জামালপুরের লাইফ গার্ডের সহায়তায় সেলাই মেশিনে পেলেন রোজিনা খাতুন

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০২০

রোকনুজ্জামান সবুজ,জামালপুর ঃ

রোজিনা সেলাই মেশিনে স্বপ্ন বুনার ইচ্ছাটি তার অনেক আগের থেকে। কিন্তু রোজিনা খাতুন সেই স্বপ্ন পূরনের মূল প্রতিবন্ধকতা তাদের দারিদ্রতা। দারিদ্রতার কষাঘাতে স্বপ্ন যখন ভেঙ্গে যাওয়ার পথে ঠিক সেই সময় দরিদ্র পরিবারটির মুখে হাসি ফুটিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইফগার্ড। জামালপুর লাইফ গার্ডের দেওয়া সেলাই মেশিনে কাঙ্খিত স্বপ্ন বুনতে যাচ্ছে রোজিনা খাতুন।
জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের সোনাকাতা গ্রামের ২০ বছর বয়সী রোজিনা খাতুন। সোমবার সকালে রোজিনা খাতুন জানান- তার বাবা রবিউল ইসলাম থেকেও নেই। অনেক বছর হলো বাবাকে দেখে না তিনি। মা শাহানা ও ছোট দুই ভাই বোন নিয়ে সংসার তাদের। বসত বাড়ির ভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই তাদের। মা কাজ করেন অন্যের বাড়িতে এবং নিজে প্রাইভেট পড়ান। সেই উপার্জন দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজে পড়ছেন সরকারী আশেক মাহমুদ কলেজের দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষে এবং ছোট দুই ভাই বোন লেখা পড়া করছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। খুব কষ্ট হলেও দুবেলা খেয়ে পরিবার নিয়ে সুখেই দিন পাড় করছিলো রোজিনা। কিন্তু সেই ছোট পরিবারটির সুখ কেড়ে নেয় মহামারী করোনা ও প্রবল বন্যা। কাজ হারায় মা মেয়ে দুই জনই। দিন যেতে থাকে অর্ধাহারে ও অনাহারে। তবে সেলাই মেশিনের কাজ জানা ছিলো রোজিনার। বিভিন্ন দরজায় ঘুরেন একটি সেলাই মেশিনের জন্য। যাতে সেলাই মেশিনে কাজ করে পরিবার নিয়ে দুবেলা খেয়ে বেচে থাকতে পারেন। চালাতে পারেন নিজের ও ভাই বোনের লেখাপড়ার খরচ। দাড়াতে পারেন নিজের পায়ে। কিন্তু না। সব জায়গা থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। ভেস্তে যেতে বসেছে তার স্বপ্ন। এমন সময় তিনি বিষয়টি জানান স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইফগার্ডের সদস্যদের। এরপর সোমবার সকালে লাইফগার্ড কর্তৃপক্ষ রোজিনা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে সেলাই মেশিন ও আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম তাকে প্রদান করেন।
সেলাই মেশিন বিতরনের সময় লাইফ গার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক বদরুল ইসলাম সায়েম, জামালপুর জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ইঞ্জি: রুহুল আমিন, যুগ্ম- সাধারন সম্পাদক ইঞ্জি: গোলাম সিফাত, সাংগঠনিক সম্পাদক রুপক ইমতিয়াজ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আজিজ অনিকসহ সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন।
লাইফ গার্ডের পরিচালক বদরুল ইসলাম সায়েম জানান- রোজিনা খাতুনের খবর পাওয়ার পর লাইফ গার্ড কর্তৃপক্ষ তাদের সদস্যদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে সেলাই মেশিনটি ক্রয় করে। এছাড়াও তাকে সুই,সুতা, কাচি, ফিতাসহ সেলাই মেশিনের আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। যাতে রোজিনা খাতুন ভালোভাবে তার সংসার পরিচালনা করতে পারে। লাইফগার্ড সবসময় অসহায় দরিদ্রদের পাশে আছে বলে জানান তিনি। সেলাই মেশিন পাওয়ার পর রোজিনা খাতুন জানান- এই সেলাই মেশিন চালিয়ে তিনি তার সংসার পরিচালনা করবেন। এছাড়া তার কিছু স্বপ্ন আছে, সেই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করবেন এই সেলাই মেশিন থেকে আয় করে।