খড়-কুটোর মতো ভেসে যাবে ফেসবুক রাজনীতি

নিউজ নিউজ

এডিটর

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ১, ২০২০

————–
রাজনীতি হলো রাজার নীতি। রাজা- প্রজার ভিতর থাকে শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভালোবাসা। বর্তমান বিশ্বে রাজার আমল ভাটা পরলেও জোয়ার এসেছে রাজনীতির আমলে। রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ হয়ে উঠেছে গণমানুষের আশা-ভরসার আশ্রয়স্থল। তাদের প্রত্যেকটি কাজ-কর্ম গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করে মানুষজন। তাদের প্রত্যেকটি কথাই প্রতিধ্বনিত হয় দেশের টকশো থেকে চা স্টল, বাস, ট্রেন সহ গণপরিবহনে যাত্রীদের আলাপ-আলোচনায় ।

Advertisement

গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করার কারনে তাদের হওয়া উচিত যোগ্য, সৎ, ও দেশপ্রেমিক। কিন্তু আফসোসের সহিত বলতে হয় সোহরাওয়ার্দী, ফজলুল হক, ভাসানী, শেষ মুজিবের দেশে আজ আমরা আর তাদের মত ত্যাগী, দেশপ্রেমী রাজনৈতিক ব্যক্তি পাচ্ছি না। তাদের আদর্শগুলো এখন বলি হচ্ছে রাজনৈতিকদের দ্বারাই।

এমন সস্তায় নেমে এসেছে রাজনৈতিক পরিচয় ভাবতেও অবাক লাগে। দুই-চারটা ফেসবুক পোস্ট যেন তার কাজ-কর্মের কেন্দ্রবিন্দু। গণমানুষের দোরগোড়ায় দাড়াবার সময় কই? অথচ আমরা ইতিহাসে ফিরলে দেখি সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিগন সারাজীবন গণমানুষের পাশে থেকেছেন। তাই শতাব্দীর পর শতাব্দী মানুষ আজও শ্রদ্ধাভরে স্বরণ করে তাদের। আর যারা এখন ভাবছে ফেসবুক পোস্টই সব, সময়ের আর্বতনে বহু পোস্টের ভিড়েই তাদের সলিল সমাধি হবে। ভুলে যাবে জাতি অচিরেই তাদের পোস্ট!

আরেকটা বিষয় হচ্ছে, সস্তার ফেসবুক পোস্ট কেমন
যেন তাদের সস্তা বানিয়ে দিচ্ছে। শত হলেও তারাই জাতির কর্ণধার। তাদের নিয়ে ফেসবুকে আস্কারা করা আইনত অপরাধ। তাই রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের ফেসবুকের সচেতন ও যথাযথ ব্যবহার সময়ের দাবী।

জীবনের মহত্তর লক্ষ্যের দিকে নজর দিয়ে সরেজমিনে কাজ করে সমাজকে, রাষ্ট্রকে, আরো ভালোর পথে চালিত করবে এটাই কামনা। রোবটেরও মত বুদ্ধি ও গাছের মত জীবন অবশ্যই তাদের থেকে কাম্য নয় ৷ আর ত্যগী কর্মীরাই বেঁচে রবেন আজীবন, খর -কুটার মত ভেসে যাবে ফেসবুক রাজনৈতি।

আবু জাফর
শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়