তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে শুধু কর বৃদ্ধি নয়, দরকার জনসচেতনতা॥

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

—————-

“জম্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে?” কবির এই অমর বাণীতে লুকিয়ে আছে চরম বাস্তবতা। জন্ম যেহেতু হয়েছে তাই মৃত্যু অবধারিত। তাই বলে কি মৃত্যু ডেকে আনা বুদ্ধিমানের কাজ ? তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে আমরা কিন্তু ঠিক সেই কাজটিই করছি, জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে।

জরিপ বলছে প্রতিবছর তামাক ব্যবহারের কারণে প্রাণহানির পরিমাণ প্রায় ১,৬১,২০০। তন্মধ্যে ১০-১৪ বছর বয়সী শিশুদের সংখ্যা প্রায় ১৭,২০০। শুধু ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহার জনিত রোগের কারণে উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং চিকিৎসা জনিত ব্যয় মিলিয়ে মোট অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৩০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা। দেশে ২ কোটি ২০ লাখেরও বেশী মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার হয়ে থাকে যা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি (২১%)।

তাছাড়া “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩” বাস্তবায়নের তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। আইনে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান করা নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তব চিত্র আমাদের সবার জানা। দেশের ১ কোটি ১৫ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হয়। এটি রোধ করতে সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে “ধূমপান এলাকার ব্যবস্থা” এবং প্রকাশ্যে ধূমপানের জরিমানা ৩০০ টাকা করা হয়। যা আইনের মাঝেই সীমাবদ্ধ আছে। শুধু তাই নয় আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির (১৮ বছরের নিচে) নিকট তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় ও বিপণন বা বিতরণ কাজে নিয়োগ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত আইনগুলোর কঠোর বাস্তবায়ন চাই।

তবে আশার কথা হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার প্রতি অর্থবছরেই তামাকের উপর কর বৃদ্ধি করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে যা তামাক নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখবে। এক্ষেত্রে তাদের মতামত গুলো বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। যেমন মুদ্রাস্ফীতি ও আয় প্রবৃদ্ধিকে বিবেচনায় রেখে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক(specific supplementary duty SD) আরোপ করা, সিগারেটের দামের স্তর চারটি থেকে দুটিতে নিয়ে আসা এবং সিগারেটের ব্র্যান্ড এবং অন্যান্য তামাক পণ্যের মধ্যে চূড়ান্ত দামের পার্থক্য কমিয়ে আনা।
করারোপের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যে নিরুৎসাহিত করণে সরকারের ভূমিকা প্রশংসনীয়। কিন্তু জনসচেতনতায় সরকারের ভূমিকা কি যথেষ্ট? অনেকদিন আগে বিটিভিতে “নেশা সর্বনাশা” নামে সচেতনতা মূলক একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। সেই বিজ্ঞাপনে মাদকের নেশায় কিভাবে একটি তরুণ প্রাণ ঝরে যায় তা দেখানো হতো।

বর্তমানে বিটিভি সহ ব্যক্তিমালিকানাধীন চ্যানেলগুলোতেও তামাক-মাদক বিরোধী জনসচেতনতা মূলক বিজ্ঞাপন দেখা যায় না বললেই চলে। তামাক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। এই দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়। পরিবার সমাজ রাষ্ট্র সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রশাসনের কঠোর মনোভাব, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্ব পালন, লেখকদের লিখনি, বুদ্ধিজীবীদের আলোচনা, ছাত্র- শিক্ষকদের সজাগ দৃষ্টিই পারে তামাকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করতে। ইতিমধ্যে সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে একটি তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় গ্রহণ করেছে। যা বাস্তবায়ন করতে হলে শুধু কর বৃদ্ধি নয় তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণে দরকার সার্বিক জনসচেতনতা।

লেখক : ইন‌আমুল হাসান আরিফ
শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।