চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে মহেশখালী-কক্সবাজার জেটিঘাট

নিউজ নিউজ

ভিশন ৭১

প্রকাশিত: ৭:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০২০

এস. এম. রুবেল, মহেশখালী প্রতিনিধিঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সরকারী ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার কঠোর নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছেনা মহেশখালী ও কক্সবাজার জেটিঘাটে। অথচ স্বাস্থ্য ঝুকি মানার অযুহাতে যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করছে।

জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে কক্সবাজার সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহেশখালীতে নিজ বাড়ীতে ফেরা শুরু করেছে স্থানীয়রা। কিন্তু কক্সবাজার ঘাটে বোট সংকট থাকায় যাত্রীদের ভীড় জমে যায়। ঐ সময় ঘাটে যাত্রীদের মুখে মাস্কের ব্যবহার ও সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত হয়নি। একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কি দিয়ে তিন শতাধিক যাত্রী বোটের জন্য অপেক্ষারত ছিল। এতে করে যাত্রীদের মাঝে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।

রুহুল আমিন নামের এক যাত্রী জানান, কক্সবাজার ৬নং ঘাটে ভীড়ের মধ্যে অনেক্ষণ অপেক্ষার পর বোট না পেয়ে সড়কপথে চকরিয়া হয়ে মহেশখালী যাচ্ছে। এতে করে তার মত অনেকের নির্ধারিত টাকার অতিরিক্ত টাকা ও সময় ব্যায় হচ্ছে। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি হতাশ হয়ে আরো জানান, মহেশখালীর মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে এলাকার বাহিরে বসবাস করে। বিশেষ করে এই ঘাটে এসেই তাদের পড়তে হয় ঘাট কর্তৃপক্ষ ও ড্রাইভারদের রোষানলে। অথচ এই ব্যাপারে জনপ্রতিনিধি কিংবা কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোন ভূমিকা নেই।

সওকত আলম নামের অপর যাত্রী জানান, ঘাটে ২ ঘন্টা অপেক্ষার পর স্পীডবোটে উঠতে পেরেছেন। ১১ জন যাত্রী নিয়ে ১০০ টাকা করে ভাড়া নেয়া হয়েছে। ঐসময় ঠেলাঠেলি করে বোটে উঠতে ৩/৪ জন যাত্রী পানিতে পড়ে যায়।

হোসাইন মাসুম নামের এক কলেজ শিক্ষক জানান, ঘাটের এই হয়রাণী নতুন কিছু নয়। যুগ যুগ ধরে এই ধারা চলে আসছে। যে কোন গুরুত্বপূর্ণ সময় ঈদ-পুঁজোকে সামনে রেখে ঘাট কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম বোট সংকট করে। এতে করে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করে যাত্রীদের হয়রাণী করার অপকৌশল অবলম্বন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পূর্বে প্রতিজন ৭৫ টাকা ভাড়ায় স্পীড বোটে ১১ জন যাত্রী ও ৩০ টাকা ভাড়ায় গাম বোটে ৪০ জন যাত্রী পরিবহন করা হতো। সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রতিজন ১০০ টাকা ভাড়ায় স্পীড বোটে ৮ জন ও ৬০ টাকা ভাড়ায় গাম বোটে ২০ জন করে যাত্রী পরিবহনের নির্দেশ দেন। কিন্তু ঘাটে কেউ সামাজিক দুরত্ব নিশ্চিত করছেননা। এই বিষয়ে প্রশাসনেরও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেই। এদিকে সামাজিক দুরত্বের নামে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়টি অযৌক্তিক বলে দাবী করছেন যাত্রীরা।

করোনার এই দুঃসময়ে পূর্বের ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করে ঘাটে যাত্রীদের হয়রাণী লাঘবের অনুরোধ জানান সাধারণ মানুষ। অপরদিকে ঘাট কর্তৃপক্ষের দায়সারা দায়িত্বপালণ পরিহার করে কৃত্রিম বোট সংকট বন্ধ করা জরুরী। এতে করে যাত্রীদের হয়রাণী হ্রাস ও করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি কমবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।