ঢাকা১৮ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নারীদিবস ও পরিস্থিতি

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন

মার্চ ৯, ২০২১ ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মাহফুজুর রহমান :

বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সকল দেশে সরকারি ও বেসরকারী সংস্থাগুলা প্রতি বছরের মতো এবারও নারী দিসব পালন করেছে। নারী দিবসের প্রতিপাদ্য ও নারী দিসবকেন্দ্রিক নানাধরণের আনুষ্ঠানিক বিষয়গুলি সময় এবং পরিস্থিতির সাথে অতটাও পরিবর্তনীয় নয়। কিন্তু নারীর সামগ্রিক জীবনপরিক্রমায় বৈচিত্র্যময় গতিবিধির সার্বিক বিষয়গুলি সর্বদাই পরিবর্তনশীল। প্রতিবছর নারী দিবসকে কেন্দ্র করে অসংখ্য সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সংবাদপত্র থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং অনলাইনে দিবসটি নিয়ে নানারকম লিখা ও মতামত প্রকাশিত হয় এবং অনেক আলোচনা- সমালোচনা ও সুপারিশও বর্ণনা করা হয়।
স্বতন্ত্র সত্ত্বায় নারী
যদি নারীকে শুধুই ‘প্রজননে’ ভূমিকায় দেখা হয়, তাহলে সমাজব্যবস্থায় নারীর সার্বজনীনতা সাংঘাতিক প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আবার যদি নারীকেই সমাজের সকল পুরুষতান্ত্রিক কাজের ‘সহযোগী’ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে নারীর স্বতন্ত্র অস্তিত্বই একপেশে ও নির্ভরশীল হয়ে যায়। আজকের পুঁজিবাদী পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় নারীকে এভাবেই মূল্যায়ন করা হয়।
মূল সমস্যা
আজকের এই পৃথিবীতে, আইনের প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সত্ত্বেও, নারীদেরকে প্রতিণিয়ত ২ টি অপরিবর্তিত এবং সার্বজনীন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় প্রতিণিয়ত। এক. পুরুষতান্ত্রিক যৌনতাকেন্দ্রিক সমাজ ব্যবস্থা। দুই. লিংগ বিভাজনভিত্তিক ব্যবস্থা। এ সমস্যাগুলি কিন্তু বলতে গেলে সার্বজনীন এবং সামাজিকভাবে আমূলে প্রোথিত।সমাজ বা পৃথিবীর যেকোনো পরিস্থিতি এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নারীদের চ্যালেঞ্জকে এই দুটি প্রধান সমস্যাতে বিস্তৃত থাকতে দেখা যায়।
অবস্থান পরিস্কার করা
নারীদিবসকেন্দ্রিক ‘এক দিবস’ ভিত্তিক নারীর পক্ষে জনমত তৈরির প্রবণতা নারীদের পরিস্থিতি এবং অবস্থাকে কতটুকু আংগুল তুলে দেখিয়ে সেটির সমাধানের পথ বাতলে দিচ্ছে, সেটিও কিন্তু একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। এখনকার সমাজব্যবস্থা নারীকে কেনইবা শুধু ‘সহযোগী’ হিসেবে দেখা হবে, এটি নিয়েও কথা বলার এবং একটি স্বচ্ছ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের চিন্তা করা অধিক জরুরী হয়ে পড়েছে।
কাঠামোভিত্তিক অগ্রসরতা
শুধু বক্তব্যে বা লিখার মাধ্যমে মত প্রকাশের মাঝে নারীর সত্যিকার পরিস্থিতি বর্ণনা করার চেয়ে সেটিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক একটি রুপ দেয়া সময়ের দাবী। প্রতিণিয়ত যৌন হয়রানি এবং অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনার কারণ আর বিচারের খোঁজে হতাশ হওয়ার চেয়ে কিভাবে বুনিয়াদি শিক্ষায় এবং সামগ্রিক সামাজিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন করা যায়, এটি নিয়েও ভাবতে হবে। যৌন হয়রানি থেকে রক্ষায় নারীকে আইনের ছায়ায় নিজেকে সঁপে দেয়ার যে দীর্ঘসূত্রতা সেটি থেকে সড়ে এসে নারীদেরকে স্বতন্ত্র সামাজিক ভিত্তি গড়ে দিতে হবে।
সামগ্রিক পরিবর্তন
কথায় আছে, সিস্টেমের মধ্যে থেকে সিস্টেমকে পরিবর্তন করা যায় না। ঠিক একইভাবে, পুরুষতান্ত্রিকতার মধ্য দিয়ে পুরুষকেন্দ্রিক সমাধানকে পরম মুক্তির পাথেয় হিসেবে চিন্তা করা থেকে বেরিয়ে এসে নারীদের জন্য একটি পৃথক ও এককেন্দ্রিক গণজাগরণ গড়ে তুলতে হবে। সমাজের সামগ্রিক পরিবর্তন সম্ভব কিনা, এটি চিন্তা করার চেয়েও নারীকেন্দ্রিক সমানাধিকারের সমাজব্যবস্থার দিকেও লক্ষ্য করতে হবে।
নারীচিন্তাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা
যেকোনো সামাজিক ও জাতীয় পরিবর্তন আনতে হলে শিক্ষাব্যবস্থাকে তদ্রুপ একটি কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে হয়।এতে করে সামাজিক পরিবর্তন খুব দ্রুত এবং বুনিয়াদি হয়ে যায়। এজন্য নারীচিন্তাভিত্তিক শিক্ষার ব্যাপক প্রচলন যোগ করা হলে, নারীদের প্রতি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের সার্বজনীন নিপীড়ন টেকসই ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।
সুতরাং, বিভিন্ন লেখা ও মতামতের বিভিন্ন দিক ও শ্রেণিবিন্যাসে নারীদের অবস্থা ও পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। কিন্তু ঘটনাবহুল এই পৃথিবীতে নারীদের জীবনপরিক্রমাকে সর্বদাই একটি নির্দিষ্ট কাঠামোতে এনে চিন্তা করা কিংবা বর্ণনা করা বেশ কঠিন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ‘নারী’ শব্দটিই বেশ রক্ষণশীল একটি বিষয়। সমাজ চেতনার মূলে এবং সামাজিকিকীকরণে নারীদের কার্যক্রম এবং সমাজবোধে তাদের আদ্যোপান্ত ভূমিকাকে কতটুকু ফোকাস করা

সম্পর্কিত পোস্ট