গংগাচড়ায় বিল চাওয়ায় চায়ের দোকানদার বাবাকে মারধর ; মেয়েকে ধর্ষনের চেষ্টা।

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৯, ২০২০

মোঃ আব্দুল মুনঈম, স্টাফ রিপোর্টার।

Advertisement

রংপুরের গংগাচড়া থানার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুরিয়া শরীফ পাল্লার হাটের চায়ের দোকানদার মোঃ সিরাজ মিয়া (৪৫)কে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে ও বাধা দিতে আসাই মেয়েকে ধর্ষনের চেষ্টা করে দুষ্কৃতকারীরা।

প্রত‌্যক্ষদর্শীরা জানান- সিরাজ মিয়া দীর্ঘদিন যাবৎ চায়ের দোকান সাথে পিয়াজি, পিঠা অনান্য মৌসুমি খাবার বিক্রি করে আসতেছে । গত ৭ জুলাই ২০ ইং রাত আনুমানিক ৯ ঘটিকায় এলাকার পরিচিত ৫-৬ জন উগ্রবাদী সন্ত্রাসী সিরাজের চায়ের দোকানে এসে পিঠা পিয়াজি খেয়ে প্রায় ১৫০ টাকা বিল করে দোকান ত্যাগ করে চলে যেতে থাকে।

এমতাবস্থায় দোকানদার তাদের কাছ থেকে বিল চাইলে ছেলেগুলো দোকানদার মোঃ সিরাজ মিয়ার উপর চড়াও হয়। প্রথমে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে পরে তাকে লাটি দিয়ে মারধর করতে থাকে । এসময় সিরাজ মিয়ার স্ত্রী মোর্শেদা বেগম (৩৬) ও মেয়ে আপন খাতুন (১৪) এবং তানিয়া আক্তার (১৬) ঘটনাস্থলে এসে বাবাকে দুবৃত্তদের হাত থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, দুস্কৃতিকারীরা মোতাহার আলীর নির্দেশে তাদের উপরও চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়িভাবে তাদেরকে যখম করে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে । দোকানদার সিরাজ মিয়া ঘটনার আকন্মিকতায় মারধরের শিকার হয়ে চিৎকার করলে তার স্ত্রী ও ২ কিশোরী কন‌্যা তাদের বাবাকে বাাঁচাতে এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা ২ কিশোরী কন‌্যার শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করে ব‌্যর্থ হয়ে মারধরে করে রক্তাক্ত জখম করে। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে গংগাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় পরে মেয়ে আপন আক্তার (১৪) এর অবস্থা বেগতিক হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

স্থানীয় দোকানদারা জানান, দুষ্কৃতিকারীরা আনুমানিক ২০ হাজার টাকার মালামাল নষ্ট করে এবং নগদ ক্যাশ হতে ৭৩,২০০ টাকা নিয়ে তাদের যখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, দুষ্কৃতিকারী মিথুন ও রানা মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা ও অপকর্ম করে আসছিলো এবং তারা সব সময় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করত।

স্থানীয় মেম্বার পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এই ঘটনার যাতে সুষ্ঠু বিচার হয় তার জন্য এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

গংগাচড়া মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ সুশান্ত কমার সরকার ও পুলিশ পরিদর্শক ফরিদ উদ্দিন জানান, সংঘঠিত ঘটনার জন্য ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে ।

এলাকাবাসী, স্থানীয় দোকানদারগণ ও সিরাজ মিয়া উক্ত ঘটনার সুষ্ট বিচার দাবি করেছে এবং দুষ্কৃতিকারীরা হামলায় রক্তাক্ত ও ধর্ষনের চেষ্টা করায় তারা যেন কোন ছাড় না পায়।