ঝিমিয়ে পড়েছে শতবছরের পুরনো বিদ্যালয়টি ও তার শিক্ষার মান !

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

জামালপুর থেকে ফিরে আহমেদ শাহ–

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এক জেলা,জামালপুর।এ বছর বন্যায় কী ভয়াবহ তাণ্ডবটাই না ঘটে গেল।তবুও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এ জেলার প্রতিটি অঞ্চল পরিদর্শন করে উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা দেখতে পাওয়া যায়।সামাজিক,অর্থনৈতিক,রাজনৈতিক,শিক্ষা,সংস্কৃতি প্রভৃতি চর্চার জন্য সুন্দর পরিবেশ বিরাজ করার কথা থাকলেও জনজীবনের দুর্ভোগ প্রকৃতিকে ভাবিয়ে তোলে। প্রকৃতিদেবী যেন সবথেকে বড় ধোঁকাবাজ।সব দিয়েও সব কেড়ে নেন।এখানকার নিরীহ,নির্বিকার মানুষগুলো একেকজন দর্শক।নিজেদের সাজানো মঞ্চে এরা উপভোগ করে চলেছেন ভোগবাদী,স্বার্থান্বেষী,পাশবিকতায় সমৃদ্ধ গুটি কতক মানুষের প্রলয় নাটক।কতটা নিরীহ হলে মানুষের ভয়ে মানুষ কুপোকাত হয়ে থাকে,সে বিষয়ে নিশ্চয়ই আমরা অবগত। নেতিবাচক চরিত্রের এই মানুষদের জন্য জামালপুর আজও শিক্ষায়,সংস্কৃতি চর্চায়,সামাজিকতায়,অর্থনীতিতে,রাজনীতিতেসহ সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রেই দেশের অন্যসব উন্নত জেলার থেকে যোজন,যোজন পিছিয়ে আছে।বর্তমানে এহেন পশ্চাৎ যাত্রা আরও ভয়াবহ আকার ধারন করেছে।এ যাত্রায় সবথেকে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে জনগনের পুঁজিবাদী,স্বার্থান্বেষী,ভোগবাদী ,নৈতিকতা বিবর্জিত,প্রতিযোগিতাপ্রবণ হয়ে ওঠা।এখানকার মানুষ এখনও উন্নয়ন বলতে তিনবেলা নিশ্চিন্তে পেটপুরে খাওয়া বুঝে।যাহোক,বড় ক্ষতিটা হয়েছে,তাদের নিজেদের সাথেই নিজেদের কোন্দলে ভরা রাজনীতিতে।গোটাদেশের চলমান নোংরা রাজনীতি এখানকার মানুষদেরও ক্ষমতা,আধিপত্যের প্রতি লোভী বানিয়ে ফেলেছে।এই ক্ষমতালাভের দৌড়ে তারাও অনায়াসে মানুষ খুন করে।এ জেলার সর্বপ্রান্তে ছড়িয়ে পড়া এই অমোঘ প্রবণতা থেকে নির্দোষ শিক্ষাব্যবস্থাও নিস্তার পায়নি।ক্ষমতালোভী নরপিশাচেরা আজ এখানকার স্কুল কলেজের অভিভাবক।সামগ্রিক দুর্বিষহ পরিস্থিতে শিক্ষকেরাও গা ভাসানোর সুবিধায় মত্ত।জনগনতো অনেক আগেই বেঁচে থেকেও মরে গেছে।

ঠিক যেমন মরে যেতে বসেছে বাংলাদেশ উচ্চ বিদ্যালয়।জামালপুর সদরের ১নং কেন্দুয়া ইউনিয়নের সবথেকে বড় বিদ্যালয় এটি।পরিসরে,স্থাপত্যে,শিক্ষক-শিক্ষার্থী সংখ্যায় ,সবদিক থেকেই বড় ।১৯২৪ সালে স্থাপিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই লজ্জাজনক,নিম্নমুখী।বিদ্যালয়টি সরকারি হেফাজতেই পরিচালিত।কিন্তু দানবের খপ্পর থেকে রেহাই মেলেনি তার।শিক্ষার নাজেহাল মান,শিক্ষাদানে উদাসীন শিক্ষক,হায়েনার মত ক্ষুধার্ত ম্যানেজিং কমিটি,বিশৃঙ্খল পরিচালনা ব্যবস্থা,শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি,অযোগ্য শিক্ষক নিয়োগ,অবকাঠামো বাজেটে হুন্ডি-বাট্টার হিসেবের মত ঘটনা যেন অতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে।শিক্ষক এখানে কোচিং-টিউশনি ব্যবসা চালান।ক্লাস আওয়ারে শিক্ষার্থীরা পাশের বাজারে ঘুরে বেড়ায়,মাদক সেবন করে।এ বিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষার শিক্ষিকা সমাজ পড়ান,কোনমতে বাংলায় অথবা ভিন্ন বিষয়ে পাশ করা শিক্ষক বিজ্ঞান পড়ান,প্রধান শিক্ষক নয় লাখ টাকার নিলাম শেষে পদ পান,জুনিয়র শিক্ষকগণ লাখ টাকার উপঢৌকন বিলিয়ে শিক্ষক হন,ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা দিনের সিংহভাগ সময় বিদ্যালয়ে বসে থেকে বিদ্যালয় থেকে আয় করে,অবকাঠামোগত উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থের ভাগ পরিচ্ছন্নতাকর্মীও পায়।এখানকার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের বড় মাঠটায় খেলার আগ্রহ পায় না,সকল সামাজিক অবক্ষয়মুখী শিখনে এদের ঝোঁক,এরা গুরুজনে ভক্তি,ছোটদের স্নেহ বুঝে না,ভালো-মন্দের পার্থক্য করে না।আরও কত কী হয়,হবে সে হিসেব অন্য সময় মিলানো যাবে।সবথেকে মজার বিষয় হচ্ছে,এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মিলনায়তন কক্ষে টিভি বসানো থাকে।শিক্ষকগণ ক্লাসের ফাঁকে বিভিন্ন প্রোগ্রাম উপভোগ করে ক্লাসে যান।প্রায়ই ফাঁকটা দীর্ঘ সময়ের হয়।আফসোসের বিষয়,এত কিছু অনবরত ঘটে যাওয়ার পরও এখানকার মানুষ সেই নিরীহ,নির্বিকার।ভাবলে দেখবেন পুরো দেশের ক’হাজার বিদ্যালয়ে উক্ত ঘটনাপ্রবাহ ঘটে চলেছে।এর পরিণাম কী হতে পারে ভেবেছেন?