জাহাজ কাটার শিল্প শ্রমিক এবং শ্রম আইন ২০০৬

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

—————————-
ধনী দরিদ্রের জীবনযাত্রার বৈষম্য চরমভাবে লক্ষণীয় বাংলাদেশের জাহাজ কাটার শিল্প শ্রমিকদের মধ্যে। চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়েরর আইন অনুষদের শিক্ষানবীশের মাঠ জরিপের অংশ নিয়ে প্রত্যক্ষ অনুধাবন থেকে প্রতিবেদনেরর সূএ। বিশ্বে যে পরিমাণ জাহাজ কাটা হয় তার পঞ্চান্ন শতাংশ জাহাজ কাটার কাজ সম্পন্ন হয় আমাদের দেশে। বিশেষত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদান হাট থেকে কুমিরা পর্যন্ত এ শিল্পের কার্যক্রম দৃশ্য। অএ এলাকার ১৫০টিও বেশি রেজিস্ট্রেশন থাকলেও সক্রিয় ইর্য়াডের সংখ্যা ৫০-৬০টির মতো এবং সেখানে প্রায় ২০-২৫হাজারের মতো শ্রমিক কাজে নিয়োজিত রয়েছে।বস্তুত দেখা যায়, এটি একটি শ্রম ও ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প। পরিসংখ্যান মতে ২০১৭-২০১৮ সালের ৩২জন এবং ২০১৯ সালের ১ম ৬মাসে ২৪জন শ্রমিক বিভিন্নভাবে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে নিহত হয় যা অতীতের সব রেকর্ডের উর্ধ্বে। বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ এর ৫ম ধারামতে মালিকপএ শ্রমিকের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র সরবরাহের বিধান বর্ণিত থাকলে অধিকাংশ শ্রমিক চুক্তি বা নিয়োগবিহীন কাজ করার ফলে শ্রমিকরা তাদের কাম্য অধিকার আদায় থেকে বঞ্চিত,২০১৮ সালের ঘোষিত মজুরি বোর্ডের অনুযায়ী এ শিল্পের শ্রমিকদের ধার্যকৃত মাসিক মজুরি,ওভারটাইমের মজ্ঞুরি যা শ্রম আইনের ১৪৮ ধারায় তা বাধ্যতামূলক হলেও এক্ষেএে মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকের প্রাপ্রের মধ্যে অনেক ফারাক মনে হলে যা শ্রমিকের দ্রারিদ্রের সঙ্গে উপহাস করাে মতোতো।বিভিন্ন শ্রমিকের সাথে আলাপে তাদের কর্মসংস্থান ও জীবনধারার ভাষ্য মতে অত্যন্ত বেদনাদায়ক এর একটা জ্বলন্ত উদাহরণ জনাব ফয়েজুর রহমান। তিনি এই শিল্পে প্রায় বার বছর ধরে কর্মরত অবস্থায় বিগত বছর মারাত্মকভাবে আহত হন। যথাযথ চিকিৎসা ও পরিচর্যা অভাবে পায়ের পচন ধরে দ। এক পর্যায়ে চিকিৎসক পা কেটে ফেলার পরামর্শ দিলে কর্তৃপক্ষের সাথে অনেক দেন দরবারের পর সামান্য টাকা আদায়ে সমর্থ হলে দালাল চক্র তার বেশিরভাগ অংশ হাতিয়ে নেয় যা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাবে প্রাণ হারাচ্ছে ফয়জুরের মতো আরো হাজারো প্রাণ। প্রতিবেদক টিম বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বিলস এর প্রোগ্রাম অফিসার ডেনিস ট্রেড ইউনিয়ন ডেভেলাপমেন্ট এজেন্সি ডি.টি.ডি এর কেন্দ্রীয় সংগঠকের সাথে কথা বলে জানতে পারেন।শ্রম আইনে ইনজ্ঞুরি হওয়ার পর কর্মক্ষম হলে বা হাসপাতালে অবস্থান করলে এক বছর পর্যন্ত তাকে মজ্ঞুরী দেওয়া হবে যা মালিকপক্ষ মানতে চায়না। এই শিল্পের নিরাপত্তা ঘাটতিতে ও পরিবেশগত কারণে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিত্যক্ত জাহাজের ক্ষতিকর পদার্থ সমূহ যেমন সিসা, পারদ,ক্রোমাইটস ও ক্রমবেস্টস পরিবেষ্টিত পরিবেশে শ্রমিকদের কাজ করতে হলে তাদের ফুসফুসে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি দ।বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের সম্মানিত অ্যাডভোকেট রুবেল কুমার দাশ অপু এক আইনি প্রতিকারের বিষয়ে হতাশার সুরে বলেন,বাংলাদেশের শ্রমিকদের জন্য শুধুমাত্র দুটি শ্রম আদালত রয়েছে যার ফলে এই মামলাজট দিন দিন বেড়ে চলেছে এবং মামলা নিষ্পত্তিতে সময়সীমা দীর্ঘতার কারণে শ্রমিকরা ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে।এক পর্যায়ে তাদের এ ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ কারার ফলে হতাশাগ্রস্ত শ্রমিকের কোন অধিকার এর প্রাপ্য আদায়ে তেমন কোনো ফল পায় না।তীব্র নিরাপত্তা শঙ্কা এবং নির্যাতনের পরও নিরলস পরিশ্রমে শিল্পকে এগিয়ে নেওয়া অসচ্ছ্বল,সুবিধা বঞ্চিত ও দুর্বল প্রান্তিক শ্রমিকগোষ্ঠী নিরপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে যা ভবিষ্যতের জন্য সুখকর নয়।
জাহাজ কাটার শিল্ককে রক্ষা ও টেকসই করার স্বার্থে শ্রমিকদেরমান উজ্জ্বল নিশ্চিতকরণ এবং মৃত্যুর ঝুঁকিি বন্ধ করতে হবে।শ্রম আইনের আওতায়,উচ্চ আদালতের কিছু কড়া আদেশ বিধি প্রযোজ্য হোক যা সর্বজনীনভাবে মানানসই।তবে গড়ে উঠবে উচ্চমানের দূর্ঘটনামুক্ত,নিরাপদ শিল্প ইয়ার্ড।
———————
ইসরাত,তির্ণা,উদ্দীপন,জাকিয়া,আফিয়া, প্রদীপ্ত
আইন অনুষদ
৩৮তম ব্যাচ
প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়