দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও উৎকোচের বিনিময়ে সুবিধা প্রদানের অভিযোগ

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:০৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২১, ২০২০

মোঃ আবু সঈদ,স্টাফ রিপোর্টারঃ

সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলাধীন জয়কলস ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল এর বিরোদ্ধে সরকারি সাহায্য উপকারভোগীদের প্রদানে নানা অনিয়ম ও উৎকোচের বিনিময়ে একই পরিবারে একাধিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের অভিযোগ স্হানীয়ভাবে পাওয়া যাচ্ছে।

জানা যায়,ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল নির্বাচিত হওয়ার পর হইতে তাহার কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করেন। বর্তমান সময়ে যখন মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশের গরীব,অসহায় ও দিনমজুর পরিবার গুলো খাবারের সন্ধানে দিশেহারা ঠিক তখনও ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল স্বজনপ্রীতি করে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।

আব্দুল জলিলের বিগত দিনের কার্যক্রম তদন্ত করে জানা যায়, তিনি উৎকোচের বিনিময়ে একই পরিবারে একাধিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করছেন। তাহার সহযোগিতায় ফতেপুর গ্রামের আব্দুল বারিক প্রধানমন্ত্রীর পুর্নবাসন প্রকল্পের আওতায় একটি বসতঘর পেয়েছেন।ঘরের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হতে না হতেই একটি গভীর নলকুপ স্হাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে যাহা বসতঘরের ৫০/৬০ ফুটের মধ্যে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ মিয়া এর বিগত মেয়াদে তাহার নামে প্রদানকৃত আরেকটি গভীর নলকুপ স্হাপন করা হয়েছে। পরিবার প্রধান আব্দুল বারিক বয়স্ক ভাতা প্রাপ্ত। তাহার বড় ছেলে আজিবুর রহমান এর স্ত্রী রিনা বেগম উৎকোচের বিনিময়ে ৩য় পর্যায়ে ২ বছর মেয়াদি ভিজিডি কার্ডধারী ও মেজো ছেলে মুজিবুর রহমান এর স্ত্রী রুজিনা বেগমও ভিজিডি কার্ডধারী ও তাহার নামে আরেকটি ঘর নির্মাণের বিষয়েও প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা যায়। তাহার স্ত্রী তেরাবান বিবি প্রধানমন্ত্রীর ২৫০০ টাকা প্রণোদনার তালিকাভুক্ত। বর্তমান সময়ে সরকারি ত্রাণের তালিকায় তো আছেই।
এরকম ইউপি সদস্যের আপন ভাই আব্দুল মজিদ সুবিধা নিচ্ছেন। আব্দুল জলিল নামে বেনামে মহিলাদের মাধ্যমে প্রতিটি ভিজিডি কার্ড এর মাসিক ৩০ কেজি করে চাল ৬ হতে ৮ মাস করে উত্তোলন করে বিক্রয়ের পর কার্ডধারী নিযুক্ত করেন এবং সকল উপকারভোগীর নিকট হইতে নগদ ২৫০০/৩০০০ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করেন বলে গোপনসূত্রে জানা যায়। নাম প্রকাশ না করা এমন কয়েকজন উপকারভোগীর সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যায়। কয়েকজন উপকারভোগী বলেন-
আমাদের কাছ থেকে মেম্বার সাহেব নগদ টাকা নিয়েছেন। তারপরও তিনি আমাদের ৭/৮মাসের চাল বিক্রয় করে আমাদের হাতে কার্ড ধরিয়ে দেন। মেম্বার সাহেব তাদেরকে বলেন ১৮ মাস চাল পেলেই তো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার ২৫০০ টাকার তালিকা প্রদানেও কয়েকটি গায়েবী নামের তথ্য পাওয়া যায়। তিনি বয়স্ক, বিধবা,প্রতিবন্ধী ও মাতৃত্বভ্রাতা প্রদানের নামে ৩০০০/৪০০০ টাকা উৎকোচ গ্রহণ ও প্রথম কিস্তির টাকায় ভাগ বসান। উৎকোচ প্রদান করেও ২/৩ বছর যাবত ভ্রাতা কিংবা সুরাহা না পেয়ে অনেকজন হাহাকার করছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০১৭ সাল হইতে ডিলার মাধ্যমে বিক্রিত সরকারী ১০ টাকা কেজির চাল ফয়জুল ইসলাম নামে এক সচ্চল সরকারী চাকুরী জীবির পরিবার ও এক ইতালী প্রবাসী পরিবার সহ অনেক পরিবার প্রাপ্ত হইয়া আসিতেছে যাহারা ঐ চাল উত্তোলন করে মানুষের খাবারের পরিবর্তে হাঁস,মোরগের খাবার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
উল্লেখ্য যে,বিগত ২০১৮ ইং সনের হাওর রক্ষা বাঁধ প্রকল্পে জয়কলস ইউনিয়নের সাংহাই হাওরের পিআইসি নং-৪ এর বরাদ্ধকৃত ১০,৫৭,১৭৬ টাকার মধ্যে ৭০/৮০ হাজার টাকার কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করলে ৫ই মার্চ ২০১৮ইং স্হানীয় দৈনিক সুনামগঞ্জের সময় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে পরদিন দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হারুনুর রশীদ এর নেতৃত্বে বাঁধ মনিটরিং কমিটির বাঁধ পরিদর্শনে সত্যতা প্রমাণিত হলে তাহাকে আটক করা হয় এবং স্হানীয়দের সহযোগিতায় মুছলেকার বিনিময়ে মুক্তিপান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনার তালিকা যাচাইকারী অফিসার বিদ্যুৎ চন্দ্র দাশ বলেন-উপকারভোগীদের নামের তালিকা যাচাইর ক্ষেত্রে ইউপি সদস্য ও গ্রামপুলিশ শিশু দাশ উল্লেখিত নাম গুলোর আর্থিক অবস্হা নিশ্চিত করেন।
উপজেলা সমবায় অফিসার ও ভিজিডি প্রদানকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার
মোঃমাসুদ মিয়া এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন-আমরা তো মহিলাদেরকে সামনে রেখেই চাল দেই। এই ক্ষেত্রে কোন ইউপি সদস্য যদি ব্যক্তি প্রতারণা করে তাহলে সেই বিষয়টা খুঁজে বের করা অবশ্যই প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা টাকার ক্ষেত্রে বলেন যাচাই-বাছাইয়ের পর আমরা প্রকল্প অফিসে তালিকা জমা দিয়েছি।।