তরুণ উদ্যোক্তা ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ ও তাঁর ৬ বন্ধুর গল্প

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

ইলিয়াস হোসাইন :

কোভিড ১৯ এর কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সময়কে কাজে লাগিয়ে মাগুরায় সাত বন্ধু গড়ে তুলছেন কলার বাগান।

তাদের কেউ পড়ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, কেউ বা দেশের কোনও প্রসিদ্ধ কলেজে।

করোনার কারণে এখন ক্লাস বন্ধ, তাই সাত বন্ধু ঘরে বসে সময় নষ্ট না করে এখন ব্যস্ত কৃষিকাজে। মাগুরার মহম্মদপুরের বালিয়িয়া ইউনিয়নের কাওড়া গ্রামের অনার্স-মাস্টার্স পড়ুয়া সাত যুবক কোনও শ্রমিকের সহযোগিতা ছাড়াই নিজেদের শ্রমে তৈরি করছেন একশ শতাংশ জমির ওপর দুটি কলার বাগান। আরও মজার বিষয় হচ্ছে, এ কাজে নিয়মিত চাষ হয় এমন জমি ব্যবহার করেননি তারা। অনাবাদি জমি লিজ নিয়ে সেই জমিতে গড়ে তুলেছেন তাদের বাগান।

উদ্যোক্তাদের অন্যতম একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট’স অ্যাসোসিয়েশন অব মাগুরা (ডুসাম) এর সভাপতি আসিফ ইকবাল নাহিদ। তিনি বলেন, করোনার কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হলে আমরাও গ্রামে ফিরে আসতে বাধ্য হই। আমার মতো অন্য বন্ধুরাও ক্লাস বন্ধ থাকায় গ্রামে কোনও কাজ ছাড়াই বসে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভাবতে শুরু করি, কিছু করা যায় কিনা। সাত বন্ধু মিলে বসে সিদ্ধান্ত নিলাম, গ্রামে কোনও কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ নেওয়া যায় কিনা। এসময় খবর পেলাম আরএসকেএইচ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের জমি অনাবাদি রয়েছে । এরপর স্যারের কাছে গিয়ে বলতেই তিনি আমাদেরকে নামমাত্র মূল্যে জমি লিজ দিয়ে দিলেন। একইভাবে গ্রামের জলিল মুন্সী আমাদেরকে তার কিছু অনাবাদি জমি লিজ দিলেন। সব মিলিয়ে ১০০ শতাংশ জমি হলো। বাড়িতে টাকা না চেয়ে নিজেদের সঞ্চয়ের টাকায় আমরা জমি দুটো লিজ নেই। অনেকদিন এসব জমি ব্যবহৃত না হওয়ায় চাষের অনুপযুক্ত ছিল। আমরা কোনও শ্রমিক ছাড়াই সাত বন্ধু মিলে শ্রম দিয়ে তৈরি করলাম জমি। এখন কলার বাগান করছি সেখানে। ইতোমধ্যে ৭২০টি কলার গাছ রোপণ করেছি।

সাত বন্ধুর একজন শায়েখ উদ্দীন সোহান। পড়ছেন মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওযার্দী কলেজে রসায়ন বিভাগে সম্মান শ্রেণিতে। সোহান জানান, তিনি আর নাহিদই শুধু নয়, তাদের প্রকল্পসঙ্গী অপর পাঁচ জনও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। এদের মধ্যে নাইমুর রহমান পড়ছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে, সোহেল আদনান পড়ছেন ঢাকা তিতুমীর কলেজে। এছাড়া হাসিবুল ইসলাম শান্ত, রোকোনুজ্জামান ও আরাফাত রাজু মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে বিভিন্ন বিভাগে অনার্সের ছাত্র।

সোহান বলেন, আমরা কোনও কাজকেই ছোট করে দেখি না। বরং কৃষিকাজকে আমাদের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি মনে করি। আমরা ভবিষ্যতে যে যেখানেই থাকি না কেন গ্রামে কৃষি নিয়ে আরও বড় কিছু করতে চাই।

তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শওকতুজ্জামান সৈকত। তিনি বলেন, উদ্যোক্তার অন্যতম একজন নাহিদ আমাকে যখন তাদের উদ্যোগের কথা জানায়, আমি খুশি হই যে, তারা দেশের এই দুর্যোগ মুহুর্তে এমন উদ্যোগ নিয়েছে। আমি তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার মাধ্যমে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।

মহম্মদপুর আরএসকেএইচ ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক নাসিরুল ইসলাম তার জমিতে এসব বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলের কলার বাগান গড়ে তোলা প্রসঙ্গে বলেন, জমিটা পড়েই ছিল। এখন আমরা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। নতুন নতুন জমিতে আবাদ প্রয়োজন। ছেলেগুলোও খুব উৎসাহী। খুব ভালো লাগলো ওদের উৎসাহ দেখে। তাই, কিছু ভাবার আগেই রাজি হয়ে গেলাম।

বালিদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পান্নু মোল্লা বলেন, ওদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি ওদেরকে আশ্বাস দিয়েছি, যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবো।