চন্দনাইশে দুই ভাই হত্যা মামলা, কক্সবাজারে নিয়মিত মামলা হয়েছে কিনা বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এসপি কক্সবাজারকে নির্দেশ

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৪, ২০২০

মানবাধিকার প্রেস বিজ্ঞপ্তি :

বাহরাইন ফেরত প্রবাসী ও পেয়ারা ব্যবসায়ী ভাতৃদ্বয়কে চন্দনাইশ পুলিশের সহায়তায় ৮ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবীতে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে টেকনাফে কথিত বন্দুক যুদ্ধের নামে হত্যা
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ও বাদীর আবেদন শুনানী শেষে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুন নাহার রুমির আদালত বাদীর অভিযোগকে এজাহার হিসেবে গণ্য করতে ওসি চন্দনাইশকে এবং তদন্তের জন্য র‍্যাব-৭’কে নির্দেশ দেন । মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ারা সার্কেল মোঃ মফিজ উদ্দিন গত ০৭ অক্টোবর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন ।

তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করেন,’অত্র মামলার বাদিনী বা বাদিনীর পরিবারের সদস্যরা মামলায় বর্ণিত ভিকটিম আজাদুল ইসলাম আজাদ’কে এবং বাদিনীর বড় ভাই আমানুল ইসলাম ফারুককে অপহরণ ও চাঁদা দাবী করার বিষয়ে চন্দনাইশ থানায় কোন প্রকার মামলা বা জিডি করেন নাই । অর্থাৎ অভিযোগে বর্ণিত ভিকটিম আজাদুল ইসলাম
আজাদ ও আমানুল ইসলাম ফারুককে অপহরণ ও পরবর্তীতে চাঁদা দাবীর ঘটনায় চন্দনাইশ থানায় কোন মামলা
হয় নাই ।’

এদিকে আজ আনোয়ারা থানা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চার্জ কোর্ট/ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট- এর আদালতে মামলাটি শুনানীর জন্য উত্থাপিত হলে বাদীর পক্ষে আসামীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত পরস্পর যোগসাজশে চাঁদার দাবিতে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগটি সরাসরি এজাহার হিসাবে গণ্য করার
জন্য ওসি চন্দনাইশকে এবং র‍্যাব-০৭ এর মাধ্যমে তদন্তের নির্দেশ দিতে মানবাধিকার আইনজীবীগণ একটি আবেদন শুনানী করেন ।

মানবাধিকার আইনজীবী জিয়া হাবীব আহ্সান বলেন, যেহেতু তদন্ত প্রতিবেদনে ইতিপূর্বে নিহত ভাতৃদ্বয়ের অপহরণ ও হত্যার বিষয়ে কোন মামলা দায়ের হয়নি, সেহেতু সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত অপরাধ আমলে নিতে আর কোন আইনী বাধা নিষেধ রইলো না ।

তদন্ত প্রতিবেদনে এ কথা পরিস্কার হয়েছে যে, ভিকটিম আজাদের বিরুদ্ধে কোন মামলা ছিল না এবং ফারুককে টেকনাফ থানায় যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় ঐ মামলায় তিনি আসামী ছিল না । চন্দনাইশ পুলিশের সহায়তায় গ্রেপ্তারকৃত ভাতৃদ্বয় পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে টেকনাফে কথিত বন্দুক যুদ্ধে কিভাবে অংশ নিলো তাদের হাতে ২টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১১ রাউন্ড কার্তুজ ও ২০ হাজার পিস ইয়াবা
কোথা থেকে এলো?

মানবাধিকার আইনজীবীরা আদালতে আরো প্রশ্ন তুলেন যে, পেটে বুকে ৩টি করে বুলেট বিদ্ধ হয় ? শরীরের অন্য কোথাও গুলিবিদ্ধ হয়নি । শরীরে ইলেক্টিক শক সহ নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া
যায় । আহত অবস্থায় ভিকটিমদের কক্সবাজার সদর থানায় ভর্তির কথা বলা হলেও সেখানে ভর্তির কোন প্রমাণ মিলেনি, তাদের লাশ সরাসরি মর্গে পাওয়া যায় । এজন্যে চাঁদা দাবীর মোবাইল কজ লিস্ট, লোকেশন, সিসিটিভি ফুটেজ সহ অন্যান্য ডিজিট্যাল ইভিড্যান্স ও চাক্ষুস সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহে র্যা বের
শক্তিশালী তদন্ত দরকার । আদালতের বিবেচনার স্বার্থে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউণ্ডেশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ডিজিট্যাল ইভিডেন্সসহ একটি সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন ও বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হয় । প্রতিবেদনে চন্দনাইশ থানার দালাল ও সোর্স সহ ৭ জন আর
টেকনাফ থানার তদানিন্তন ওসি সহ ৫ পুলিশ আসামী সহ সংশ্লিষ্ট আরো কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার সাক্ষ্য প্রমাণ দাখিল করা হয় । বিজ্ঞ আদালত প্রতিবেদন এবং দরখাস্ত শুনানী শেষে অভিযোগটি এজাহার হিসাবে গণ্যের নির্দেশ দেন ।

মামলার বাদী নিহত ভাতৃদ্বয়ের আপন বোন একটি বেসরকারী হাসপাতালে কর্মরত এইড নার্স মিস রিনাত সুলতানা শাহীন (৩০) পক্ষে অদ্য মামলা পরিচালনাকারী মানবাধিকার আইনজীবীগণ যথাক্রমে এডভোকেট এ এম জিয়া হাবীব আহসান, এডভোকেট সৈয়দ আবুল কাশেম, সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন, এডভোকেট এএইচএম জসীম উদ্দিন, এডভোকেট দেওয়ান ফিরোজ আহমদ, এডভোকেট মোঃ সাইফুদ্দিন খালেদ, এডভোকেট মোঃ হাসান আলী, এডভোকেট বদরুল হাসান প্রমুখ শুনানীতে উপস্থিত ছিলেন ।

উল্লেখ্য গত ০২/০৯/২০ ইং তারিখ মামলার বাদী রিনাত সুলতানা শাহীন মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন-এর আইনি সহায়তায় টেকনাফ
থানা পুলিশের ৫ জন ও চন্দনাইশ থানা পুলিশের সোর্স সহ ৭ জন সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের আসামী করে চাঁদার দাবীতে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন । আদালত মামলাটি ২০ শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট দাখিলের জন্য সহকারী পুলিশ সুপার মফিজ উদ্দিনকে
(আনোয়ারা সার্কেল) নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি গত ১২ ইং সেপ্টেম্বর শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন পূর্বক মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত সিসিটিভি ফুটেজ ইত্যাদি সংগ্রহ করেন । ইতিমধ্যে
মানবাধিকার সংগঠন বিএইচআরএফ এর একটি তথ্যানুসন্ধান টিম ঘটনাস্থলে প্যারালাল ইনভেস্টিগেশান করেন । প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের জবানবন্দী রেকর্ড করেন ।

মানবাধিকার আইনজীবীরা আদালতে ভিকটিমদ্বয়কে চন্দনাইশ থেকে চাঁদার দাবীতে অপহরণ ও ঠান্ডা মাথায় খুনের বিভিন্ন প্রমাণ তুলে ধরেন । বিজ্ঞ আদালত বাদী পক্ষে নিয়োজিত মানবাধিকার আইনজীবী গণের বক্তব্য শুনানী, এ.এসপি আনোয়ারা সার্কেল কর্তৃক দাখিলীয় রিপোর্ট পর্যালোচনা, বাদী পক্ষে দাখিলীয় সিসি টিভি ফুটেজের ছবি এবং সিডি কপি পর্যালোচনা শেষে আগামী ১২/১১/২০২০ ইং তারিখের মধ্যে এসপি কক্সবাজারকে দুই ভাই হত্যার ব্যাপারে কোন নিয়মিত মামলা হয়েছে কিনা এই বিষয়ে তদন্তপূর্বক
রিপোর্ট দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যজিষ্ট্রেট চট্টগ্রাম কামরুন নাহার রুমির আদালত । মামালার শুনানিকালে আদালতের ভেতরে এবং বাহিরে বিপুল সংখ্যক মানবাধিকার ও মিডিয়া কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন ।