ঢাকা২১শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ

প্রতিবেদক
নিউজ ভিশন

এপ্রিল ১৯, ২০২২ ১:০০ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

চার হাজার কোটি টাকায় নির্মিতব্য

আদালত প্রতিবেদক :

ভূমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত এক মামলায় চট্টগ্রাম ওয়াসার চার হাজার কোটি টাকার সুয়ারেজ প্রকল্পের কাজে প্রদত্ত অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞা আদেশ রদ ও রহিত করেছেন আদালত এবং ওয়াসার বিরুদ্ধে বাদী পক্ষের আনীত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দরখাস্তটিও দোতরফা সূত্রে খারিজ (না-মঞ্জুর) করা হয় । চট্টগ্রামের বিজ্ঞ ৩য় যুগ্ম জেলা জজ নুশরাত জাহান এর আদালত গত ০৪/০৪/২০২২ ইং তারিখ একতরফা শুনানী অন্তে ১নং বিবাদী ওয়াসা ও ২নং বিবাদী সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসককে আপত্তি দাখিল অন্তে শুনানী পর্যন্ত অন্তর্বতীকালীন অস্থায়ী নিষেধজ্ঞার আদেশ দ্বারা বারিত করেন । ফলে উন্নয়ন প্রকল্পটি থামকে যায় ।

উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রা ম ওয়াসা, জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ভূমি প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে হালিশহরের ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ অবৈধ ঘোষণা চেয়ে ২০২০ সালে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক মামলাটি দায়ের করেছিলেন জনৈক সৈয়দ মুহাম্মদ এনামুল হক প্রকাশ ছৈয়দ মুহাম্মদ এনামুল হক মুনিরী, পিতা- মৃত সৈয়দ মোঃ নুরুদ্দিন প্রকাশ চেয়ারম্যান সাহেব, ঠিকানা- পীর বাড়ি, ৩৭ নং মুনির নগর ওয়ার্ড, বন্দর, চট্টগ্রাম । অন্তর্বতীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশটি সম্প্রতি সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হলে চট্টগ্রাম ওয়াসার পক্ষে ১০/০৪/২০২২ ইং তারিখ ওকালতনামা যোগে হাজির হয়ে নিষেধজ্ঞার বিরুদ্ধে ১১/০৪/২০২২ ইং তারিখ লিখিত আপত্তি দাখিল করলে দোতরফা সূত্রে শুনানী হয় । উভয়পক্ষকে শুনানী শেষে আদালত অদ্য আদেশটি প্রচার করেন ।

আদেশে বিজ্ঞ আদালত উল্লেখ করেন, ” মুলত প্রকল্পটি একটি বৃহৎ জনস্বার্থের জন্য গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প এবং বর্তমানে প্রকল্পের কাজ চলমান এবং বাদী ও অন্যান্য ভূমি মালিকদের যদি যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া না হয় তবে তা আদায়ের জন্য একটি চলমান প্রকল্পের কাজ ব্যহত রাখলে তা বাদী পক্ষেরও অন্যান্য ভূমি মালিকদের ক্ষতির তুলনায় বেশী ক্ষতির আশংকা তৈরি করবে । এছাড়াও যেহেতু মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে স্থানীয় জেলা প্রশাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের নিমিত্তে অধিগ্রহণকৃত ভূমি, ভূমি মালিকগণের বরাবরে পুনরায় ফিরিয়ে দেবার সুযোগ নাই মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ভূমি মালিকগণের ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির সুযোগও যেহেতু বন্ধ হয়ে যাবে না সেহেতু এক্ষেত্রে বাদীর এবং অন্যান্য ভূমি মালিকগণের অপূরণীয় ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না এবং সুবিধা অসুবিধাতার ভারসাম্য বিবেচনায় বাদীর আবেদন মঞ্জুর করা হলেই বরং বিবাদী পক্ষের অনুকূলে ক্ষতির পরিমাণ যা মূলত একটি জাতীয় স্বার্থকে ব্যাহত করবে প্রতীয়মান হওয়ায় সার্বিক বিবেচনায় বাদী তার প্রার্থীত প্রতিকার পেতে হকদার নহে । বিবেচ্য বিষয় সমূহ বাদীর প্রতিকুলে নিষ্পত্তি করা হইল । অতএব আদেশ হয় যে, অত্র অস্থায়ী নিষেধজ্ঞার দরখাস্তটি ১নং বিবাদীর বিরুদ্ধে দোতরফা সূত্রে ও অন্যান্য বিবাদীর বিরুদ্ধে এক তরফা সূত্রে নামঞ্জুর করা হইলো । অত্র আদেশ দ্বারা বিগত ০৪/০৪/২২ ইং তারিখের এক তরফা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ রদ রহিত করা হইল ।” মামলা শুনানীকালে ওয়াসার পক্ষে বিজ্ঞ আইন উপদেষ্টা মানবাধিকার আইনবিদ জিয়া হাবীব আহ্সান বলেন, ‘প্রকল্পটি জনস্বার্থে সরকারের একটি চার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প । এটা চট্টগ্রামের সুয়ারেজ সিস্টেমকে আধুনিকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ গ্র্যান্ট যা কোন ঋণ নয় । এটি চট্টগ্রামকে হেলদি সিটি রূপায়ন প্রকল্প বা বিশাল কর্মযজ্ঞ । চট্টগ্রাম ওয়াসার জন্য সরকারের সানুগ্রহ অনুমোদন গ্রান্ড প্রায় চার হাজার কোটি টাকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক মনিটরিং করা হচ্ছে । এটা ২০১৫ সালে গৃহীত জাতিসংঘের নির্ধারিত কর্মসুচী SDG (Sustainable Development Gold) ২০৩০ লক্ষমাত্রা ৬.২ অর্জন (Hygenic Sanitation System) এর আলোকে গৃহীত । জনগণের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অধিকার বাস্তবায়নের আলোকে প্রকল্পটি বাস্তবায়নাধীন । এটি মানবাধিকার এর সাথে সম্পৃক্ত । প্রকল্পটির জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বিদেশী টিকাদার Taeyong Engineering Com. Ltd, Korea কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে । চট্টগ্রাম মহানগরীর স্যানিটেশন মাষ্টার প্ল্যানের অন্তর্ভুক্ত প্রকল্প ওয়াসা, সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, গণপূর্ত সহ সকল উন্নয়ন সংস্থা মিলে ২০১৭ সালে যা প্রস্তুত হয় । ড্রেনেজ ব্যবস্থা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সিসিসিকে এবং স্যানিটেশন বাস্তবায়ন এর দায়িত্ব দেয়া হয় চট্টগ্রাম ওয়াসাকে । পুরো চট্টগ্রাম শহরকে ৬টি ক্যাচমেন্টে ভাগ করে পুরো শহরকে স্যানিটেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে । এর মধ্যে ‘চট্টগ্রাম মহানগরীর পয়নিস্কাশন স্থাপন প্রকল্প ১ম পর্যায়’ – শীর্ষক প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে । উক্ত অধিগ্রহণকৃত ১৬৩.৮৫৫ একর ভূমিতে মোট ৩টি পয়ঃশোধনাগার নির্মাণ ও ১টি Fecal Sludge treatment Plant নির্মাণ করা হবে । বর্তমান চলমান ফিলিং কার্যক্রম বর্ষার আগে শেষ করতে হবে । প্রকল্পের কাজ বিলম্ব হলে প্রকল্পের ব্যয়ভার বহুগুণে বেড়ে যাবে । বিলম্ব জনিত কারণে বিদেশী ঠিকাদার ক্লেইম করবে । কনস্ট্রাকশন ইউকুইপমেন্ট অলস পড়ে থাকবে (Crane Dressing Machine Pay loader, long boom, etc), পুরো STP Area তে বাউন্ডারী ওয়াল ও Fencing নির্মিত হয়েছে, নির্মাণ শুরু হয় – ০২/০২/২০২০, শেষ হয় ৩১/১২/২০২০, ব্যয় – ৩,১৫,০০,০০০/- (তিন কোটি পনের লক্ষ) টাকা, ৫০ ডিএলআর এর নজির অনুযায়ী অধিগ্রহণকৃত ভূমি পূর্বতন মালিকদের অনুকূলে অবমুক্ত করা যাবে না । মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বাহিরে ওয়াসা কোন কার্যক্রম করেনি । মামলার বাদীর নালিশী তফশীলে কোন সম্পত্তিও নেই । গত ৩১/১২/২০২০ ইং তারিখে এলএ ২২৫/৬২-৬৩ এর গেজেট প্রকাশিত হয় । যা মহামান্য উচ্চ আদালতের নির্দেশের আলোকে বিধায় অত্র আদালতে বাদী পক্ষের মামলাই চলে না । যা বৃহত্তর জনস্বার্থ বিরোধী এবং চট্টল উন্নয়নের পরিপন্থী । মহামান্য উচ্চ আদালতের কোন সিদ্ধান্তের ব্যতয় ঘটলে বাদীকে উচ্চ আদালতেই যেতে হবে । এখানে মামলা চলার কোন হেতু নেই ।” আদালত উভয় পক্ষের শুনানী ও যুক্তিতর্ক শুনে নথিপত্র পর্যালোচনায় বাদীর নিষেধাজ্ঞার দরখাস্ত খারিজ করেন ।

বিবাদী ওয়াসার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্সান, এডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন, এডভোকেট মোঃ সাইফুদ্দিন খালেদ, এডভোকেট মোঃ হাসান আলী, এডভোকেট মোহাম্মদ বদরুল হাসান, এডভোকেট মোহাম্মদ জিয়াউদ্দীন (আরমান) প্রমুখ । বাদী পক্ষে শুনানীতে অংশ নেন ব্যারিস্টার আফরোজা আকতার ও সঙ্গীয় আরো কয়েকজন ।

সম্পর্কিত পোস্ট