“ধর্ষণ”- কিছু কথা, কিছু মন্তব্য,কিছু সমালোচনা!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৯, ২০২০

———

খবরের পাতায় প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে ধর্ষণের চিত্র। ধর্ষণ, গুম, খুন যেন বর্তমানে মানুষের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে৷

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং রাজপথে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে! সভা সেমিনার হচ্ছে! অনেকে আবার রাজনৈতিক ইস্যু বাস্তবায়নে কাজ করছে।

সবাই বলছে ধর্ষণকারীর যেন ইসলামী আইনে বিচার করা হয়৷ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, আবার অনেকে বলছে যেন জনসম্মুখে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়। বাহ্ খুব চমৎকার।

কখনো কি চিন্তা করেছেন ধর্ষণ কেন হয়?? সমাজে অপকর্ম কেন হয়?? উত্তর আসবে না!!

একজন চোর চুরি করে ধরা পড়লে আমরা বলি তার হাত কেটে দাও, তার বিচার করো ইসলামী আইনে। বাহ্ খুব চমৎকার। আমরা কি কখনও চিন্তা করেছি তারা চুরি করে কেন?

চোর কে মারার জন্য আমরা ইসলামী আইন খুঁজি। অথচ আমার উপর যাকাত ফরজ গরিবের হক এটা আদায় করছি না! এখানে ইসলাম কোথায়??

আমরা যদি লক্ষ করি কেন ধর্ষণ হয়, আমরা লক্ষ্য করবো সমাজে অপসংস্কৃতির প্রভাব। যার কারণে প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ধর্ষণ,নির্যাতন।

এখন আমরা কি করবো? আমাদেরকে প্রথমত সচেতন হতে হবে। নোংরা সংস্কৃতি থেকে আমাদেরকে বের হয়ে আসতে হবে৷

বর্তমানে আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো এমন হয়ে গেছে, তারা বিনোদনের নামে যা প্রচার করছে- পরিবারের সকলে মিলে একসাথে টিভি সিনেমা দেখা যাচ্ছে না। কেননা এখানে বিনোদনের নামে অধিকাংশই নোংরামি শেখানো হয়। আমরা তো এখানে প্রতিবাদ করি না।

বর্তমানে অামরা নারী অধিকারের নামে নারীদের পণ্য বানিয়ে ফেলেছি৷ এটা বাস্তব নয় কি?

তবে অাপনারা “ধর্ষক” চোর এর বিচার এর জন্য যে ইসলামী অাইনের কথা বলছেন! এই ইসলামী অাইনেই নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছে, বোন হিসেবে নারীর সম্মান- মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কারও যদি কন্যাসন্তান ও পুত্রসন্তান থাকে আর তিনি যদি সন্তানদের জন্য কোনো কিছু নিয়ে আসেন, তবে প্রথমে তা মেয়ের হাতে দেবেন এবং মেয়ে বেছে নিয়ে তারপর তার ভাইকে দেবে। হাদিস শরিফে আছে, বোনকে সেবাযত্ন করলে আল্লাহ প্রাচুর্য দান করেন।

ধর্ষণ কেন হচ্ছে? যারা ধর্ষণ করছে তাদের মধ্যে অধিকাংশ যুবক ছেলে। আমরা যুবকদের বিয়ের ব্যবস্থা করতেছি না। বিয়েকে কঠিন করে ফেলেছি। তাই আমাদের সমাজে ধর্ষণ সহজ হয়ে গেছে।

আপনাদের সাথে একমত হয়ে ধর্ষণের বিচার আমিও চাই তা ইসলামী আইন অনুযায়ী চাই। তবে শুধুমাত্র ধর্ষণ ও চুরির বিচারের ক্ষেত্রে নয়। ইসলামী আইন চাই আমাদের পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থায়।

কুরআনে অাল্লাহ বলেন, ইন্নাদ্বীনা ইন্দাল্লাহিল ইসলাম”-সূরা আল্-ইমরান, আয়াত-১৯। অর্থঃ “নিসন্দেহে (মানুষের) জীবন-বিধান হিসাবে আল্লাহ তায়ালার কাছে একমাত্র (গ্রহণযোগ্য) ব্যবস্থা ইসলাম।”

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন-ব্যবস্থা। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেন “যা’লিকাল কিতাবু লা’রাইবা ফিহি হুদাল্লিল মুতাক্কিন” সুরা বাকারা, আয়াত-০২। অর্থঃ ইহা সেই কিতাব যাহাতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই, আর এটি খোদাভীরুদের জন্য পথনির্দেশিকা।

লেখক-
মোঃ তানভীর অাহম্মেদ রনি
গাজীপুর মহানগর, ৩৮নং ওয়ার্ড৷