নওগাঁর পত্নীতলায় ক্রমেই বাড়ছে করোনার সংক্রমনের হার, ৫দিনের মাথায় আরো ১২জন আক্রান্ত

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০২০

আলহাজ্ব বুলবুল চৌধুরী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর পত্নীতলায় ক্রমেই বাড়ছে করোনার সংক্রমনের হার। ৫দিনের মাথায় আরো ১২জন আক্রান্ত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এবার সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের স্বীকার হচ্ছেন। বর্তমানে জনবহুল এই উপজেলায় ক্রমেই বাড়ছে নভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। উপজেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা সনাক্ত হয়েছে ৪৮জনের। আসন্ন কোরবানী ঈদকে সামনে রেখে গরুর হাট সহ বাজার ও বিপনী বিতান গুলোতে মানুষের চলাচল বাড়বে। যার ফলে করোনা ভাইরাসের প্রভাব আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখাগেছে, বিশেষ করে নজিপুর বাসস্ট্যান্ড, চকনিরখীন (ঠুকনিপাড়া) মোড়, দোচাই মোড়, গগনপুর বাজার, কাঁটাবাড়ি বাড়ি বাজার, পত্নীতলা বাজার, মধইল বাজার, শিবপুর বাজার, জিয়া বাজার (আমবাটি হাট) সহ ছোট বড় উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মোড় গুলোতে করোনার প্রভাব বলতে কিছু বোঝার উপায় নেই। এসব এলাকার শতকরা ২০জনের মুখেও নেই মাস্ক, নিরাপদ দুরত্বের বিধি নিষেধ। সবাই যে যার ইচ্ছে মতো চলাচল করছে। প্রশাসনেরও নেই আগের মতো কোন কড়াকড়ি আরোপ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খালিদ সাইফুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত কয়েকদিনে আমাদের উপজেলায় সংক্রমনের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলায় এ পর্যন্ত মোট করোনা সনাক্ত হয়েছে ৪৮জনের। আক্রান্তরা সকলেই বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস সুত্রে জানাগেছে, গত এপ্রিল থেকে আরম্ভ করে এ পর্যন্ত ৬৩৬জনের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে ২মে প্রথম পত্নীতলা থানার ২জন কর্মকর্তার করোনা সনাক্ত হয়। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত পাওয়া রিপোর্টে এ উপজেলায় সর্বোচ্চ ১২জনের করোনা সনাক্ত হয়। এর আগে গত শুক্রবার ১০জন সহ এ পর্যন্ত উপজেলায় মোট ৪৮জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫জন সুস্থ হয়েছেন। এপর্যন্ত হোম আইসোলিউশনে আছেন ২০জন, প্রাতিষ্ঠানিক আইশোলিউশনে আছেন ৩জন। এবাদে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৪৮জন। তবে এখন পর্যন্ত ৪৩জনের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য নজিপুর পৌরসভার কলোনী পাড়া এলাকার মৃত ময়েজ উদ্দীনের ছেলে বিসিএস প্রাণী সম্পদ ক্যাডারের ১১তম ব্যাচের কর্মকর্তা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ডাঃ এমদাদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু বরন করলে তার মৃত দেহ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার নিজ বাড়ি নজিপুর কলোনী পাড়া এলাকায় আনা হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এরআগে করোনা শনাক্তের ৪দিনের মাথায় ১৩জুলাই গত সোমবার দুপুর আনুঃ পৌনে ৩টায় পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনৈক আব্দুস সাত্তার (৫৭) নামে এক কর্মীর মৃত্যু হয়। এরও আগে গত ৪জুলাই শনিবার পত্নীতলার জামগ্রাম গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আবুল কালাম আজাদ (৩৮) রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। জানাগেছে সে অসুস্থ অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি হলে সেখানে তার করোনা সনাক্ত হয়।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন সরকার জানান, এ পর্যন্ত পত্নীতলায় করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইসলামী ফাউন্ডেশনের সহযোগীতায় তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।