খুলনায় থানায় দলবেঁধে তরুণীকে গণধর্ষণ: ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ

নিউজ নিউজ

ভিশন

প্রকাশিত: ৪:০৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

খুলনা রেলওয়ে (জিআরপি) থানায় তরুণীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছেন আদালত। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সোমবার খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলা গ্রহণের আদেশ দেন। এর আগে রোববার সকালে ভুক্তভোগী তরুণী এই মামলার আবেদন করেন। এদিন মামলা গ্রহণ না করে অন্য ট্রাইব্যুনালে পাঠান আদালত।

এর আগে ভুক্তভোগী ওই নারী আদালতের নির্দেশে ১০ আগস্ট রাতে জিআরপি থানায় পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করে একটি মামলা করেন। ওই মামলার নম্বর ০৩।

মামলায় আসামি করা হয়েছে সাবেক ওসি ওসমান গনি পাঠান, এসআই নাজমুল হক ও অজ্ঞাত আরও তিন পুলিশ সদস্যকে।

এর আগে থানায় ওই তরুণীকে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগে ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়। ক্লোজড হওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি পাঠান ও এসআই নাজমুল হক।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২ আগস্ট ওই তরুণী যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসেন। ট্রেন থেকে নামার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা তাকে সন্দেহজনকভাবে আটক করেন।

পরে গভীর রাতে জিআরপি থানার ওসি ওসমান গনি পাঠানসহ ৫ পুলিশ সদস্য পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন।

পর দিন শনিবার তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে চালান করা হয়। আদালতে বিচারকের সামনে নেয়ার পর ওই তরুণী জিআরপি থানায় তাকে গণধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এর পর বিচারক তার ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিষয়টি আমলে নিয়ে গত সোমবার পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এর পর সোমবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিকটিম তরুণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়।

ঘটনার পর বুধবার ওসমান ও নাজমুলকে খুলনা রেলওয়ে থানা থেকে পাকশী রেলওয়ে পুলিশলাইনসে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয় তিন সদস্যের একটি কমিটি। ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।

 

সূত্র:যুগান্তর