ধ্বংসের মুখে তরুণ প্রজন্ম: আদর্শবান তরুণের অপেক্ষায় আমাদের সমাজ!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০২০

শেখ মোঃ মাসুম: ঢাকা কলেজ

একটি সমাজ ও দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। আর তাই তরুণ প্রজন্মের জয়গান গেয়েছেন কালের বিখ্যাত কবি, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরাও। তরুণদের উদ্দেশ্যে মনীষীরা বলেছেন, “তরুণ সমাজ হলো দেশরক্ষার দুর্ভেদ্য প্রাচীর, দেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য নিবেদিত প্রাণ, দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বাহক, অগ্রজদের প্রত্যাশার আলো, অনুজদের অনুকরণের পাথেয়, অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, দুর্নীতি, ঘুষ ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার বীর। আত্মবিশ্বাসে মূর্তিমান এক মূর্ত। তরুণ প্রজন্ম সমাজ ও জাতির সম্মান রক্ষায় প্রশিক্ষিত তলোয়ার।
সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে অনুরাগী কর্মী। নিজেকে সম্পদে পরিণত করার আপোষহীন শ্রমিক । বিপদে-আপদে যেন ধৈর্যশীল ব্যক্তিত্ব। মানব কল্যাণ যেন তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা অতীত ইতিহাস লক্ষ্য করলে দেখতে পাই যে,প্রতিটা দেশেের দেশরক্ষার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে তরুণ প্রজন্মের। আর তারাই অকাতরে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে দেশ রক্ষার খাতিরে। কিন্তু আজ সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হচ্ছে অতীতের সু-সমৃদ্ধ তরুণ প্রজন্মের সাথে বর্তমান প্রজন্মের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে হতাশ হতে হয়। কারণ, তরুণকে দেখে মানুষ যেখানে আশার বুক বাধার কথা সেখানে মানুষ আজ বর্তমান তরুণ প্রজন্মের দানবীয় রূপ দেখে ‘ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি নীতিতে বিশ্বাসী’! তাদের থেকে নিরাপদ আশ্রয় খোঁজে! বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এক মূর্তিমান দানব, কারণ তাদের কাছে এমন কোন ভারী অস্ত্র নেই যা তারা বহন করেনা। সর্বনাশা ইয়াবা, হেরোয়িন ও ধূমপান ইত্যাদিতে আসক্ত হয়ে দানবীয় রূপ ধারণ করেছে। অপরদিকে বড় ভাই কেন্দ্রিক তরুণ প্রজন্মের রাজনীতি চর্চার বিকাশ তরুণ প্রজন্মকে আরো দানবীয় করে তুলেছে। তাদের দেখে মনে হয় এই মাত্র না জানি কারো জীবন প্রদীপ নিভিয়ে দিবে!

আজকের নেশাগ্রস্ত তরুণ প্রজন্ম নেশার টাকা যোগাড় করতে এমন কোন হীন কাজ নেই তারা করছে না। তারা ছিনতাই ও ভাড়াটিয়া সন্তান হিসেবে কাজ করছে। তারা আমাদের সুশীল সমাজ পরিহার করে, অসভ্য জগতে পা বাড়িয়েছে। তাদের চুলের ডিজাইন, অশালীন ও অরুচিকর পোশাক পরিধান যা আমাদের সভ্য আমাদের সভ্য সমাজে আজ ভাবনার বিষয়। সত্যিই আজ তরুণ প্রজন্মের চিন্তাশক্তির সিংহভাগ অযাচিত ও সংস্কৃতির চিন্তায় ভরপুর হয়ে গেছে।

আজকে কোন নারীর নিরাপত্তা নেই একমাত্র এই তরুণ প্রজন্মের কারণেই। এক জরিপে দেখা গেছে, ধর্ষিত বেশিরভাগ নারীই এই তরুণ প্রজন্মের। আজ আমরা ডিজিটাল যুগে বাস করছি, আমরা পেয়েছি ফেইসবুক, ইউটিউব, ইমু ও মেসেঞ্জার ইত্যাদি। আজ এগুলোর মধ্যে গুরুত্ব দিচ্ছি বেশি। অনেক তরুণ রাতভর মেসেঞ্জার করে কাটাচ্ছে, আবার অনেকে অশালীন সাইটের মাঝে ডুবে আছে। ফলে তাদের চিন্তাধারা বিনষ্ট হচ্ছে। লেখাপড়ার প্রতি উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। ফেসবুকের কারণে লাখ শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ছে লেখাপড়া থেকে। তারা সমাজ, পরিবার ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়ে উদাসীন। তারা ভুলে গেছে, “আমরা মুসলিম, আমরা ইসলামিক রাষ্ট্রে বসবাস করছি”। আল্লাহর হুকুম আমাদের দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করা কায়েম করা কিন্তু আজ দুঃখের বিষয় হচ্ছে এই যে, তাদের এই অসভ্য সমাজ তাদের বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন তরুণ প্রজন্ম নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে উন্নতি কি হবে তা আজ ভেবে দেখা দরকার।

সম্প্রতি সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েছেন, সরকার
ঘোষণা করেছে, সন্ধ্যার পর আড্ডাখানায় তরুণ-তরুণীদের অবস্থান নিষিদ্ধ। আজ এই মহামারীর মধ্যে ঐক্যমতের ভিত্তিতে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রশাসন এগিয়ে না আসলে তরুণ প্রজন্মের বিপথগামী হওয়ার যে ধারা প্রবাহমান চলছে তা আরো গভীরে গিয়ে পৌঁছবে। আর তাই সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজকের পথভ্রষ্ট তরুণ সমাজকে সুসভ্য পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। ফলে সুশীল ও শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ে উঠবে। তরুণদের শুভবুদ্ধির জাগরণ হবে। তরুণদের ভিতরে আবারো জেগে উঠবে তাদের আদর্শ, শালীনতা, নৈতিকতা ও ভদ্রতা। যা সকল প্রকার আদর্শহীনতা, কুচিন্তা ও অশালীনতা কে দূর করবে। তাদের সুন্দর কর্মের কারণে কারণে নিজে, তার পরিবার ও সমাজকে সম্মানিত করবে সম্মানিত করবে পরিবার ও সমাজকে সম্মানিত করবে বিশ্বের মানচিত্রে তার দেশকে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করে রাখবে।