শনিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আমাদের সম্পর্কে
যোগাযোগ

নাগরপুরে ঐতিহাসিক বনগ্রাম গণকবর সংস্কারে ধীরগতি

জানুয়ারি ১২, ২০২২
প্রিন্ট
নিউজ ভিশন

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় অবস্থিত গণকবর প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ সম্ভব হয়নি। স্থানীয় এলাকাবাসী নাগরপুর উপজেলা প্রশাসনের দায়ী করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণকবরের ভেতরেই স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের উদ্যাগ নেওয়া হয়েছিলো এবং এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে কবর স্থানের পাশেই নির্ধারিত স্থানে সেটি নির্মাণের কথা ছিলো। কিন্তু এখনো সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়াও বন্যায় কবরস্থান প্লাবিত ও বৃষ্টির দিনে লাশ দাফন কার্য কষ্টসাধ্য হওয়ায় একটি ঘর নির্মাণের ব্যাপক প্রয়োজন এবং গণকবর এলাকার চারপাশে মাটি ভরাট অত্যন্ত জরুরী। স্থানীয় বাসিন্দা মো: মেছের আলী বলেন, আমাদের এই বনগ্রাম গণকবরের জন্য একটি জানাজা ঘরের অনেক প্রয়োজন। এই কবরস্থানে বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রæতি আমরা পাই তবে বাস্তবায়ন দেখিনা। আরেক বাসিন্দা মো: আব্বাস মোল্লা জানায়, বন্যার সময় এই কবরস্থানে কবর দিতে কষ্ট হয় আমাদের।এখানে মাটি ভরাট করে উঁচু করা প্রয়োজন।
গয়হাটা ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো: হেলাল উদ্দীন বলেন, বর্ষাকালে এই গণকবর পানিতে তলিয়ে যায়। এখানে চারপাশে মাটি ভরাটের প্রয়োজন এবং চারপাশের রাস্তার উন্নয়ন প্রয়োজন। আমি ও এলাকাবাসি সহ চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে এই গণকবরের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।গণকবরের উন্নয়ন বিষয়ে গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ শামছুল হক বলেন, আমি ইতিমধ্যে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি মাটি ভরাট সহ প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজের জন্য। আমি খোঁজখবর রেখেছি, অতিদ্রæত (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি মহোদয় ও নাগরপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।
গণকবর সংস্কার ও সংরক্ষণ প্রসঙ্গে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিফাত- ই-জাহান বলেন, বনগ্রাম গণকবরের সংস্কারের জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ আমরা পেয়েছি। অচিরে ইপিডাবিøউডি সেখানে সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করবে। পরবর্তীতে কোনো প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজন হলে আমরা ব্যবস্থা করবো।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের বনগ্রামের রসুলপুর গ্রামে হানাদার বাহিনী কর্তৃক বর্বরোচিত হামলায় সাধারণ গ্রামবাসী সহ মোট ৫৭ বীর মুক্তিযোদ্ধা কে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় ও আশেপাশের প্রায় ১২৯ টি বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংস যজ্ঞ চালানো হয়। হানাদার বাহিনী চলে গেলে গ্রামবাসীর সহায়তায় শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বনগ্রাম এলাকায় গণকবর দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্র মতে, ১৯৭১ সনের ২১ অক্টোবর বনগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নিয়েছে এমন সংবাদ পেয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে গান-বোট নিয়ে পাক হানাদার বাহিনী বনগ্রাম আক্রমণ করে। শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। এ যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর ১ মেজর সহ ৩ জন নিহত হয়। পরবর্তী সময়ে পাক সেনারা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে ২৫ অক্টোবর রাতে বনগ্রাম।

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
logo

নিউজ ভিশন বাংলাদেশের একটি পাঠক প্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র। আমরা নিরপেক্ষ, পেশাদারিত্ব তথ্যনির্ভর, নৈতিক সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ঢাকা অফিস: ইকুরিয়া বাজার,হাসনাবাদ,দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ,ঢাকা-১৩১০।

চট্টগ্রাম অফিস: একে টাওয়ার,শাহ আমানত সংযোগ সেতু রোড,বাকলিয়া,চট্টগ্রাম |

সিলেট অফিস: বরকতিয়া মার্কেট,আম্বরখানা,সিলেট | রংপুর অফিস : সাকিন ভিলা, শাপলা চত্ত্বর, রংপুর |

+8801789372328, +8801829934487 newsvision71@gmail.com, https://newsvisionbd.com
Copyright@ 2021 নিউজ ভিশন |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com