ঢাকা২১শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

থামছে না শ্রীপুর কোয়ারীর জিরো লাইন হতে পাথর উত্তোলন।

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন

মে ১৩, ২০২২ ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

উর্দ্বতন কর্মকর্তার সুদৃষ্টি কামনা সচেতন মহলের

মো. এম এম রুহেল, জৈন্তাপুর (সিলেট) প্রতিনিধি :

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার একমাত্র পাথর কোয়ারী শ্রীপুর। সরকারী নির্দেশে গত ৪বৎসর হতে পাথর কোয়ারীতে পাথর না থাকায় সরকার স্থায়ী ভাবে ইজারা বন্ধ করে দেয়। তারপর হতে শ্রীপুর পাথর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন বন্ধ। চলতি বৎসরের ফেব্রæয়ারী মাস হতে পাথর খেকু চক্রের ৩০/৩৫ জনের সক্রিয় সদস্যরা শ্রীপুর ও মিনাটিলা বিজিবি ক্যাম্পের কতিপয় সদস্যদের সহায়তায় কোয়ারীর ১২৮০নং সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে ভারতের অভ্যান্তর হতে পাথর সংগ্রহ করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে পাথর উত্তোলনে কাজে কয়েকশত শ্রমিকদের দেখা মিলে। তারা বড় বড় গর্ত করে জিরো লাইন হতে পাথর উত্তোলন করছে। শ্রমিকরা জানান তারা বড় বড় মহাজনের নির্দেশে এবং জিবিকার তাগিদে সীমান্তের জিরো লাইন হতে পাথর উত্তোলন করছে। বিষয়টি স্থানীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি অবহিত রয়েছে। বিজিবি আমাদের কিছু বলে না। মহাজনেরা তাদের সাথে লিয়াজো করে আমাদেরকে পাথর সংগ্রহ করতে যান। আমরা নৌকা সিঙ্গেল পাথর উত্তোলন করে ৮শত টাকায়, বোল্ডার পাথর উত্তোলন করি ১৬ টাকায়।
পাথর সংগ্রহের পর সন্ধ্যায় নৌকা যোগে আসামপাড়া ও ৪নং বাংলাবাজারে নিয়ে যায় আরেকটি দল। নৌকা প্রতি ৮শত টাকা করে দুটি ক্যাম্পের জন্য পাথর খেকুরা ১৬শতটাকা পরিশোধ করেন বলে তারা জানান। স্থানীয়, জাতীয় ও অন লাইন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে কিছুদিন শ্রীপুর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকে।
গত রমজান মাসে পুনরায় শ্রীপুর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন শুরু হলে দিনের বেলায় পাথর পরিবহন বন্ধ রাখা হয়। কিছু শ্রমিক কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন করতে দেখে তারও দিনের বেলা পাথর নৌকাযোগে আনতে গেলে বিজিবি সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় শ্রীপুর বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আহত হন। এঘটনায় বিজিবি নিবিচারে এলাকাবাসীর উপর হামলা চালায়। ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ বাসিন্ধারা সিলেট তামাবিল মহা সড়ক অবরোধ করে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার(ভ‚মি) রিপামনি দেবী, বিজিবির উদ্বর্তন কর্মকর্তা সহ এলাকার শীর্ষনেতাদের মধ্যস্থতায় গ্রামবাসী রাস্তার অবরোধ প্রত্যাহার করে। বিজিবি ঘটনায় সাথে কিংবা পাথর উত্তোলনের সাথে জড়িত নয় এমন ৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে।
ঘটনার ১মাস পার হতে না হতে সেই শ্রীপুর পাথর কোয়ারী হতে পাথর খেকু চক্রের সদস্যরা স্থানীয় বিজিবির সহায়তায় পুনরায় মোটা অংকের সুবিধা নিয়ে পাথর উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়েছে। বৃষ্টি ও নদীতে পানি থাকায় দিনের বেলা সীমান্ত এলাকায় সাধারণত কেউ সহজে ঘুরতে যায় না। এই সুবাধে বিজিবির সহায়তায় পাথর খেকু চক্রের সদস্যরা ১২৮০ সীমান্ত পিলার অতিক্রম করে তাদের নিয়োজিত শ্রমিকদের দিয়ে দিনের আলোতে পাথর সংগ্রহ করে রাখে। রাত ১০টা বাজলে সংগ্রহকৃত পাথর নৌকা যোগে নিয়ে আসে।
বর্তমানে শ্রীপুর কোয়ারী হতে পাথর উত্তোলন করছে পাথর খেকু চক্রের সদস্যরা। স্থানীয় বাসিন্ধা হুমায়ুন মিয়া, কবির হোসেন, মাসুক আহমদ, নজির মিয়া, কালা মিয়া, সুলেমান আহমদ, রশিদ আহমদ, ইসমাইল আলী, নুর হোসেন, আব্দুল করিম বলেন, শ্রীপুর কোয়ারী হতে ১০/১২ দিন হতে পুনরায় বিজিবির সাথে চুক্তিকরে পাথর খেকুরা দিনে পাথর সংগ্রহ করে রাখে রাত হলেই বিজিবির নিয়োজিত সোর্সদের সিগন্যাল পেলেই নৌকা যোগে পাথর পরিবহন করছে। বিজিবিকে জানালেও কোন কার্যক্রর ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে না। তারা বলেন, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ডিআইজি মহোদয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেন। যেহেতু সরকার শ্রীপুর কোয়ারী বন্ধ রেখেছেন সেহেতু অর্থলোভে সাধারণ শ্রমিকদের ঝুঁকিতে ফেলে সীমান্ত অতিক্রম করে পাথর উত্তোলন স্থায়ী ভাবে বন্ধের দাবী জানান। অন্যতায় কয়েক হাজার শ্রমিকরা যে কোন মুহুত্বে শ্রীপুর কোয়ারীতে নামবে বলে জানান।
এবিষয়ে শ্রীপুর ক্যাম্প কমান্ডার আব্দুর রহিম জানান, বিজিবি নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে। সীমান্তের জিরোলাইন হতে পাথর আনার সুযোগ নেই। আমাদের কাছে পাথরের ছবি ও ভিডিও রয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। তিনি ঘটনাস্থলে ফোর্স নিয়ে যাচ্ছেন।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম বলেন, দুদিন পূর্বে সংবাদ পেয়ে সরজমিনে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পাথরখেকুরা এভাবে পাথর জামা রাখার বিষয়টি আমাদের জানানেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করব।

সম্পর্কিত পোস্ট