জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজসমূহের গবেষণার সুযোগ তৈরী করা প্রয়োজন

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:০২ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৩, ২০২০

শাহারিয়ার সানভি, চট্টগ্রাম সিটি :

দেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজ সমুহে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাশাপাশি স্নাতক (পাস) কোর্স, অনেকগুলি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স ও স্নাতকোত্তর কোর্স পরিচালনা করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ টি অনুষদের অধীনে ৪৪ টি বিষয়ে স্নাতক শ্রেণির পাঠদান করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত কলেজ সংখ্যা ২২৪৯ টি, এর মধ্যে ৮৫৭ টিতে স্নাতক (সম্মান) পড়ানো হয়, ১৪৫টিতে স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ নাই। গবেষণায় আকৃষ্ট করারও কোন সুযোগ নাই। বর্তমান সরকার কলেজসমূহের ভৌত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধির জন্য কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (সিইডিপি) গ্রহণ করে। এই প্রকল্পের আওতায় ল্যাবরেটরী উন্নয়ন ও গবেষণার জন্য বরাদ্দ রয়েছে।

ইউজিসির একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজ থেকে পাস করা স্নাতকদের শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত নয়। এ ক্ষেত্রে কাঙ্খিত মান অর্জনের জন্য কলেজ সমূহে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি শিক্ষকদের গবেষণা পরিচালনায় উদ্বুদ্ধ করার ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।

সরকারি কলেজ সমূহ বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের দ্বারা পরিচালিত ও পাঠদান হয়। সরকারি কর্ম কমিশন পরিচালিত কঠোর প্রতিযোগিতামুলক বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের মত সরকারি কলেজসমূহে প্রভাষক পদে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা হিসাবে তাদের নিয়োগ ও কর্মজীবন শুরু হয়। কর্মজীবনে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাগণ না পায় অন্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের মত সুযোগ সুবিধা, না পায় শিক্ষা ক্যাডারে ক্যারিয়ার গঠনে উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণার সুযোগ। তাদের পদোন্নতি হয় অন্যান্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের মত বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ, বিভাগীয় পরীক্ষা ও সিনিয়র স্কেল পরীক্ষার মাধ্যমে। শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতিতে এম ফিল, পি এইচ ডি, পোস্ট ডক্টরেট, জার্নাল প্রকাশনা ইত্যাদির কোন ভুমিকা নাই। ফলে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাগণ গবেষণায় আগ্রহী হয় না। প্রভাষক থেকে প্রফেসর পর্যন্ত পদে পদোন্নতির কোন ধাপে রিসার্স পাবলিকেশনের প্রয়োজন হয় না।

বেসরকারী কলেজসমূহে অনুপাতের ভিত্তিতে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদ পর্যন্ত পদোন্নতির সুযোগ সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বেসরকারি কলেজে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ রুদ্ধ রাখা হয়েছে। এখানে গবেষণার সুযোগ নাই। হাতেগোণা দু-চারজন ব্যক্তিগত আগ্রহে অনেক প্রতিকূলতার মধ্যে গবেষণায় যুক্ত থাকলেও কোন প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় উৎসাহ পায়না। সরকারিকরণ কলেজের ননক্যাডার শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।

সরকারি বেসরকারি কলেজ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যমান পদোন্নতি ব্যবস্থার পাশাপাশি পদোন্নতিতে শিক্ষকদের উচ্চতর ডিগ্রি ও গবেষণা প্রকাশনা মূল্যায়ন ও বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। প্রফেসর পদে আন্তর্জাতিক মান অর্জন সম্ভব না হলেও অন্তত পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর পদে পদোন্নতির সাথে সমন্বয় রেখে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের পরামর্শক্রমে জাতীয় মান অর্জনের জন্য গবেষণা প্রকাশনার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম সরকারি হাজি মুহাম্মদ মহসিন কলেজের একজন সহযোগী অধ্যাপক, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা, রসায়ন ও পরিবেশ বিজ্ঞানী, ড. মুহাম্মদ ইদ্রিস আলীর অধ্যাপক পদে পদোন্নতির একটি আবেদন ভাইরাল হয়েছে। এতে দেখা যায় এই সিনিয়র শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তা ৮ বছর যাবৎ সহযোগী অধ্যাপক পদে কর্মরত আছেন, তাঁর ৩০টী জার্নাল প্রকাশনা রয়েছে, ৭০ টি এমএসসি থিসিস তত্ত্বাবধান করেছেন, তবে তিনি প্রফেসর পদে পদোন্নতি না পেয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে অবসরে গমনের আশংকা করছেন।