ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর ডেঞ্জার জোনে রয়েছে ভোলা;৭নম্বর বিপদ সংকেত!

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৯

মো. সাইফুল ইসলাম(ভোলা প্রতিনিধি):-

ঘূর্ণিঝড় ফণীর রেশ কাটতে না কাটতেই আবার বুলবুল এসে হাজির।উপকূলীয় ও সমুদ্র নিকটবর্তী দক্ষিণাঞ্চলের জেলা হওয়ায় এটিও রয়েছে বিপদসীমার মধ্যে।বর্তমানে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ভোলা জেলা কে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।পটুয়াখালী, বরগুনা, খুলনা সহ ভোলাও বিপদ সীমার মধ্যে রয়েছে।

এদিকে আজকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে ভোলায় বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছিল।গতকাল রাত থেকেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং ভারী বর্ষন হয়েছে।তবে সারাদিনে একবারেও সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।সারাদিন বৃষ্টির সাথে হালকা ও মাঝারি ধরনের বায়ু প্রবাহ ছিল।তবে দফায় দফায় আবহাওয়ার রঙ বদলাচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় মানুষর্কে সতর্ক করতে চলছে প্রচারণা।ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় ভোলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ঝড় মোকাবিলায় জেলার ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেওয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছ ৯২টি মেডিক্যাল টিম। এছাড়াও জেলা সদরসহ সাত উপজেলায় ৮টি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মানুষর্কে সতর্ক করতে উপকূলে চলছে প্রচারণা।

শুক্রবার (০৮ নভেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাসুদ আলম ছিদ্দিক জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৩ হাজার স্বেচ্চাসেবী। খুলে দেওয়া হয়েছে জেলার সব আশ্রয়কেন্দ্র। এছাড়াও মজুদ রাখা হয়েছে ত্রাণ।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) ভোলার উপ-পরিচালক সাহাবুদ্দিন জানান, ঝড়ের বিষয়ে মানুষকে জানাতে সিপিপি ও রেডক্রিসেন্ট কর্মীরা প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। সিপিপির ১০ হাজার ২শ’ স্বেচ্চাসেবী প্রস্তুত রয়েছে।

তবে এর পাশাপাশি মানুষকে সতর্ক করতে কাজ করছে আরো কয়েকটি এনজিও সংস্থা।তবে আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ বঙ্গোপসাগর থেকে উত্তর-পশ্চিম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। তাদের মতে, ঘূর্ণিঝড়টি কাল শনিবার মধ্যরাতের দিকে বাংলাদেশের খুলনা-বরিশাল অঞ্চলের ওপর আঘাত হানতে পারে। তীব্র সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে বুলবুল।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সাগর তীরের আট দেশের আবহাওয়া দপ্তরের নির্ধারিত তালিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে এই অঞ্চলের ঝড়ের নাম দেওয়া হয়। বুলবুল নামটি নেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে।

ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় বুলবুল শুক্রবার মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত মোটামুটি ঘণ্টায় ১২ কিলোমিটার গতিতে এগিয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ ঝড় শক্তি সঞ্চয় করতে থাকবে।

এরপর সামান্য বাঁক নিয়ে উত্তরমুখী হয়ে এগোবে শনিবার সকাল পর্যন্ত। তারপর আরো বাঁক নিয়ে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে রোববার প্রথম প্রহরে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপ আর বাংলাদেশের খেপুপাড়ার মাঝ দিয়ে সুন্দরবন অঞ্চল হয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

তখন ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে বাতাসের একটানা গতিবেগ হতে পারে ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টারের বুলেটিনেও মোটামুটি একই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে ।’

তবে ঘূর্ণিঝড়ের এমন সংবাদ শুনে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।