সোমবার ২৯শে নভেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
আমাদের সম্পর্কে
যোগাযোগ

ক্লিনিকে স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খুনের মিথ্যা মামলা!

সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১
প্রিন্ট
নিউজ ভিশন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

ক্লিনিকে স্বেচ্ছায় গর্ভপাত করিয়ে নিরপরাধ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৩১৩ ধারা অনুযায়ী খুনের মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে।মামলাটির বাদী মাইনুদ্দীন জুয়েল দুর্গাপুরের খালিশাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ওয়ার্ড যুবলীগ সেক্রেটারী। বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দুর্গাপুর চৌকি, নেত্রকোনায় গত ১২ আগস্ট ২০২১ ইং তারিখে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজহারে বাদীর স্ত্রী নাজমা বেগমকে জখমী দাবি করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগ আনলেও জখমীর মেডিকেল রিপোর্ট বলছে ভিন্নকথা। দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রদত্ত মেডিকেল রিপোর্টে জখমী নাজমা বেগমের হাটুতে ২*২ সেঃমিঃ নীল ফোলা জখমের উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাজমা বেগম ঘটনার আগেরদিন সন্ধ্যায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে খুটি সাথে হাটুতে সজোরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন । এব্যাপারে তথ্যপ্রমাণ সহকারে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। দুর্গাপুর থানা সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুরে অবস্থিত সততা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ডাক্তার মেহেদী হাসান স্বাক্ষরিত একটি গর্ভপাতের রিপোর্ট আদালতে দাখিল করে পাঁচজনকে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে। এব্যাপারে বিস্তারিত জানতে উল্লেখিত ডাক্তার মেহেদী হাসানের শরণাপন্ন হলে তিনি জানান, “আদালতে যে প্রেসস্ক্রিপশনটি দাখিল করা হয়েছে এটি আমার লেখা নয়। এখানে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তবে এবরশন রিপোর্টটি আমার লেখা। নাজমা বেগম পুরাতন একটা ইনকম্পলিট এবরশন রিপোর্ট আমার নিকট উত্থাপন করলে আমি সেটা গত ২৯ জুলাই লিখে দিই। ” তিনি আরো জানান, “আমাদের প্রদত্ত এই ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে যদি মামলা করা হয়ে থাকে, তবে তারা মিথ্যা প্রমাণিত হবে। ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট আদালতে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবেনা।

এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার আব্দুল লতিফ সাহেব বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা। রাসেল, রাফি, সোহাগ, মিলন, সৌরভ এই পাঁচজনকে বিবাদী করে যে মিথ্যামামলা করা হয়েছে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিন্দা জানাচ্ছি। আমি নিজে একজন প্রত্যক্ষদর্শী। স্থানীয় ৬৪ প্রত্যক্ষদর্শী আমার সামনে স্বাক্ষর প্রদান করেছে। আমি সেদিন একপ্রতিবেশীর মৃত্যু সংবাদ শুনে স্থানীয় লোকজন সহকারে দাফনকাজ সম্পাদনের জন্য রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। পথিমধ্যে দেখতে পাই রাসেলদের ওপর হামলা করার চেস্টা করা হচ্ছে। মাদকের তথ্য থানায় দেওয়ার অভিযোগে। আমি স্থানীয় লোকজন সহকারে রাসেল, রাফি ও তাঁদের মাকে ওদের বাড়িতে নিরাপত্তা দিয়ে পৌঁছে দেই। ওইদিন প্রতিবেশির দাফনকার্যে রাসেল ও রাফি আমার সাথে বিকাল ৩পর্যন্ত ছিলো। রাসেলের ক্ষতি করতে না পেরে ওর মামার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। সোহাগ, মিলন, সৌরভ নিরুপায় হয়ে দরজা বন্ধ করে ঘরে অবস্থান করে। আমি আবারো বলছি, এরা সম্পুর্ন নিরপরাধ। এই মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার হোক এবং এই মিথ্যামামলার মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বাদীপক্ষ অত্যন্ত কলহবাজ ও মাদকের সাথে সম্পৃক্ত।
মাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় যাদের আতে লাগছে তারা চক্রান্ত করে আমার ওয়ার্ডের এই সোনার ছেলেদের হয়রানির উদ্দেশ্যে এই ষড়যন্ত্রমুলক মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও তরুণ লেখক কাজী আশফিক রাসেল করোনার সুবাদে ছুটি কাটাতে নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুরের নিজ বাড়িতে বেড়াতে আসলে মাদকদ্রব্যের আশংকাজনক সহজলভ্যতা ও যুবসমাজের অবক্ষয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে নিজ এলাকাকে মাদক ও জুয়ার ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় মাদকচক্রের কিছু গোপন তথ্য নিকটস্থ থানায় প্রদান করেন। মাদকাসক্ত বখাটেরা যেকোনো উপায়ে তাঁর পরিচয় সনাক্ত করে কখনো মিথ্যামামলা দিয়ে ফাসানোর হুমকি আবার কখনো প্রাননাশের হুমকিওসহ গত কয়েকমাস ধরে বিভিন্নভাবে হুমকিধামকি দিয়ে আসছিলো। গত ২৬ জুলাই মামার বাড়িতে ঈদের দাওয়াত খেতে যেতে চাইলে রাসেল, তার মা রোকেয়া বেগম ও সহোদর রাফিকে চিহ্নিত এক মহিলাসসন্ত্রাসী পথরোধ করে অপমান অপদস্থ করার চেস্টা করে। মহিলা সন্ত্রাসীটির স্বামী মাদকসন্ত্রাসী জুয়েল দাড়ালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করতে অগ্রসর হতে চাইলে ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও লোকজনসহ তার মামাতো ভাইয়েরা (সোহাগ, মিলন, সৌরভ) সন্ত্রাসীদেরকে বাধা প্রদান করে ভুক্তভোগীদেরকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে রাসেলের মা রোকেয়া বেগম সন্তানদের নিরাপত্তা চেয়ে দুর্গাপুর থানায় একটি জিডি করেন (জিডি নম্বরঃ ১১৯৯)। জিডির তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ক্যারিয়ারকে ধ্বংস করার কুমানসে মাদকাসক্ত বখাটেরা সংঘবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র করে স্থানীয় আদালতে সম্পূর্ণ মিথ্যাও বানোয়াট তদন্ত উপস্থাপন করে নামে মিথ্যা মামলা করে।

এব্যাপারে আরো জানতে মামলার বাদী জুয়েলের বাড়িতে উপস্থিত হলে নাজমা বেগম জানান, থানায় কিভাবে ওরা মাদকের বিরুদ্ধে গোপনে মামলা করে এবার ওদের দেখে নেবো। বড় বড় রাজনৈতিক নেতা, থানা-পুলিশ আমরা পকেটে নিয়া ঘুরি।

জুয়েলের একাধিক প্রতিবেশী বলেন, নেশা করে জুয়েল তাঁর বৃদ্ধ মাকেও কিছুদিন পরপর পেটায়। মানুষকে হয়রানি করা ওদের নেশা হয়ে গেছে। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, আর কখনো যাতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার সাহস না পায়, এই বখাটেদের সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

এব্যাপারে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শামছুল হক বলেন, মামলাটি এখনো তদন্তাধীন। খুব শ্রীঘ্রই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য এই মিথ্যামামলায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ তরুণ লেখক ফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদ, তাদের ১৮ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন ও পরিবেশবাদী সংগঠনসহ বেশকিছু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহার করা না হলে সম্মেলিতভাবে সারাদেশ কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি প্রদান করেছেন তারা।

সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
logo

নিউজ ভিশন বাংলাদেশের একটি পাঠক প্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র। আমরা নিরপেক্ষ, পেশাদারিত্ব তথ্যনির্ভর, নৈতিক সাংবাদিকতায় বিশ্বাসী।

সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম

ঢাকা অফিস: ইকুরিয়া বাজার,হাসনাবাদ,দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ,ঢাকা-১৩১০।

চট্টগ্রাম অফিস: একে টাওয়ার,শাহ আমানত সংযোগ সেতু রোড,বাকলিয়া,চট্টগ্রাম |

সিলেট অফিস: বরকতিয়া মার্কেট,আম্বরখানা,সিলেট | রংপুর অফিস : সাকিন ভিলা, শাপলা চত্ত্বর, রংপুর |

+8801789372328, +8801829934487 newsvision71@gmail.com, https://newsvisionbd.com
Copyright@ 2021 নিউজ ভিশন |
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।