চট্টলরত্ন প্রফেসর ডা. এ এস এম ফজলুল করিম স্যারের ৮৮ তম জন্মদিনে অজস্র ভালোবাসা।

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৮:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

     লায়ন ম. মাহমুদুর রহমান শাওন :
Advertisement

প্রফেসর ডা. এ এস এম ফজলুল করিম স্যার। চট্টগ্রামের শিশু সুস্বাস্থ্যের বাতিঘর খ্যাত চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং প্রতিষ্ঠাতা জেনারেল সেক্রেটারি। দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছেন এ প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির দায়িত্ব। নিজ কর্ম দক্ষতা, পেশার প্রতি মমত্ববোধ, রোগীর প্রতি স্নেহাশিস আচরণ-আন্তরিকতা, সৃজনশীল ও মননশীলতাপূর্ণ কাজ, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় সুনিপুণ নেতৃত্ব, সর্বোপরি আত্মবিশ্বাস নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠানকে সফলতার সর্বোচ্চ শিখড়ে উন্নীত করার অবিরাম পথচলা। এতসব গুণে তিনি আজ নিজেই একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছেন। এমন গুণী মানুষটির আজ জন্মদিন।

আজ ৮ জুন প্রফেসর ডা. এ এস এম ফজলুল করিম স্যারের ৮৮ তম জন্মদিন। জন্মদিনে স্যারের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা। কালনিরবধি কর্ম নিয়েই বেঁচে থাকুক কর্মপ্রিয় এই মানুষটি। জয়তু প্রফেসর ডা. এ এস এম ফজলুল করিম স্যার। জন্মদিনে স্যারের সুস্থতা কামনা করছি।

প্রফেসর ডা. এস এম ফজলুল করিম ১৯৩৩ সালে বৃহত্তর খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোতোয়াল্লী সরদার ও মাতার নাম রোকেয়া খাতুন।

প্রফেসর ডা. এ এস এম ফজলুল করিম ১৯৫৭ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৬ সালে লন্ডন থেকে এডিনবার্গ এফআরসিএস, ১৯৭৪ সালে এফসিপিএস ও ১৯৯৩ সালে এফআইসিএস (লন্ডন) ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জেনারেল সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ও জেনারেল সার্জারির বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। মা ও শিশু হাসপাতাল ছাড়াও তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন, বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার প্রেসিডেন্ট এবং কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, সোসাইটি অব সার্জনস বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অব সার্জনস বাংলাদেশ চেপ্টারের প্রেসিডেন্ট, রোটারি ক্লাব অব চিটাগং এর প্রেসিডেন্ট, সিনিয়র ডক্টরস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, সিন্ডিকেট মেম্বার ইউএসটিসি, সিন্ডিকেট মেম্বার বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি ও বিএনএসবি (পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল) এর ট্রেজারার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মা ও শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও সমাজ সেবায় অনন্য অবদানের জন্য তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক একুশে পদক, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক আজীবন সম্মাননা, লায়ন্স ক্লার ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক গোল্ড মেডেল এওয়ার্ডসহ বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠন কর্তৃক সম্মাননা প্রদান করা হয়। সরকারি চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণের পর থেকেই তিনি মা ও শিশু হাসপাতাল নিয়ে সার্বক্ষণিক ব্যাস্ত থাকতেন। তাঁর ধ্যান জ্ঞান সব কিছু ছিল মা ও শিশু হাসপাতালকে নিয়ে। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মা ও শিশু হাসপাতাল আজকের এই অবস্থানে এসে উপনীত হয়েছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবা মা ও শিশু হাসপাতাল আজ এক অনন্য উচ্চতায় অবস্থান করছে। মা ও শিশু হাসপাতালকে তিনি তাঁর সন্তানের মত মনে করেন। হাসপাতালে একদিন না এসে তিনি থাকতে পারতেন না। আজ তিনি বয়োবৃদ্ধ অবস্থায় সন্তানদের সঙ্গে সুদূর আমেরিকায় বসবাস করছেন। স্যার, যেখানে থাকুন, ভালো থাকুন। আপনার অগণিত ছাত্র/ছাত্রী, আপনার প্রিয় মা ও শিশু হাসপাতাল ও চট্টগ্রামবাসী আপনাকে আজীবন স্মরণ করবে।
পারিবারিক জীবনে তিনি তিন সন্তানের জনক। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে ডাক্তার এবং অপর ছেলে প্রকৌশলী। প্রত্যেকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর সহধর্মিণী শাহিদা করিম ছিলেন একজন প্রখ্যাত স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি ২০১৭ সালে পরলোকগমন করেন।

লেখক:
সদস্য সচিব, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল আজীবন সদস্য ফোরাম।