চাকরিতে আগ্রহ নেই, ফ্রিল্যান্সিং এর শখটা দীর্ঘ দিনের

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ১০:৫৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২০

আউটসোর্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বাংলাদেশ। বিশ্ব জুড়ে প্রতি বছরে প্রায় সাড়ে আটশো কোটি টাকা আয় করছে দেশীয় ফ্রিল্যান্সাররা। আউটসোর্সিং জগতে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশ এক আদর্শের নাম। চাকরি জোটানোর দুর্দিনে বেকারত্ব ঘোচাতে ফ্রিল্যান্সিং এর অবদান অনস্বীকার্য। অনেকটা শখের বশেই ফ্রিল্যান্সিং জগতে আসেন পুরান ঢাকার ইয়াসিন সিদ্দিক আসিফ। অনলাইনে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ করেন। কিছুদিন আগে মুশফিকুর রহিম ফাউন্ডেশনের লোগো ডিজাইনের প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছেন। নিউজভিশনের সাথে নিজের কর্মজগত নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- মুহা. ইকবাল আজাদ।


আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক, কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর রহমতে ভালো আছি।

মহামারির দিনগুলোতে কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন? দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি কোন ভিন্ন কিছু করছেন কী?
মহামারিতে আপাতত বাসায়-ই আছি। কোনমতে চলে যাচ্ছে দিনকাল, আলহামদুলিল্লাহ। আর দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি যদি সময় হয় একটু ডিজিটাল মার্কেটিং এর কাজটা দেখছি। শেখার চেষ্টা করছি।

আপনি গত কয়েক বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে জড়িত। এই পথের শুরুটা কীভাবে? বা কাকে দেখে, কার পরামর্শে?
আসলে ফ্রিল্যান্সিং এর শখটা অনেক আগে থেকেই ছিল আমার। তাই ২০১৫ তে গ্রাফিক্স ডিজাইনের কোর্স করেছিলাম। কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য যে আলাদা কোর্স করতে হবে এমন ধারণা ছিলো না। পরে রাজধানীর কাওরান বাজারের একটা আইটি কোম্পানিতে যুক্ত হলাম। তারা আমাকে ডিজাইন সম্পর্কে সম্যক ধারনা দেয়। একটা সাইটে খুলে কাজ দেখিয়ে দেয়। সেখান থেকেই ফ্রিল্যান্সিং এর যাত্রা শুরু। আলহামদুলিল্লাহ।

সাধারণত পড়াশোনা করে মানুষ বিভিন্ন চাকরিতে যুক্ত হয়। কেউবা ব্যবসা করে। প্রচলিত চাকরির পেছনে না ঘুরে কেন এই পথযাত্রা?
আসলে প্রচলিত চাকরিতে আমার তেমন আগ্রহ কাজ করে না। কিছু চাকরির প্রস্তাব পেলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছি। ফ্রিল্যান্সিং আমার ভালো লাগে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি। আপাতত এই কাজটাই চালিয়ে যেতে চাচ্ছি। তাছাড়া, ফ্রিল্যান্সিং আমার কিছুটা হলেও ভালো আয় হচ্ছে। তাই কারো বাধ্য হয়ে কাজ করায় মন টানে না।

একজন ফ্রিল্যান্সার নিজের ক্যারিয়ার গঠনে কীভাবে কাজ করে? আয়-উপার্জন কীভাবে শুরু হয়? মাসিক কতটা আয় করা সম্ভব?
আসলে সমাজের অনেকে এখনো ফ্রিল্যান্সিং এর ব্যাপারটা বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না। অনলাইনে টাকা উপার্জনের ব্যাপার নিয়ে এখনো জনমনে ধোঁয়াশা আছে। তবে আপনার যদি ডিজাইনে উপর ভালো দক্ষতা থাকে এবং আপনি আপনার ক্লায়েন্ট এর কথাগুলো বুঝে কাজ করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনি হাজার ডলারের উপরেও আয় করতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ। তাছাড়া অনলাইনে অনেক ডিজাইন প্রতিযোগিতার ওয়েবসাইট আছে। সেখানে একটা ডিজাইন প্রতিযোগিতার বাজেট প্রায় ১৫০-২০০০ ডলার পর্যন্ত থাকে। সেসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে আপনার আয়ের পথ আরও বিস্তৃত হবে।

কথিত আছে, ফ্রিল্যান্সারদের ইংরেজিতে খুব দক্ষ হতে হয় এবং নির্ঘুম থেকে কাজ করতে হয়। ব্যাপারটি কতটা সত্য?
নির্ঘুম থেকে কাজ করার ব্যাপারটি পুরোপুরি অসত্য নয়। ক্লায়েন্ট কাজে স্বল্প সময় বেঁধে দিলে রাত জেগেও কাজ করতে হয়। তাছাড়া অনলাইনে মাঝ রাতেই অর্ডার বিড করতে হয়। আর ফ্রিল্যান্সিং জগতে ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকা আবশ্যক। অন্যথায় কাজ পেতে এবং করতে উভয় স্থানে ব্যাঘাত ঘটবে।

দেশে বেকারত্বের হার প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেকারত্ব ঘোচাতে আউটসোর্সিং কতটা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন? তাছাড়া দেশের অর্থনীতিতে ফ্রিল্যান্সারদের অবদান কতটুকু?
পুরো বিশ্বে ফ্রিল্যান্সারদের মোট ১৬ শতাংশই বাংলাদেশের। দেশে প্রায় ৫ লাখের উপরে ফ্রিল্যান্সার আছে। গ্রাফিক্স ডিজাইনের পাশাপাশি তারা ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিং ইত্যাদির কাজ করে থাকে। ফ্রিল্যান্সারদের আয় করা অর্থ দেশের জিডিপিতে বেশ অবদান রাখছে। তাছাড়া বাংলাদেশের চার কোটি ৪০ লাখ তরুণের প্রতি ১০ জনের একজন বেকার। খুব সহজেই আইটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। শিক্ষিত নারীর জন্যও ফ্রিল্যান্সিং দারুণ সুযোগ। ঘরে বসেই কাজের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশের নারীরা ফ্রিল্যান্সিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে গড়তে পারেন। তবে এ খাতে ভালো করতে হলে অবকাঠামো এবং সুলভমূল্যে ইন্টারনেটের সুবিধা আরও বাড়াতে হবে।

একজন সাধারণ শিক্ষার্থীকে আউটসোর্সিং শুরু করতে হলে কীভাবে শুরু করতে হবে? কী কী ধাপ অতিক্রম করতে হবে?
অনলাইনে আউটসোর্সিং এর অনেক রকমের কাজ আছে। যেমনঃ গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডিজিটাল মার্কেটিংসহ আরো অনেক কিছু। একজন নবীন ফ্রিল্যান্সারকে আগে ঠিক করতে হবে, তিনি কোন বিভাগে কাজ করবেন। সেই বিভাগ অনুযায়ী কাজ শিখতে হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্রিল্যান্সিং এর কোর্স চালু আছে। চাইলে সেখান থেকে শিখে নিতে পারেন। বলে রাখা ভালো, শুরুতে অনলাইনে কাজ পেতে সময় লাগতে পারে। তাতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আপনি যদি কাজে দক্ষ থাকেন, তবে খুব দ্রুত কাজ পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি আপনার নিজস্ব প্রোফাইলে অবশ্যই আপনার কাজের নমুনা বা ‘Portfolio’ যুক্ত করে রাখতে হবে। যাতে ক্লায়েন্টরা সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।

সম্প্রতি আপনি মুশফিকুর রহিম ফাউন্ডেশনের লোগো ডিজাইন প্রতিযোগিতায় শীর্ষ স্থান অর্জন করেছেন। এমন অর্জনে কেমন অনুভূতি? শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে কীভাবে সাড়া পাচ্ছেন?
সত্যি বলতে কি মুশফিকুর রহিম ফাউন্ডেশনের লোগো প্রতিযোগিতায় শীর্ষ স্থান অর্জন করার পর পরিবার থেকে শুরু করে অনেক মানুষ-ই শুভেচ্ছা জানিয়েছিলো। প্রায় ১৭০০ ডিজাইনের ভিড়ে আমার ডিজাইনকে সেরা নির্বাচন করায় একটু অবাকও হয়েছি। নিশ্চয়ই মুশফিক ভাইয়ের প্রতি অশেষ ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা থাকেব আমার ডিজাইনটাকে পছন্দ করার জন্য। আলহামদুলিল্লাহ।

আমাদের নিউজ পোর্টালের সাথে আপনি অনেকটা পরিচিত। আমাদের নিয়ে স্বল্প লাইনের যদি কোন মন্তব্য থাকে?
আপনাদের নিউজ পোর্টালটা স্বল্প সময়েই আমার অনেক ভালো লেগে গেছে। দেশসহ অনেক উদ্যোগী মানুষের অভিজ্ঞতার কথাগুলোও আপনাদের নিউজ পোর্টাল তুলে ধরেন। হয়তো এই বিশেষ কারণে আপনাদের নিউজ পোর্টালটা একটু বেশি ভালো লাগে।