ধর্ষণ ও সামাজিক অবক্ষয়!!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

নির্মল এস পলাশ

সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত ধর্ষন শব্দটি। বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রতিদিনই চোখে পড়ে দেশের বিভিন্ন প্র্রান্তে ধর্ষনের নানা ঘটনার খবরসমুহ। গ্রামে কিংবা শহরে, বাড়িতে কিংবা রাস্তায়, প্রতিষ্ঠানে । এমন ন্যাক্কাড় জনক ঘটনা ঘটছে। ধর্ষন যেনো সহজ হয়ে উঠছে।
নানামুখি কারণে ধর্ষনের মত এসব অপরাধমূলক কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত।
ধর্ষনের পিছনে যেসকল কারণকে দায়ী করা যায়, তাহলো নৈতিকতার অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়, সচেতনতার অভাব, দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি না দেয়া, পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধের অভাব। সন্তানের প্রতি পিতা-মাতার উদাসহীনতা ইত্যাদি। এরকম নানান কারণে ঘটছে ধর্ষনের ঘটনা লাঞ্ছিত হচ্ছে নারীরা। বর্তমানে ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি হয়ে গেছে। কারো একার পক্ষে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ধর্ষণ প্রতিরোধে সর্বপ্রথম যা প্রয়োজন বলে মনে হয় তাহল সকলের মাঝে নৈতিকতাবোধ জাগরণ করাতে হবে । ধর্মীয় অনুশাষন মেনে চলার হবে। নৈতিকতাবোধ সৃষ্টি ও নৈতিক অবক্ষয় রোধ করার মাধ্যমে নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব সৃষ্টিই পারে ধর্ষণ প্রতিরোধে অন্যতম ভূমিকা।

ধর্ষণ বলতে আমরা যা বুঝি তাহলো ’কারো ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে যৌন তৃপ্তি লাভ করা।’ বর্তমান সমাজে অহরহই ঘটছে এমন লজ্জাজনক ঘটনা। লাঞ্ছিত আমরা মানবজাতি। দিন দিন বেড়েই চলেছে এমন ন্যাক্কাড়জনক কাজ।
ধর্ষক যেই হোক, তাকে শাস্তির আওতায় আনাটাই বড় কথা। যখন একটি দেশে ৬ মাসে ৩৯৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়, সেই দেশে ধর্ষণের শাস্তি কী হওয়া উচিৎ তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। নিঃসন্দেহে এই হার আরো অনেক বেশি। এটা শুধু কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যমাত্র। এই উদ্বেগজনক হারে ধর্ষণ বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ বৃদ্ধির ঘটনা দেশের মানুষকে আতংকিত করে তুলেছে। বিক্ষুব্ধ মানুষ নানাভাবে ধর্ষকের বিচার দাবি করছেন। সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তিকে মৃত্যুদন্ড করা হয়েছে
সব পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির দীর্ঘসূত্রিতার কারনে বিচারে বিলম্ব হয় বলেই অপরাধীরা সক্রিয় হয়ে উঠছে। প্রথম আলো জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন থানায় ১৮,৬৬৮টি ধর্ষণের মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে প্রতিবছর গড়ে ৪ শতাংশ আসামির সাজা হয়। বাকিদের অধিকাংশই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছে।
এইদেশে একটা দিনও হয়তো নেই। যেদিন কোন ধর্ষণের ঘটনা পত্রিকার পাতায় প্রকাশ হয় না। আর অপ্রকাশিত কত ঘটনার কথা না হয় অজানাই থাকলো। প্রতিবাদে মানুষের ঢল হয়না ।কিছু মানুষ প্রতিবাদী হয়। বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে উঠতে

দানা বাঁধতে মানুষের লাভ ক্ষতির হিসাব আর আবেগের মিশেল লাগে।

আমরা পুরুষজাতি নারীকে বরং সাত কাপড়ের মোড়কে ঢাকতে বেশি আগ্রহী। নারীর পোশাক নিয়ে তারা ফতোয়া জারি করি, বিভিন্ন অঙ্গ, ভঙ্গি প্রদর্শন করি।

এতোসবের অসারতা বুঝতে তারা নিদারুণভাবে অক্ষম আমরা।

সেই বিকৃতমনা পুরুষেরা কবে নাগাদ নিজেদের বিকৃতিটা বুঝতে পারবে? কবে নাগাদ জুতা আবিস্কারের গল্পের মতো পৃথিবীকে নয়, নিজের পা’ কে ঢাকতে শিখবে? কবে নাগাদ পুরুষ শুধুমাত্র পুরুষ থেকে মানুষ হয়ে উঠবে? পুরুষের বোধোদয় এখন সময়ের দাবি।

ধর্ষণ বন্ধে পুরুষকেই জাগতে হবে সবার আগে। তাদের বুঝতে হবে, নারীর পোশাক বা অন্য কিছু নয়, কিছু পুরুষের অনিয়ন্ত্রিত ও বিকৃত যৌন আকাঙ্ক্ষাই ধর্ষণের সবচেয়ে বড় কারণ এবং পুরুষের সবচেয়ে বড় অসুস্থতা।

অনেক তো হলো, আর কত? এবার বিবেক কে জাগিয়ে তুলি পুরুষ বন্ধুরা। এতটু লাগাম টানি নিজের বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষায়। যতদিন পর্যন্ত না আপনারা নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন, ততদিন ধর্ষণের এই মহামারী বন্ধ হবে না। যতই আইন হোক, যতই কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তির বিধান রাখা হোক, যতই হারকিউলিসের আবির্ভাব ঘটুক, আগে নিজের বিবেক জাগিত হতে হবে। তখনি ধর্ষণ বন্ধ হবে। সামাজিক অবক্ষয় থেকে গড়ে উঠবে একটি সুন্দর সমাজ ও দেশ।

——————————————————-

সাংবাদিক নির্মল এস পলাশ