ডিভোর্স কোন সমাধান নয়!!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০২০

——–
সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম একটি প্রধান সমস্যা হচ্ছে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদ।দিনদিন আমাদের সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।সাংসারিক জীবনে বাড়ছে অস্থিরতা,সমাজে দেখা দিচ্ছে বিশৃঙ্খলা।বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে বিবাহবিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি।প্রতিদিনই অস্বাভাবিক হারে বিবাহবিচ্ছেদর ঘটনা নথিভুক্ত হচ্ছে।এক জরিপে দেখা যায় বিভাগীয় শহরে ডিভোর্সের হার ৪৯.০৩ শতাংশ এবং জেলা শহরে ৩৫.৫ শতাংশ।
গত জুলাই মাসে রাজধানী ঢাকার দুই সিটিকর্পোরেশনে নথিভুক্ত ডিভোর্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতিদিন ঢাকা শহরে ডিভোর্সের ঘটনা ঘটেছে ৫১ টি। গত জুলাই মাসে ঢাকা দক্ষিন সিটিকর্পোরেশনে ডিভোর্সের ঘটনা ঘটে ৮৭৮ টি এবং উত্তর সিটিকর্পোরেশনে ঘটে ৬৫০ টি।এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় সবচেয়ে বেশি ডিভোর্সের পথ অবলম্বন করেছে নারীরা।বিভাগীয় ও জেলা শহরেগুলোতে নারীরা ৭০ শতাংশ এবং পুরুষরা ৩০ শতাংশ ডিভোর্স দিচ্ছে।
এই পরিসংখ্যান যেন প্রতিনিয়তই ঊর্ধ্বগতিতে বাড়ছে।ধীরেধীরে গ্রামেও বাড়ছে এই ডিভোর্সের হার।প্রতিনিয়তই অস্বাভাবিক হারে এই ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়ার কারন কি?ডিভোর্সের কারনে সমাজজীবনে কি ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে তা আমাদেরকে অনুধাবন করতে হবে।ছেলেমেয়ের অমতে বিয়ে, স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের প্রতি বিশ্বাসহীনতা, মানসিক ও শারাীরিক নির্যাতনের কারনেই অধিকাংশ ডিভোর্স হচ্ছে।অনেক সময় যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারার কারনে মানসিক ও শারাীরিক অত্যাচারের শিকার হয় নারীরা।আর স্বামীর এই অমানুষিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে একমাত্র ডিভোর্সের পথই তারা বেঁচে নেয়।সাধ্যের বেশি কাবিনের অর্থ নির্ধারনও ডিভোর্সের একটি কারন।অতিরিক্ত কাবিনের টাকার কারনে নারীদের হাতেও পুরুষদেরকে অনেক সময় নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
কাবিনের টাকা আদায় করতে গিয়ে পুরুষদের হেনস্থার মাধ্যমে ডিভোর্সের পথ বেঁচে নেয়।
পরকিয়া প্রেমও ডিভোর্সের অন্যতম একটি কারন।পরকিয়া প্রেমের কারনে সংসারে এক ধরনের অবিশ্বাস ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।পরবর্তীতে এই বিশৃঙ্খল জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে ডিভোর্সের মতো পথ বেঁচে নিতে হয়।

এভাবে যদি সমাজে অহরহ ডিভোর্স হতে থাকে তাহলে খুব দ্রুত সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হবে।সমাজে দেখা দিবে বিশৃঙ্খলা।সামাজিক মূল্যবোধ হারিয়ে মানুষ পশুত্বে পরিনত হবে।তাই দাম্পত্য জীবনে কোন সমস্যার সমাধান ডিভোর্সের মাধ্যমে না করে সমঝোতার মাধ্যমে সামাজিক প্রতিষ্ঠান বিয়েকে স্থায়িত্ব দিতে হবে।স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপনের মাধ্যমে সংসারকে সন্তান লালনপালনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করতে হবে।রাষ্ট্রেকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।নারী নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।বিয়েতে কনেপক্ষ যেন অতিরিক্ত কাবিনের টাকা দাবি করতে না পারে,এজন্য সুনিদিষ্ট আইন করতে হবে।সুষ্ঠু আইন প্রয়োগ ও মানসিক পরিবর্তনের মাধ্যমেই এই সামাজিক ব্যধি থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।
———-
মোঃ আল আমিন
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।