ছেলের হাতে বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যু ; স্বামীর হাতে খুনের শিকার স্ত্রী!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধিঃ
কক্সবাজারের পেকুয়ায় ছেলে নাছির উদ্দিনের হাতে বৃদ্ধা মা সামশুনাহার (৮৩) নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টার দিতে উপজেলার বারবাকিয়া ইউপির ভারুয়াখালী এলাকায় বৃদ্ধার নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সামশুনাহার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ওই এলাকার বদিউল আলমের স্ত্রী। এ ঘটনাায় পেকুয়া থানা পুলিশ ঘাতক ছেলে নাছিরকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মুহাম্মদ ইউনুস জানায়, নাছির উদ্দিন ও তার ভাইদের মধ্যে বসতভিটার জায়গা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নাছির উদ্দিন ধারালো দা নিয়ে হাকাবকা করে। আমরা গিয়ে তাকে শান্তনা করে বাড়িতে ঢুকিয়ে দিই। নাছির উদ্দিন বাড়িতে মাকে নিয়ে থাকতো। গতকাল সকালে ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখে নাছির উদ্দিন। অনেক ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া শব্দ না পেলে আমরা পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় সামশুন্নাহারের মরদেহ মাটিতে পড়ে থাকে।
তবে নিহতের অপর ছেলে মো হোছেনের বলেন, আমার ভাইয়ের আচরণ খারাপ দেখার পর মাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইউপি সদস্য ইউনুছের সহযোগিতা কামনা করি। কিন্তু তিনি কোন ধরণের সহযোগিতাতো দূরের কথা মাকেও তার কবল থেকে আমাদেরকে নিতে দেয়নি ইউপি সদস্য ইউনুছ।
পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) মাইন উদ্দিন বলেন, ঘটনান্থল থেকে নিহত শামসুন্নাহারের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নাছির উদ্দিন নামের এক ছেলেকে আটক করা হয়েছে। মহিলার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এবিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অপরদিকে একইদিন বিকালে স্বামী মোঃ আলমগীরের হাতে খুনের শিকার হয়েছেন স্ত্রী সালমা আক্তার (১৫)। নিহত সালমা পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউপির পন্ডিত পাড়া এলাকার বাদশা মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক মোঃ আলমগীরকে চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানা পুলিশ আটক করেছে। তিনি বারবাকিয়া পাহাড়িয়াখালী এলাকার জাফর আলমের ছেলে।
নিহত সালমা আক্তারের মা মর্তুজা বেগম বলেন, গত তিনমাস আগে স্থানীয় দা—বাহিনীর প্রধান নাছিরের সহযোগিতায় কিশোরী মেয়েকে জোরপূর্বক নিয়ে যায় আলমগীর। সেখানে তাকে বেশ কয়েকবার মারধর করে আহত করে। মারধরের বিষয়টি আমি পেকুয়া থানায় অবগত করলেও কোন উদ্যোগ নেয়নি থানা পুলিশ।
সর্বশেষ শনিবার সালমা আক্তারকে শরীরের বিভিন্ন অংশে লোহার রড় দিয়ে আঘাত করে। একই সাথে সর্বশরীরে পিটিয়ে আহত করে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। রবিবার চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়েন। তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন তথ্য পাঁচলাইশ থানার ওসিকে অবগত করলে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।
পেকুয়া থানার এসআই আতিকুর রহমান বলেন, গত রবিবার সালমাকে চট্টগ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার ভোরে মারা যায়। স্বামী আলমগীরকে পাঁচলাইশ থানায় আটক করেছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। পেকুয়া থানায় মামলা হওয়ার পর এঘটনায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।##