্রমাণ করে দিয়েছে।
মেহের আফরোজ শাওন এক ফেসবুক বার্তায় বলেছেন ‘আমি মেহের আফরোজ শাওন, বাংলাদেশের একজন চলচ্চিত্র ও মিডিয়াকর্মী এবং স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের সচেতন নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের নারীদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং অসংলগ্ন বক্তব্য সম্বলিত ভিডিও বার্তা দেয়ার জন্য অনন্ত জলিলকে বয়কট করলাম।’
অনেক ধন্যবাদ মেহের আফরোজ শাওনকে।
আমি মনে করি ক্যাবলা কথাবার্তার ছ্যাবলা এই নায়ককে সবারই বয়কট ও তিরস্কার করা উচিত। অশ্লীলতা পোষাকে নয়, থাকে নষ্ট মানসিকতার মানুষদের মগজে। এসব নষ্ট মানসিকতার কুলাঙ্গারদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার।

নষ্ট কীট কুলাঙ্গার আর দুষ্টের দমন অতীব দরকার। শুধু পুলিশের হাতে ধরা পড়া পর্যন্তই হলে-ই হবেনা, দ্রুত সময়ে ফাঁসি/দৃষ্টান্তমূলক কঠোরতর শাস্তিও অতীব প্রয়োজন। যা দেখে আর কেউ অপরাধ করতে সাহস না পায়। দেশের উন্নয়নের কথাতো অনেক শুনছি এবার বন্ধ হোক নারী নির্যাতন আর ধর্ষণ। আমরা ধর্ষিত বাংলাদেশ চাইনা। নারী, শিশু ও আপামর শান্তিপ্রিয় জন সাধারণের নিরাপদ বাংলাদেশ চাই।

– রুদ্র অয়ন
কলামিস্ট ও লেখক
ঢাকা, বাংলাদেশ