চকরিয়ার ছোটন কান্তি নাথের বিরুদ্ধে একশত কোটি টাকার মানহানীসহ ৩ মামলা

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার,চকরিয়া:

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মিথ্যা ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশ করে মানহানী করার অভিযোগ এনে দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক ছোটন কান্তি নাথসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানী মামলা দায়ের করা হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের চার বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধূরী বাদী হয়ে রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪র্থ আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য দুই আসামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক সংবাদ প্রকাশে সহযোগীতা, প্ররোচনা ও যোগসাজসের অভিযোগ আনা হয়। মামলার প্রধান আসামী ছোটন কান্তি নাথ চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রয়াত সুধীর চন্দ্র নাথের পুত্র।
আদালতে দায়ের করা মামলায় বাদি গিয়াস উদ্দিন চৌধূরী জানান, আমি কক্সবাজারের বৃহত্তম ও জনবহুল চকরিয়া উপজেলা ১৯বছর ধরে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দায়িত্বে আছি। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের কর্ণধার, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ও অগ্রণী ভুমিকা পালনকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে “নৌকা” প্রতীক নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেন।
এছাড়া উপজেলার ফাঁশিয়াখালী ইউনিয়নে চার বারের বিপুল ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হই। বিগত ১৯৯৬ সাল হতে একটানা ২০১৯ সাল পর্যন্ত উপজেলার স্বনামধণ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিগরপানখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছি।
মামলার বাদী আরও দাবী করেন, গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখ দৈনিক কালের কন্ঠ পত্রিকার চকরিয়া প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ মামলার অপর দুই আসামীর প্ররোচনায় ও যোগসাজসে ‘বনের হাতি কেন লোকালয়ে’ শিরোনামে দৈনিক কালের কন্ঠে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে একটি সংবাদ প্রকাশ করে মানহানী করে।
প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয় গিয়াস উদ্দিন নামের সরকার দলের প্রভাবশালী এক নেতা বন জঙ্গলের সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখলে নিয়ে সেখানে ইটভাটা স্থাপনসহ শতাধিক পাহাড় কেটে সাবাড় করে ফেলেছে। আমার সামাজিক ও রাজনৈতিক শত্রুদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে ছোটন কান্তি নাথ মিথ্যা ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও কুরুচিপূর্ণ এ ধরণের মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্নের পাশাপাশি বনভূমি গ্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ছোটন কান্তি নাথ ও তার সহযোগীদের এ ধরনের কর্মকান্ড শাস্তিযোগ্য ফৌজদারী অপরাধের শামিল। বাদী গিয়াস উদ্দিন চৌধূরী আদালতে দায়ের করা মামলায় দাবী করেন, প্রতিপক্ষের প্ররোচনায় ছোটন কান্তি নাথ এ ধরণের মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে আমার একশত কোটি টাকার মানহানী করেছেন। একারনেই ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় আদালতে এই মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদী আরও দাবী করেন, স্থাণীয়ভাবে বিরোধ নিস্পত্তি ও রিপোর্টের ব্যাপারে কালের কন্ঠের চকরিয়া প্রতিনিধি প্রতিবাদ ছাপাবে বলে কালক্ষেপন করায় এ মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়।
অপরদিকে বসতবাড়িতে ভাংচুর, লুটপাট, তান্ডব, চাঁদাদাবী ও বসতভীটা বিলীন করে দিয়ে জবর দখলের অভিযোগে অভিযুক্ত প্রয়াত সুধীন চন্দ্র নাথের ছেলে ছোটন কান্তি নাথ, তার ভাই সুজন কান্তি, তাদের সহযোগি একই এলাকার ফনিদ্র দাশের পুত্র মিতু দাশ বাবুর্চি ও মৃত মদন নাথের পুত্র মন্টু নাথকে আসামী করে ১৫ ডিসেম্বর’১৯ইং চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে (মামলা নং সিআর ১৩৮১/১৯) দায়ের করেন ভূক্তভোগী একই এলাকার মৃত রাধাকৃষ্ণ নাথের পুত্র অজিত দেবনাথ। তিনি মামলার আর্জিতে ২লাখ টাকা দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় বসতভীটায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে ভাংচুর, নগদ ১লাখ ২০ হাজার টাকাসহ ২ভরি স্বর্ণালংকার লুট, ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং বসতভীটা বিলীন করে আরো ৩লাখ টাকার ক্ষতি এবং বসতভীটা থেকে স্বমূলে উচ্ছেদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতিপূর্বেও চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন আপন কনস্ট্রাকশনের ম্যানেজার অনূপ রুদ্র বাদী হয়ে চকরিয়া আদালতে ১লাখ টাকার চাঁদাবাজীর মামলা করেন।##