দোয়ারাবাজারে জাতীয় পতাকার আদলে তৈরী হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

এম এ মোতালিব ভুঁইয়া :
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তে সম্পূর্ণ
নতুন আঙ্গিকে সাজানো হচ্ছে ঐতিহাসিক বাঁশতলা (হকনগর) এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৪৮ বছর পর ৫ নম্বর সেক্টর হেডকোয়ার্টারের সমাহিত ১৫ মুক্তিযোদ্ধার কবর স্থায়ীভাবে লাল-সবুজের পতাকার আদলে আচ্ছাদিত করা হচ্ছে। ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিকের পরিকল্পনায় মুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলোর ভেতরের অংশে জাতীয় পতাকার আদলে আচ্ছাদিত করার কাজ চলছে।

উত্তরে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে ছাতক উপজেলা এবং পশ্চিম দিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার অবস্থান। ১৯৮৪ সালে সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা গঠিত হয়। পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই উপজেলায়। সুনামগঞ্জ জেলার সবচেয়ে বেশি মুক্তিযোদ্ধার বসবাস দোয়ারাবাজার উপজেলায়। এখানে রয়েছে বাঁশতলা (হকনগর) শহীদ স্মৃতিসৌধ। এই শহীদ স্মৃতিসৌধ মনে করিয়ে দেয় এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। ডাউকি থেকে সুনামগঞ্জ এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ সীমান্তবর্তী অঞ্চল নিয়ে গঠিত মুক্তিযুদ্ধের ৫নং নম্বর সেক্টর। এই সেক্টরে কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন কর্নেল মীর শওকত আলী, সাব সেক্টরের ( দোয়ারাবাজার, ছাতক, জগন্নাথপুর) কমান্ডার ক্যাপ্টেন হেলালউদ্দিন, বালাট সাব সেক্টরের ( সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভারপুর) কমান্ডার ক্যাপ্টেন আব্দুল মোতালিব, ভোলাগঞ্জ সাব সেক্টরের ( ছাতক থানার কিয়দংশ ও বর্তমান কোম্পানিগঞ্জ) কমান্ডার সেকেন্ড ল্যাফটেনেন্ট ইঞ্জিনিয়ার ন,আ,ম,আলমগির এবং টেকেরঘাট সাব সেক্টরের ( তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা এবং হাওর এলাকা) কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোসলেম উদ্দিন।মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঁশতলা ও আশপাশের এলাকার যারা শহীদ হয়েছিলেন, তাদের সমাহিত করা হয় ভারতের সীমান্তবর্তী বাঁশতলার (হকনগর) নির্জন স্থানে। এই ঐতিহাসিক স্থানটি দেখতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভিড় করেন।

বাঁশতলা (হকনগর) এলাকায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলো স্থায়ীভাবে আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন করতে কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ১৫ মুক্তিযোদ্ধার কবরের মধ্যে বেশ কয়েকটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের আগেই জাতীয় পতাকার আদলে মুক্তিযোদ্ধাদের কবরগুলোর ভেতরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জসিম মাস্টার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ৫নং সেক্টর এলাকার ১৫ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার কবর রয়েছে। আমাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জাতীয় পতাকার আদলে একটি কবরগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে