ঝুঁকিমুক্ত যাতায়াতের জন্য মহেশখালীতে সেতু চাই আন্দোলন

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

(এখনো মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দ্বীপের লক্ষ লক্ষ মানুষের নদী পার হতে হয়)

 

এস. এম. রুবেল, মহেশখালী :

কক্সবাজার-মহেশখালী নদীপথে সেতু নির্মাণের দাবীতে মহেশখালী উপজেলা প্রাঙ্গণের সামনে মৌন মিছিল, মানববন্ধন ও পথসভার আয়োজন করেছে মহেশখালী উন্নয়ন পরিষদ নামের একটি সংগঠন ও সেতু চাই আন্দোলন কমিটি। এতে মহেশখালীর সর্বস্তরের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন সহ শ্রেণীপেশার মানুষ একাত্বতা প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন। ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় সাংবাদিক ফরিদ দেওয়ান ও সাংবাদিক আবুল বশর পারভেজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর মৌন মিছিল সহকারে প্রায় ২০টির অধিক সংগঠন ও ৫শতাধিক মানুষ উপস্থিত হয়। পরে উপজেলা প্রাঙ্গন থেকে গোরকঘাটা বাজার হয়ে মৌন মিছিল করে পূণরায় একই স্থানে এসে মানববন্ধন ও পথসভার শেষ হয়।

জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে কক্সবাজার জেলা সদরে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নদীপথ। যুগ যুগ ধরে এই নদীপথে ঘাটের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ নানান ভাবে হয়রাণী ও দুর্নীতির শিকার হচ্ছে। মনগড়া নিয়মে যাত্রী ও মালামালের উপর অনিয়ন্ত্রিত টোল আদায়, অতিরিক্ত বোট ভাড়া ও মালামাল ভাড়া সহ যাত্রীদের চাপ বাড়লে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিনব পন্থা অবলম্বন করে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করছে ঘাট সংশ্লিষ্ট একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় নিরীহ যাত্রীরা। যাত্রীদের কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ সহ রীতিমত নাজেহাল করা হয় বলে জানা যায়। কক্সবাজার ৬নং ঘাট ও মহেশখালী ঘাটে নানান অনিয়মকে নিয়ম করে যাত্রীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা না করেই যথেচ্ছা ঘাট পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অব্যবস্থাপনার কারণে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বোট দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্র তোফাইল ও ব্যবসায়ী ইসমাইল নিখোঁজ হয় এবং পরে ভাসমান অবস্থায় তাদের লাশ পাওয়া যায়। এছাড়া মহেশখালীতে বর্তমানে সরকারের বড় বড় মেগা প্রকল্প দৃশ্যমান হয়ে ইতিমধ্যে আলোর মুখ দেখেছে। এটি সারাদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তাই সাধারণ মানুষ ঘাটের অব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার জন্য “সেতু চাই” আন্দোলনে নেমেছে। আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে এই মৌন মিছিল, মানববন্ধন ও পথসভা করা হয় বলে আয়োজকরা জানান।

মানববন্ধনে দ্রæত সেতুর দাবী করে বক্তারা জানান, স্বাধীনতার এত বছর পরেও মহেশখালী জনপদ অবহেলীত। এখনো মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে দ্বীপের লক্ষ লক্ষ মানুষের নদী পার হতে হয়। বৃদ্ধ, শিশু, শিক্ষার্থী ও রোগীদের পড়তে অসহায় হয়রাণীতে। ঘাটে প্রতিনিয়ত বোটে উঠতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শতভাগ ঝুঁকিতেই ছোট ছোট স্পীড বোট ও গামবোটে করে পারাপার সত্যিই কষ্টকর। অনিচ্ছা স্বত্বেও নিরুপায় হয়ে নদী পারাপার করতে হয় সবাইকে। আর প্রতিবছর কোন না কোন নৌদুর্ঘটনায় পতিত হয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হয় এই জনপদের মানুষদের। জেলা সদর কক্সবাজারের সাথে শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত নিরাপদ ও সহজলভ্য যাতায়াতের জন্যে একটি সেতু নির্মাণ খুব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তাই সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এই আন্দোলন বলে জানান তারা।

মানববন্ধনের অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, বৃহত্তর গোরকঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শামশুল আলম, মহেশখালী দুর্নীতির দমন কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ড: মোহাম্মদ ফিরোজ খাঁন, মহেশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম বিএ, বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও মহেশখালী পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র পূর্ণ চন্দ্র দে, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলহাজ্ব সাজেদুল করিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক প্রভাষক এহসানুল করিম, সাবেক ছাত্রনেতা ও উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সহ-সভাপতি আব্দুস ছালাম বাঙালী, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম, ইমামদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন মাওলানা আইয়ুবুর রহমান, ছাত্রদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সজিব।

এই মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে ব্যানার সহকারে যোগ দিয়েছেন ডাকবাংলো বণিক কল্যাণ সমিতি, ফকিরাঘোনা যুব কল্যাণ সমবায় সমিতি, গোরকঘাটা গোলশান সোসাইটি, ভাই ভাই সমিতি হাসপাতাল সড়ক, মিশুক গাড়ি বণিক সমিতি নতুন বাজার, মহেশখালী ডিগ্রী কলেজ বাংলা বিভাগ, বড় মহেশখালী দর্জি কারিগর সমবায় সমিতি, সেন্টার ফর এন ভাইরন্টমেন্ট হিউম্যান রাইটস, ইমাম মোয়াজ্জেম কল্যাণ সমিতি পৌরসভা, নুরুল হক ফাউন্ডেশন মহেশখালী, স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন মহেশখালী, তোফাইল স্মৃতি পরিষদ, দক্ষিণ পুটিবিলা ভিং হিউম্যান অর্গানাইজেশন, মহেশখালী ব্লাড ডোনারস কমিউনিটি, মহেশখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি সহ বেশ ক’টি সংগঠন।